আলোহা বাংলাদেশের আয়োজনে আজ রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হলো ১৬তম জাতীয় পর্যায়ের অ্যাবাকাস ও মেন্টাল অ্যারিথমেটিক প্রতিযোগিতা ২০২৪।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সারাদেশের ৬০০টির বেশি স্কুল থেকে দুই হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে আলোহা বাংলাদেশ।
শিশুরা কত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সমাধানে পৌঁছাতে পারে এটা পরীক্ষার উদ্দেশ্যেই প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পাঁচ মিনিটের মধ্যে ৭০টি জটিল গাণিতিক সমাধান করতে বলা হয় এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই উল্লেখিত সময়ের মধ্যে নির্ভুলভাবে গাণিতিক সমাধান করে।
আয়োজনের প্রথম পর্ব জাতীয় সংঙ্গীতের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন আলোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিকের ফাউন্ডার লোহ মুন সাঙ।
এরপর শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে শুরু হয় পরীক্ষা। মোট তিনটি ব্যাচে প্রায় দুই ৭০০ শিক্ষার্থী এ ম্যাথ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
এদিন বিকেলে দ্বিতীয় পর্বে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোহার শিক্ষার্থীদের সরাসরি ডেমোনেষ্ট্রেশনের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিকের ফাউন্ডার লোহ মুন সাঙ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোহা ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টর কিরণ মাতওয়ানি এবং গোলিয়াঙ ঝু, ফাউন্ডার, জিএল আার্ট, চায়না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলোহা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সাইফুল করিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হায়দার চৌধুরী এবং ডিরেক্টর মো. শামসুদ্দিন টিপু।
স্বাগত বক্তব্যে আলোহা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আলোহা বাংলাদেশ গত ১৮ বছর ধরে মস্তিষ্কের মানোন্নয়নে কাজ করছে। আমরা লক্ষ্য করছি, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক প্রতিয়োগিতায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল করছে। শুধু তাই নয় আলোহার শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে নানাধরণের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে এবং বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করছে।’
অনুষ্ঠানে লোহ মুন সাঙ বলেন, ‘আমরা চাই পুরো পৃথিবী জুড়ে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তার সৃষ্টিশীল বিকাশ ঘটুক। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতি বছর বাংলাদেশের এত ছেলে-মেয়েদের অংশগ্রহণ আমাকে বিষ্মিত করে, অনুপ্রাণিত করে। আমরা চাই এই মেধাবী মুখগুলো ভবিষ্যতে দেশের উন্নতিতে অংশগ্রহণ করুক।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এরপর আলোহা কোয়ালিফাইড শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
শেষে ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে উন্নিত শিক্ষার্থীরা এ বছরের অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। এ বছর প্রতিযোগিতাটির আন্তর্জাতিক আসর বসবে স্পেনের মাদ্রিদে।
অনুষ্ঠানের হেলথ কেয়ার পার্টনার উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল এবং ইভেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক পার্টনার হিসেবে থাকছে হ্যাশট্যাগ কমিউনিকেশন লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার একই ভ্যানুতে আলোহা বাংলাদেশের ২য় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে প্রায় ৫০০ আলোহা গ্রাজুয়েট সম্মাননা গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের পথচলায় বর্তমানে আলোহা বাংলাদেশের ৬৫টি শাখায় প্রায় ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই কোর্সে যুক্ত আছে। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে এদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে আলোহা বাংলাদেশ। আলোহা আইএসও সনদপ্রাপ্ত লানিং সিস্টেম যা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪২টি দেশের ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করে।
বিজ্ঞপ্তি/অমিয়/