চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার তিনটি উন্নয়ন কাজের ই-জিপি টেন্ডারে একই তিনটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নিবন্ধিত ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
টেন্ডারের ফলাফল প্রকাশের পর সোমবার (৬ জুলাই) পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে তিনটি টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবিতে পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ই-টেন্ডার নোটিশ নং ০৪/২০২৫-২৬ (এলটিএম) এর আওতায় তিনটি উন্নয়ন কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার আইডি ১৩০০০৩২, ১৩০০০৪৯ ও ১৩০০০৫৬ এর দরপত্র উন্মুক্ত করার পর সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী সমান সর্বনিম্ন দরদাতাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়।
টেন্ডার আইডি ১৩০০০৪৯-এর আওতায় প্রায় ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৩ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহচাঁন্দ আউলিয়া (রহ.) মাজার সড়কে ইউনি ব্লক স্থাপনের কাজের জন্য ৫৮টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। এ কাজের কার্যাদেশ পায় জাহিন এন্টারপ্রাইজ।
টেন্ডার আইডি ১৩০০০৩২ এর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৯১ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বাড়ি মোড় থেকে বাইপাস এলাকার আমিরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সড়কে ইউনি ব্লক স্থাপনের কাজের জন্য ৫৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এ কাজের কার্যাদেশ পায় সিমিন কনস্ট্রাকশন।
এছাড়া টেন্ডার আইডি ১৩০০০৫৬ এর আওতায় প্রায় ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৫ টাকা ব্যয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বনবিভাগের বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কার, পটিয়া ক্যারাটি ক্লাবে বৈদ্যুতিক সামগ্রী সরবরাহ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের একতা আবাসিক এলাকায় রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুস সোবহান বাড়ির সড়কে আরসিসি নির্মাণকাজের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এ কাজের কার্যাদেশ পায় তানজিনা এন্টারপ্রাইজ।
টেন্ডারের ফলাফল প্রকাশের পর অংশগ্রহণকারী ঠিকাদাররা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং পরে তিনটি টেন্ডার বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের দাবিতে প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন দেন।
রাকিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাকিব হাসান বলেন, ‘ই-জিপি পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বারবার কার্যাদেশ পাওয়ায় অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় পৌরসভায় উপস্থিত থাকা সদ্য বিদায়ী সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘অফিস সময়ের পর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। তখন টেন্ডারের লটারির কার্যক্রম চলছিল। আমার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি মনে করেন আমি কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছি, সেটি সঠিক নয়।’
জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে টেন্ডারে অংশ নিই। কিন্তু বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে তিনটি টেন্ডার পুনরায় আহ্বান করা উচিত।’
পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘জাতীয় ই-জিপি সিস্টেম ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুসরণ করেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা সুযোগ নেই। কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।’
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলভী/রিফাত/