লক্ষ্মীপুরে চোর অপবাদ দিয়ে আক্তার হোসেন বাবু নামে এক স্কুলশিক্ষককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিক্ষকের ভাই মাসুদুর রহমান সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় পেঁচা সুমনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়, বাকিরা অজ্ঞাত।
গত শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আইয়ুব আলী পোলের গোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওই শিক্ষককে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। আক্তার হোসেন বাবু লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের লাহারকান্দি এলাকার মৃত লকিয়ত উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর ক্যামব্রিজ স্কলারর্স স্কুলের শিক্ষক।
আক্তার হোসেন বাবু খবরের কাগজকে জানান, ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার রাতে শহরের আইয়ুব আলী পোলের গোড়া এলাকায় ছোটভাই মাসুদুর রহমানের বাসায় বেড়াতে যান। ডায়াবেটিস থাকায় রাতে হাঁটতে বের হন। এ সময় স্থানীয় পেঁচা সুমন, সাইমন হোসেন, অটোরিকশাচালক আলাউদ্দিন আলো, মমিন উল্লাহসহ ১০-১২ জন তরুণ তাকে চোর অপবাদ দিয়ে বিদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। পরে হাত-পা বেঁধে তার ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্বজনরা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক আক্তার হোসেন বাবুকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেঁচা সুমন মারধর করছেন। এ সময় পাশে কয়েকজন তরুণ দাঁড়িয়ে আছেন।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এ কে আজাদ বলেন, ‘আক্তার হোসেন বাবুকে প্রচুর মারধর করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে।’
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি সাইফুদ্দিন আনোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন পেঁচা সুমন, সাইমন হোসেন, আলাউদ্দিন, মমিন উল্লাহ ও সুমন।