চাঁদপুরে প্রচণ্ড গরমে জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। গত কয়েকদিনের টানা তাপদাহে চাঁদপুরে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যার ফলে অসুস্থ রোগীরা এখন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক এবং নার্সদের।
তবে সব বয়সের মানুষের কষ্ট হলেও এই গরমে সবচেয়ে বেশি কাবু করেছে শিশুদের। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু। তাই গরমে সুস্থ থাকতে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যাওয়া, তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা, সুতি কাপড় পরা এবং বেশি বেশি পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন রোগীর অনেক বেশি। টিকিট কাউন্টারের সামনে নারী-পুরুষের ভিড়। দূর দূরন্ত থেকে আসা রোগীদের মধ্যে গরমের কারণে অসুস্থ রোগী বেশি। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডের ৪২ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ১৩১ জন। এর মধ্যে আজ সকালে নতুন করে আরো ১০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
টিকিট কাউন্টারে নাছিমা বেগম নামের এক শিশু রোগীর মা বলেন, গত দুইদিন ধরে তার মেয়ের ঠান্ডা, জ্বর। কোনভাবেই না কমায় হাসপাতালে শিশু ডাক্তার দেখাতে এসেছেন।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আবদুল আউয়াল বলেন, দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি কিন্তু এত রোগী ভিতরে সিট পাইনি। যার করণে ফ্লোরে দিয়েছে। গরমের কারণে আমার বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন অনেকটা সুস্থ।
শিশু চিকিৎসক আসমা বেগম বলেন, গরমের প্রভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। গরমের এই সময়ে শিশুদের গোসল করাতে হবে। বিশেষ করে ৬ মাস বয়সি শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে। এছাড়া অন্যদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আশ্রাফ চোধুরী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন রোগীদের সেবা দিতে। আমাদের ওষুধ পর্যাপ্ত আছে, শুধু রোগী চাপে বেড সল্পতা রয়েছে। এই গরমে তৈলাক্ত খাবার পরিহারসহ প্রয়োজন ছাড়া রৌদ্রে না থাকার পরামর্শ।
এমএ/