চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম প্রান্তে সংস্কারাধীন কালুরঘাট সেতুতে লাইটার জাহাজের ধাক্কার ঘটনায় করা মামলায় তিন নাবিককে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ।
শুক্রবার (৩ মে) সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম উল্লাহ বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার নাবিকরা হলেন- লাইটার জাহাজের কোয়ার্টার মাস্টার ফেরদৌস রহমান (২৪), সুকানি ইয়ামিন মোল্লা (২১) ও গীজার শাহাদাত হোসেন (২১)।
ওসি একরাম উল্লাহ বলেন, ‘কালুরঘাট সেতুতে লাইটার জাহাজের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনার পরপরই জাহাজটি জব্দ করা হয়। গত ১ মে রেলওয়ের জিআরপি থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের কালুরঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাজের তিন নাবিককে গ্রেপ্তার করা হয়।’
কালুরঘাট সেতুতে লাইটার জাহাজের ধাক্কার ঘটনায় গত ১ মে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিমন মজুমদার বাদী হয়ে রেলওয়ের জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করেন।
গত ৩০ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে কালুরঘাট সেতুতে লাইটার জাহাজটির ধাক্কা লাগে।
জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম প্রান্তে হামিদচর এলাকায় এ কে খান ডকইয়ার্ড থেকে প্রবল স্রোতে ভেসে আসে ‘এমভি সমুদা-১’ নামের একটি লাইটারেজ জাহাজ। জাহাজটির মালিক মেসার্স রোকনুর মেরিটাইম লিমিটেড। জোয়ার শুরু হলে লাইটারেজ জাহাজটির মাস্টার জাহাজটি ডকইয়ার্ডে তুলতে ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তীব্র বাতাসে জাহাজটি সেখান থেকে সরে গিয়ে কালুরঘাট সেতুতে ধাক্কা দেয় এবং আটকে যায়। খবর পেয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা সেতুর সংস্কার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড-সংশ্লিষ্টরা ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জিসান দত্ত বলেন, ‘জোয়ার এবং প্রবল বাতাসের কারণে জাহাজটি দিক হারিয়ে সেতুতে ধাক্কা দেয়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেতুর নিচে একটি গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
কালুরঘাটে অবস্থিত জরাজীর্ণ সেতুটির সংস্কার কাজ চলছে। ফলে গত বছরের ১ আগস্ট থেকে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ আছে। মেরামতের কাজ শেষে আগামী জুন মাসে সেতুটি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইফতেখারুল/পপি/