ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার রাজনীতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নড়িয়ায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা আটক ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার স্মার্টফোন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ‘ক্লড কোওয়ার্ক’ ওলিসের হলুদ কার্ড বহাল রাখল ফিফা খাদ্য অধ্যায়ের ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই পানিবন্দি প্রসূতিকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪২ ধামরাইয়ে ৭৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২৫ বছরের তরুণীর বিয়ে চারঘাটে শিশু ধর্ষণের ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ধর্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের বিপক্ষে মহালড়াইয়ে সাইবারিকে হারাচ্ছে মরক্কো সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নোয়াখালীতে ফিফা সভাপতিসহ রেফারির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল আনোয়ারায় পানিবন্দি অর্ধশতাধিক গ্রাম, সহস্রাধিক পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবার প্রথমবার সিনেমায় শাহরুখ সুহানা এমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২৫টি মনোনয়ন পেল ‘দ্য পিট’ বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন

চট্টগ্রামে ঈদের ৩ দিন বাইরের চামড়া শহরে ঢুকতে পারবে না

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৫, ১১:১৯ এএম
চট্টগ্রামে ঈদের ৩ দিন বাইরের চামড়া শহরে ঢুকতে পারবে না
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার দিন এবং পরবর্তী দুই দিন চট্টগ্রাম শহরে কোরবানির চামড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না। শহরের বাইরের কোরবানির চামড়া আসা বন্ধ করা গেলে স্থানীয় কোরবানিদাতারা চামড়ার ন্যায্যমূল্যে পাবেন। এতে চামড়া অবিক্রীত থেকে যাওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও কম হবে।

বুধবার (২১ মে) টাইগারপাসের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অস্থায়ী কার্যালয় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে আয়োজিত সমন্বয় সভায় এ ঘোষণা দেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে দাম কমানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হন উল্লেখ করে সভায় মেয়র বলেন, ‘এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত চামড়া জমে যায়। আর চাহিদার তুলনায় বেশি চামড়া বাজারে এলেই এর মধ্যে কিছু অবিক্রীত থেকে যায়। বাকি চামড়ার দাম পড়ে যায়। অবিক্রীত চামড়া আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলতে গেলে পরিবেশ দূষণ ঘটে।’ 

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিসিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা
ছবি: খবরের কাগজ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি ঘিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ অভিযান, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কর্তন, জলাশয় ভরাট রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন- এই ছয় বিষয়ের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দেন। 

প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু গত ৫ জুন পবিত্র ঈদ-উল আযহার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে। পরিবেশ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা‘।  

দিবসটিকে ঘিরে আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, পরিবেশ বিষয়ক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। 

বৃহম্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, নগর পুলিশেরঅতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তীব্র দাবদাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া, গ্রীন হাউজ প্রতিক্রয়া ইত্যাদি চলমান জলবায়ু সংকটগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা বলেন, নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এখনই কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এই লড়াইয়ের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পরিবেশ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ অভিযান, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কর্তন ও জলাশয় ভরাট রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, আজকের গৃহীত ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর নিশ্চয়তা দেবে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে সনদ ও বই বিতরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকল অতিথিকে চারাগাছ বিতরণ করা হয়। 

এসএন/

হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকার জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষিজমি, মাছের ঘের ও অসংখ্য বসতবাড়ি।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এতে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, মাছের ঘের ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের বহু মানুষ।

বিশেষ করে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়া নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিক উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, জোয়ারের পানি ও টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ার অনেক এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে রান্না করতে পারেননি।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা বেড়িবাঁধে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হানিফ/এএফ

প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

অবিরাম বর্ষণের পাশাপাশি সাগর উত্তাল থাকায় প্রবল জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে।‌ এমনকি পৌরসভার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। নদীর তীরে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ‌প্রবল জোয়ারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে বেড়িবাঁধ। বড় ধরনের জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে ভেঙ্গে যেতে পারে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ।

ইতোমধ্যে টানা ৫ দিনের ভারী বর্ষণে ও জোয়ারে  হাতিয়ার বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে গেছে। অনেক স্থানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বেড়িবাঁধ।  পানি বন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ডুবে গেছে দ্বীপের অনেক রাস্তাঘাট, পুকুর ,ফসলি জমি, বসত ঘর, আঙ্গিনা, রান্নাঘর ও মাছের ঘের। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোথাও কোমর পানিতে নিমজ্জিত। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ হাঁটু পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। 

এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে বুধবার থেকে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষান্মাসিক ও প্রাক নির্বাচনি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনম হাসান।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম জানান, রাতভর টানা বর্ষণের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ) দুপুরে জোয়ারের তোড়ে  নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে।‌ এমনকি প্রধান সড়কের অনেকাংশ সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে । 

একই চিত্র দেখা গেছে হাতিয়া পৌরসভার কিছু এলাকা ও উপজেলার তমরদ্দি,নলচিরা, সোনাদিয়া, চর ঈশ্বর , সূখচর,‌ হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নের অনেক এলাকায়।

 হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করেছেন। 

হানিফ উদ্দিন সাকিব/এসএন

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। উপজেলা সদরে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও পুরো উপজেলা অন্ধকারে। বিদ্যুতের অভাবে বাসা বাড়িতে পানি তুলতে না পারার পাশাপাশি ভূতুড়ে পরিবেশ পুরো এলাকায়। এতে জনদুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঁশখালী-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের একটি অংশ ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। জলদীতে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

বাঁশখালীতে টানা ৫ দিনের বৃষ্টি এখন বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ভারি বৃষ্টি অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে এখন উপকূলীয় জনপদ পানির নিচে। বর্তমানে উপজেলার খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথরিয়া, পুকুরিয়া, সরল, গন্ডামারা, ছনুয়া, পুইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢুবে গেছে রাস্তাঘাট ও সড়ক। অনেক পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ডুবে গিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিলেও সেখানে অনেক জায়গায় সরকারি বেসরকারি সাহায্য পৌছেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কালীপুরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও পানি বিতরণ করতে দেখা গেলেও তা একেবারেই অপ্রতুল।

বানভাসিরা উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবারও উপজেলা প্রশাসন পাহাড় থেকে লোকজনকে সরে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করতে দেখা গেছে।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া কদমরসুল এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে গেছে। এতে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে সাগরের লোনাপানি প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি স্পট দিয়ে পানি প্রবেশ করায় লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মুবিনুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে একদিকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং জনদুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও উপজেলা সদর ছাড়া কোথাও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। এতে একদিকে পুরো উপজেলা অন্ধকার অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই পানি তুলতে পারেননি।

পল্লি বিদ্যুতের বাঁশখালী উপজেলার দায়িত্বরত ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। তাছাড়া জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে ২০ হাজারের বেশি নারী পুরুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের বন্যা দুর্গত মানুষদের সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/এসএন

সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। ছবি: খবরের কাগজ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম ও ডলু নদীর পাড় ভাঙনের ফলে পানি লোকালয়ে ঢুকে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
 
অনেক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে শত শত হেক্টর ধানি জমি, সবজিখেত ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।
 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছেই। এতে বৃহত্তর বড়দুয়ারা, মাহালিয়া, কাটাখালীকুল, নতুনপাড়া ও বটতল হিন্দুপাড়ার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
 
আবার অনেক ইউনিয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজার ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
 
গতকাল বুধবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার রামপুর বায়তুশ শরফ এলাকায় ডলু নদীর পাড় ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করলে বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় স্থানীয়রা পাড় রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
 
পৌরসভার থানা ঘাট ও নুরুর দোকান এলাকায় পাড় উপচে পানি ঢুকে থানা, চৌকি আদালত, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, পৌরসভা, সরকারি কলেজ, সার্কেল অফিস, ভূমি অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি ঢুকে পড়ে।
 
এ ছাড়াও সামিয়ার পাড়া, আশেকর পাড়া, বোয়ালিয়া পাড়া, খলিফা পাড়া, গোয়াজর পাড়া, চর পাড়া ও ইছামতিকুলের অসংখ্য বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে।
 
পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ৬.৬০ মিটার, ৯টায় ৬.৬৯ মিটার এবং বেলা ১২টায় ৬.৭৫ মিটার সীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ৩ ঘণ্টা পর পর পানির স্তরের তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রতিমুহূর্তেই সাঙ্গু নদীর পানি বাড়ছে।
 
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ০.২০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এ সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডলু নদীটি ছোট হওয়ায় এর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচের তলা পানিতে ডুবে গেছে। এসবের মধ্যেও আমরা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পানিবন্দি পরিবারগুলোর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেড় হাজার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার পৌঁছানোর কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এরপরও যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছাতে আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
 
আরিফুল ইসলাম/আজহার/