চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।
সিএমপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে নগরের বিভিন্ন থানায় মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মানবপাচার, মাদক, ছিনতাইয়ের মোট ৫টি মামলা, ইমরান হোসেন চ্যাং এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মারামারি, চোরাচালান, দ্রুত বিচার আইনে মোট ১২টি মামলা, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, সন্ত্রাস দমন ও মারামারির মোট ৬টি মামলা, মো. সুমনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট ৬টি মামলা, মো. মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট ৭টি মামলা ও মো. নয়নের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির মোট ৪টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এ সময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ‘গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টায় হোয়াটস অ্যাপে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাকে কল করেন। তিনি বলেন, তার নাম ডেভিড ইমন। এরপর বলেন, চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করতে গেলে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা করিয়েন না। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। আপনার ব্যবসা আমার ছেলেরা করবে। আপনি আমার সম্পর্কে জানেন না। বেশি দূর যেতে হবে না। পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করিয়েন আমার সম্পর্কে। হাটহাজারী, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট থেকে শুরু করে সব জায়গার গার্মেন্টসসহ অন্য ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে। আপনি ব্যবসা করতে হলে আমাকে প্রথমে এককালীন নগদ দুই কোটি টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। আপনাকে আমি দুইদিন সময় দিলাম। এর মধ্যে হয় টাকা দেবেন, অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেবেন। নইলে আপনার কী অবস্থা হয় দেখবেন।’
আদিল বিন মামুন আরও বলেন, ‘চাঁদার টাকা না পেয়ে সোমবার দুপুরে ৩০ থেকে ৪০ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার অফিসে হামলা চালায়। এতে আমার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় তারা অফিসে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, আমাদের কোম্পানির ডিরেক্টর আরিফুল ইসলামের কাঁধব্যাগে থাকা কর্মীদের বেতন বাবদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় চকবাজার থানায় গত ১৩ জুলাই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৩/১৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩৮৫/৩৮০/১০৯/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা করেন তিনি (মামলা নং-৭)।
এসএন/