ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নড়িয়ায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা আটক ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার স্মার্টফোন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ‘ক্লড কোওয়ার্ক’ ওলিসের হলুদ কার্ড বহাল রাখল ফিফা খাদ্য অধ্যায়ের ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই পানিবন্দি প্রসূতিকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪২ ধামরাইয়ে ৭৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২৫ বছরের তরুণীর বিয়ে চারঘাটে শিশু ধর্ষণের ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ধর্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের বিপক্ষে মহালড়াইয়ে সাইবারিকে হারাচ্ছে মরক্কো সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নোয়াখালীতে ফিফা সভাপতিসহ রেফারির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল আনোয়ারায় পানিবন্দি অর্ধশতাধিক গ্রাম, সহস্রাধিক পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবার প্রথমবার সিনেমায় শাহরুখ সুহানা এমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২৫টি মনোনয়ন পেল ‘দ্য পিট’ বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার স্বামী ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতাবেন যারা ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প

কিশোরগঞ্জে ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপি নেতার আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম
কিশোরগঞ্জে ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপি নেতার আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা
ফয়জুল করিম মুবিন। ছবি: খবরের কাগজ

কিশোরগঞ্জে সাবেক মন্ত্রীর ছেলে সাবেক বিএনপি নেতা ও আইনজীবী ফয়জুল করিম মুবিন আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার বিষয়টি জানান।এরপর সেই ফেইসবুক লাইভ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।পরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যোগদানের খবরটি প্রচার করতে থাকে।

ফয়জুল করিম মুবিন কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জিয়াউর রহমান সরকারের তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ফজলুর করিমের ছেলে। ফয়জুল করিম গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনের আগের কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উপ-দপ্তর সম্পাদক, পৌর বিএনপির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কিশোরগঞ্জ শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া পারিবারিক ভাবেও সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। 

বুধবার বিকেলে ফয়জুল করিম নিজ ফেসবুক আইডিতে এক ভিডিও বার্তায় আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অবশ্যই আসবেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিননামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে তিনি ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের লাইভ ভিডিওতে বক্তব্য দেন। 

ফেসবুক লাইভে ফয়জুল করিম বলেন, শেখ হাসিনা যেহেতু বলেছেন, তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন। আমি রাজনীতি করেছি দেশের জন্য, দলের জন্য নয়। এখন মনে করছি, দেশের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের নয়, তিনি এই দেশের স্থিতিশীলতার প্রতীক। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এখন ঐক্যের সময়। আমি কিশোরগঞ্জ থেকে ২১ অক্টোবর অসাংবিধানিক সরকার কর্তৃক জুলাই সনদের তীব্র বিরোধিতা করি।

দল বদলের কারণ জানতে চাইলে ফয়জুল করিম খবরের কাগজকে জানান, ৫ আগস্টের পর মানুষের যে স্বপ্ন ছিল, চেতনা ছিল, এক বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সম্পদ ভোগ করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা চলছে। তা প্রতিহত করার জন্যই আমি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল, ধর্মনিরপেক্ষ এবং শেখ হাসিনাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশের মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল। আমি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। কীভাবে এবং কার মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দেননি ফয়জুল করিম।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিএনপিতে বর্তমানে ফয়জুল করিমের কোনো পদবী নেই। আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।

এসএন/

হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকার জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষিজমি, মাছের ঘের ও অসংখ্য বসতবাড়ি।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এতে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, মাছের ঘের ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের বহু মানুষ।

বিশেষ করে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়া নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিক উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, জোয়ারের পানি ও টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ার অনেক এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে রান্না করতে পারেননি।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা বেড়িবাঁধে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হানিফ/এএফ

প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

অবিরাম বর্ষণের পাশাপাশি সাগর উত্তাল থাকায় প্রবল জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে।‌ এমনকি পৌরসভার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। নদীর তীরে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ‌প্রবল জোয়ারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে বেড়িবাঁধ। বড় ধরনের জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে ভেঙ্গে যেতে পারে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ।

ইতোমধ্যে টানা ৫ দিনের ভারী বর্ষণে ও জোয়ারে  হাতিয়ার বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে গেছে। অনেক স্থানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বেড়িবাঁধ।  পানি বন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ডুবে গেছে দ্বীপের অনেক রাস্তাঘাট, পুকুর ,ফসলি জমি, বসত ঘর, আঙ্গিনা, রান্নাঘর ও মাছের ঘের। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোথাও কোমর পানিতে নিমজ্জিত। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ হাঁটু পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। 

এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে বুধবার থেকে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষান্মাসিক ও প্রাক নির্বাচনি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনম হাসান।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম জানান, রাতভর টানা বর্ষণের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ) দুপুরে জোয়ারের তোড়ে  নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে।‌ এমনকি প্রধান সড়কের অনেকাংশ সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে । 

একই চিত্র দেখা গেছে হাতিয়া পৌরসভার কিছু এলাকা ও উপজেলার তমরদ্দি,নলচিরা, সোনাদিয়া, চর ঈশ্বর , সূখচর,‌ হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নের অনেক এলাকায়।

 হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করেছেন। 

হানিফ উদ্দিন সাকিব/এসএন

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। উপজেলা সদরে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও পুরো উপজেলা অন্ধকারে। বিদ্যুতের অভাবে বাসা বাড়িতে পানি তুলতে না পারার পাশাপাশি ভূতুড়ে পরিবেশ পুরো এলাকায়। এতে জনদুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঁশখালী-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের একটি অংশ ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। জলদীতে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

বাঁশখালীতে টানা ৫ দিনের বৃষ্টি এখন বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ভারি বৃষ্টি অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে এখন উপকূলীয় জনপদ পানির নিচে। বর্তমানে উপজেলার খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথরিয়া, পুকুরিয়া, সরল, গন্ডামারা, ছনুয়া, পুইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢুবে গেছে রাস্তাঘাট ও সড়ক। অনেক পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ডুবে গিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিলেও সেখানে অনেক জায়গায় সরকারি বেসরকারি সাহায্য পৌছেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কালীপুরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও পানি বিতরণ করতে দেখা গেলেও তা একেবারেই অপ্রতুল।

বানভাসিরা উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবারও উপজেলা প্রশাসন পাহাড় থেকে লোকজনকে সরে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করতে দেখা গেছে।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া কদমরসুল এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে গেছে। এতে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে সাগরের লোনাপানি প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি স্পট দিয়ে পানি প্রবেশ করায় লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মুবিনুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে একদিকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং জনদুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও উপজেলা সদর ছাড়া কোথাও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। এতে একদিকে পুরো উপজেলা অন্ধকার অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই পানি তুলতে পারেননি।

পল্লি বিদ্যুতের বাঁশখালী উপজেলার দায়িত্বরত ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। তাছাড়া জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে ২০ হাজারের বেশি নারী পুরুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের বন্যা দুর্গত মানুষদের সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/এসএন

সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। ছবি: খবরের কাগজ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম ও ডলু নদীর পাড় ভাঙনের ফলে পানি লোকালয়ে ঢুকে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
 
অনেক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে শত শত হেক্টর ধানি জমি, সবজিখেত ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।
 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছেই। এতে বৃহত্তর বড়দুয়ারা, মাহালিয়া, কাটাখালীকুল, নতুনপাড়া ও বটতল হিন্দুপাড়ার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
 
আবার অনেক ইউনিয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজার ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
 
গতকাল বুধবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার রামপুর বায়তুশ শরফ এলাকায় ডলু নদীর পাড় ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করলে বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় স্থানীয়রা পাড় রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
 
পৌরসভার থানা ঘাট ও নুরুর দোকান এলাকায় পাড় উপচে পানি ঢুকে থানা, চৌকি আদালত, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, পৌরসভা, সরকারি কলেজ, সার্কেল অফিস, ভূমি অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি ঢুকে পড়ে।
 
এ ছাড়াও সামিয়ার পাড়া, আশেকর পাড়া, বোয়ালিয়া পাড়া, খলিফা পাড়া, গোয়াজর পাড়া, চর পাড়া ও ইছামতিকুলের অসংখ্য বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে।
 
পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ৬.৬০ মিটার, ৯টায় ৬.৬৯ মিটার এবং বেলা ১২টায় ৬.৭৫ মিটার সীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ৩ ঘণ্টা পর পর পানির স্তরের তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রতিমুহূর্তেই সাঙ্গু নদীর পানি বাড়ছে।
 
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ০.২০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এ সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডলু নদীটি ছোট হওয়ায় এর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচের তলা পানিতে ডুবে গেছে। এসবের মধ্যেও আমরা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পানিবন্দি পরিবারগুলোর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেড় হাজার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার পৌঁছানোর কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এরপরও যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছাতে আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
 
আরিফুল ইসলাম/আজহার/

লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই পানিবন্দি প্রসূতিকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই পানিবন্দি প্রসূতিকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বন্যার পানিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া প্রসব বেদনায় কাতর এক গৃহবধূকে (২২) দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই গৃহবধূ একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গৃহবধূ মিজবাহুল জান্নাত একই এলাকার প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ডলু নদীর পানিতে গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে।

জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) গভীর রাতে গৃহবধূ মিজবাহুল জান্নাতের প্রসব বেদনা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে পড়েন। তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার ভোরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্ট্রেচারের মাধ্যমে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।

লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, সময়মতো ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে মা ও অনাগত শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। তাদের এই মানবিক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র বলেন, ’খবর পেয়ে ওই গৃহবধূকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এরপর স্ট্রেচারের মাধ্যমে তাকে বহন করে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি।’

আরিফুল/খাদিজা রুমি/