শীতের শাকসবজি আবাদ সাধারণত অক্টোবর মাসে শুরু হয়। তবে এবার সেপ্টেম্বর মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মাঠে জমে থাকা পানি ও কর্দমাক্ত মাটির কারণে ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষকরা নির্ধারিত সময়ে সবজি আবাদ শুরু করতে পারেননি। কিন্তু এখন আবহাওয়া অনুকূল থাকায় শাকসবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তারা ভালো ফলনের আশা করছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সব কিছু ঠিক থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো সমস্যা হবে না।
এ বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ঈশ্বরদী অঞ্চলে প্রচণ্ড গরম ছিল এবং বৃষ্টিপাতের দেখা মেলেনি। তবে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে ভারী বৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে জমিতে পানি জমে মাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় চাষিরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জমির মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় সবজি চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত ছিল না। পাশাপাশি অনেকের বীজতলা বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে শীতকালীন সবজির আবাদ নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসে এখানে ৪৯২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আগাম সবজি আবাদে। তবে, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছেন এবং বেশ কিছু মাঠে আগাছা পরিষ্কারকরণ ও নিড়ানি দেওয়া হচ্ছে।
ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই বছর উপজেলার মোট ৬ হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১৪ টন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে, বিশেষত ছলিমপুর, মুলাডুলি, সাহাপুর ও পাকশী ইউনিয়নে শাকসবজি আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে দেরিতে আবাদ শুরু হওয়ায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কিছু সমস্যা হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামরী গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, তিনি ৩ বিঘা জমি নিজের এবং ২৫ বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে মোট ২৮ বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করছেন। এর মধ্যে শালগম, গাজর, হলুদ, মুলা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজির আবাদ করেছেন। তিনি আরও জানান, ‘সেপ্টেম্বর মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষতি হলেও এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় তিনি শীতের সবজির ভালো ফলন আশা করছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষকরা তাদের প্রচেষ্টায় বেশ সফল। এখানকার শাকসবজি এবং ফলমূলের চাষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়। শিম, ঢ্যাঁড়শ, মুলা, গাঁজর, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, টমেটো, ধনিয়াপাতা, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পালংশাক, পেঁয়াজসহ আরও নানা ধরনের শাকসবজি এখানে চাষ হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, ঈশ্বরদী অঞ্চলে শীতের সবজি আবাদ দেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই অঞ্চলের কৃষকরা কখনোই জমি ফেলে রাখতে চান না এবং তারা আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতিতে জমিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মিতা সরকার আশাবাদী, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো সমস্যা হবে না।
উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা কে এফ সাইফ উদ্দিন ইয়াহিয়া জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে শীতের সবজি আবাদে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমস্যা হবে না।