ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন আজ পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের

দুই বছরে ফলের দাম বেড়ে তিন গুণ

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৫ এএম
দুই বছরে ফলের দাম বেড়ে তিন গুণ
ঈশ্বরদী বাজারে একটি ফলের দোকানে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন বিক্রেতা। ছবি: খবরের কাগজ।

দুই বছর আগেও এক কেজি আপেল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ওই আপেল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে দাম বেড়েছে বেদানা, আঙুর, মালটা, কমলা, পেয়ারা, কলাসহ সব ধরনের ফলের। অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অনেক পরিবার ফল খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ফলের বিক্রিও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। পাবনার ঈশ্বরদী বাজারের খুচরা ফল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশ্বরদী বাজার ও রেলগেটের ফলের দোকানগুলোতে প্রকারভেদে প্রতি কেজি আপেল সাড়ে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, আঙুর সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বেদানা ৬০০, মালটা সাড়ে ৩০০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, এক কেজি পেয়ারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি হালি কলা ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানান, দুই বছর আগে এক কেজি আপেল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, আঙুর ১০০ থেকে দেড় শ টাকায়, মালটা ১০০ থেকে ১২০, কমলা ৮০ থেকে ১০০, বেদানা ২০০ টাকায় বিক্রি করতেন। তারা বলেন, এখন বেশি দামে কেনা, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কিছু লাভও করতে হয়, না হলে সংসার চলবে না।

ঈশ্বরদী বাজারের ফল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন ১৫ বছর ধরে ফলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। 
তিনি জানান, আগে ঈশ্বরদীতে পাইকারি ব্যবসায়ী ছিল, এখন তারা আর নেই। ফলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর অনেকেই এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই এখন নাটোরের বনপাড়া ও আহমেদপুরের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফল কিনে এনে বিক্রি করি। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে প্রায় সব ধরনের ফলের কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম ছিল। কিন্তু এখন দাম বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে আঙুর ও বেদানার। এখন আঙুরের কেজি ৫০০ টাকা, বেদানা ৬০০, আপেল সাড়ে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা। এ কারণে আগের তুলনায় বিক্রিও কমে গেছে। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ফল কিনতে আসেন না।’ 

তিনি আরও বলেন, আপেল, মালটা, আঙুর, কমলা বিদেশ থেকে আনা হয়। আমদানির পরিমাণ না বাড়লে, সিন্ডিকেট না ভাঙলে দাম কমবে না।’

আরেক ফল ব্যবসায়ী আলমাস আলী বলেন, ‘আগের তুলনায় বিদেশি ফলের আমদানি কমেছে। আবার সিন্ডিকেটের কারসাজির বিষয়ও রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ফলের দাম কমবে না, বরং আরও বাড়বে। তবে শীতে ফলের চাহিদা কম থাকে, তাই এখন দাম কিছুটা কমতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে কিছু ফল উৎপাদিত হলেও তা এখনো সুস্বাদু হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যে ড্রাগন, মালটা রয়েছে, যার কারণে চাহিদা কম। তবে ঈশ্বরদীর উৎপাদিত পেয়ারার চাহিদা রয়েছে।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের অনেকেই দুপুরে একটি বা দুটি পাউরুটির সঙ্গে কলা খেয়ে থাকেন। কিন্তু বেশি দামের কারণে ওই কলাও এখন আর অনেকে খান না। প্রকারভেদে এক হালি কলা এখন ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই বছর আগে ১০ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যেত।  

রিকশাচালক মনির হোসেন বলেন, ‘খিদে পেলে কলা, পাউরুটি, চা খাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এখন জিনিসগুলো খেতে গেলে প্রায় ৪০ টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই খাওয়া বাদ দিয়েছি। একটি পাউরুটি, এক কাপ চা খেয়ে দুপুরের খাবার শেষ করি।’  

শহরের রেলগেট থেকে এক কেজি আপেল কিনেছেন কবির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ফল কেনা অনেক আগেই বাদ দিয়েছি। আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছি, তাই বাধ্য হয়ে এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকায় কিনলাম। এই আপেল আমি গত বছর ১০০ টাকায় কিনেছি। এখন দাম এত বেশি, তাই ফল কেনা বাদ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইলিশ মাছের মতো ফলও এখন বিলাসী খাবার হয়ে গেছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ছেলেমেয়েদের ফল কিনে খাওয়াতে পারি না।’

 

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক (মেরিটাইম) খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ধরনের আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিনিয়োগ ভবনে সফররত সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ পিপিপিএ, বিডা ও বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও ব্যবসা সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই অগ্রাধিকার সৌদি আরবের নিজস্ব কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সৌদি আরব বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে উঠতে কাজ করছে এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে শীর্ষস্থানীয় সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি বিনিয়োগে সহযোগিতা করছে।

সৌদি উপমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে ব্যবসা করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকেও সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলেন, ‘লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্কের মতো কিছু নির্দিষ্ট খাতে সৌদি আরবের গভীর আগ্রহ রয়েছে, যা আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গেও মিলে যায়। এ ছাড়া আমরা আর্থিক সেবা খাতেও সৌদি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ আর্থিক সেবা খাতেও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে একাধিক সৌদি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছি, যাতে তারা বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।’

প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ
ছবি: খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে নেই সমন্বয়। নির্ধারিত তিন বছরের পর ৫ বার সংশোধন করে সময় বাড়ানো হয়েছে ১৩ বছর ৬ মাস। কাজ কমলেও খরচ বেড়েছে ৩৫ শতাংশের বেশি। তারপরও সন্তোষজনক কাজ হয়নি।

২০১০ সালে কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত সাড়ে ১৬ বছরে আর্থিক অগ্রগতি বা খরচ হয়েছে মাত্র ৫৬ শতাংশ। ২৩টি অডিট আপত্তির মধ্যে এখনো ১৪টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে শুধু এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়ে জীবিত রাখা হয়েছে। লেকের স্যুয়ারেজ লাইন বিচ্ছিন্নকরণ এবং বিকল্প নিষ্কাশন ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। পুরো লেকে সড়কবাতি স্থাপন না করায় চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন হচ্ছে। এটি যেনতেন কোনো প্রকল্প নয়, ‘গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন’ প্রকল্পের বাস্তব চিত্র।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।      

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, জলপথের উন্নয়ন ও লেকের চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে পথচারীদের বিনোদন দেওয়া। এ জন্য ২০১০ সালের ৬ জুলাই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। ২০১০ সালের জুলাইয়ে এর কাজ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের জুনে। কিন্তু ৫ বার বাড়ানো হয় সময়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৭ মে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। সময় বেড়েছে প্রায় ৪৫০ শতাংশ। প্রকল্পের প্রথমে খরচ ধরা হয়েছিল ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ৫৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। মূল খরচের তুলনায় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত প্রকল্পে ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫৬ শতাংশ।

লেকের পানি খুবই নোংরা 

আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কাজের পরিধি, নকশা, ভূমির চাহিদা ও খরচ নির্ধারণ বাস্তবতার আলোকে করা সম্ভব হয়নি। নকশার পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যায়। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রধান প্রধান কাজ কম হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ৯ লাখ ৫১ হাজার বর্গমিটারের বিপরীতে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক খনন করা হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৭ বর্গমিটার। লেকের পাশে বসার ব্যবস্থা ও বিশ্রাম সুবিধা নেই। বনানী কবরস্থান, চেয়ারম্যানবাড়ী, কড়াইল বস্তিসহ ৭টি স্থানে স্যুয়ারেজ ও ড্রেনের মাধ্যমে অপরিশোধিত বর্জ্য লেকে পড়ছে। ফলে লেকের পানি খুবই নোংরা, দূষিত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্লাস্টিক ও বর্জ্য অবাধে ফেলা হচ্ছে। 

লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার মিটার থাকলেও তীর সংরক্ষণ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪৩৮ মিটার। ৩ লাখ ৫১ হাজার ঘনমিটারের বিপরীতে মাটি ভরাট করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৬১ ঘনমিটার। হাতিরঝিল থেকে মরিয়ম টাওয়ার পর্যন্ত ২ হাজার ৬৮২ মিটারের পরিবর্তে লেক ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৩৮ মিটার। তবে প্রকল্পে ৬ হাজার ২০০ মিটার থাকলেও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮৫৮ মিটার। অনেক স্থানে ভেঙে গেছে এই ওয়াকওয়ে। 

প্রথমে ডিপিপিতে ৮০ একর ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্য ধরা হলেও পরে কমিয়ে বাড্ডা ও ভাটারা মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণ লক্ষ্য ধরা হয় ১৪ একর। ২০১০ সালে কাজ শুরু হলেও এখনো ৩ দশমিক ২১ একর ভূমি অধিগ্রহণ হয়নি। লেকের পাড়ে ৪ হাজার বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এলেও লেকের উন্নয়ন কাজ হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার। কিন্তু খরচ ঠিকই বেড়েছে। ওয়াকওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সড়কবাতি স্থাপন করা হয়নি। ফলে ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এখনো ঝুলছে ১৪টি অডিট আপত্তি 

প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। তবে সেগুলো থেকে মিলছে না প্রত্যাশিত সুফল। তারপরও গত মে মাসে অনুষ্ঠিত পিএসসি সভার ৩ দশমিক ২১ একর জমি প্রকল্প থেকে বাদ দিয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প কার্যালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সোসাইটির মধ্যে ছিল না সমন্বয়। নিয়মিত তদারকিও হয়নি। প্রকল্পে ২৩টি অডিট আপত্তি ওঠে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৯টি। বাকি ১৪টি এখনো ঝুলে আছে। 

প্রকল্পের কাজ ভালো মতো হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য ৩ মাস পর পর ৪৮টি করে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ও প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিআইসি) হওয়ার কথা। কিন্তু করা হয়েছে মাত্র ৮টি বা ১৬ শতাংশ। ২০১০ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ৩ জন পিডি দায়িত্ব পালন করেছেন। ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং ছিল দুর্বল। ২০২১ সালের ২৫ মার্চ থেকে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) দায়িত্বে রয়েছেন রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. ছাবের আহমেদ। 

সার্বিক ব্যাপারে পিডি খবরের কাগজকে বলেন, ‘যা কাজ হওয়ার আগেই হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। অনেক দিন বন্ধ ছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তেমন কোনো কাজ হয়নি। সামনে তেমন কাজও বাকি নেই। সিস্টেমের কারণে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। ’  

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, এত লম্বা সময়েও প্রকল্পটি ঠিকভাবে হচ্ছে না। এ জন্য জলাবদ্ধতা কমছে না। এটা দুঃখজনক। তাই যারাই এর অপব্যবহারে জড়িত, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাহলে অন্যরা ভয় পাবে। দ্রুত শেষ করতে হবে নির্ধারিত  কাজ।’    

আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে থাকা পর্ষদ সদস্যদের পাশাপাশি পুরোনো শেয়ারধারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১৪ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরিফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ার কারণে আগের উদ্যোক্তাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে চলছিল ব্যাংকটি। এখন এই ১৪ জন যুক্ত হওয়ায় পরিচালকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৬টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। এর মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হওয়ায় শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের এখানে যুক্ত করা হয়েছে। অন্য যেসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। তাই তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদের তিনজন কেডিএস গ্রুপের। তারা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ ও কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

অন্য পরিচালকরা হলেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা এনায়েত উল্লা, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং কেওয়াই স্টিল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে খাজা শাহরিয়ারকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। এসব পরিচালকও নতুন পর্ষদে থাকবেন। তবে পর্ষদের সব পরিচালক মিলে এখন আবার নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করবেন।

জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের আরও চারটি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানের থামি, পাবনার গাওয়া ঘি, মানিকগঞ্জের কাঠের ঘর এবং ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আম। 

পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) সহকারী পরিচালক মজনু ভূঁইয়া খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, জিআই পণ্য শুধুমাত্র একটা প্রোডাক্টকে স্বীকৃতি দিয়েই শেষ না। দেশে এমন অনেক পণ্য রয়েছে যা আসলেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার মতো। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, ডিপিডিটিতে এখনো পর্যন্ত ১০৯টি আবেদনপত্র আছে। এর মধ্যে ৬৪টি পণ্য নিবন্ধিত হয়েছে। আরও একটি পণ্য জার্নালের জন্য অপেক্ষমাণ আছে। বাকিগুলো নিয়ে কাজ চলছে।

পরীক্ষাধীন পণ্যের মধ্যে আছে খালিশপুরের চমচম, পটুয়াখালীর মুগডাল, বরগুনার মুগডাল, যশোরের রজনীগন্ধা ফুল, ঝিনাইদহের পেয়ারা, নাটোরের বাগাতিপাড়ার শাখার অলংকারসহ আরও অনেক কিছু। 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ডিপিডিটি যাচাই-বাছাইসহ সব দাপ্তরিক কাজ শেষ হলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই সনদের ঘোষণা দেওয়া হবে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পণ্যগুলো জিআই স্বীকৃতি পেলে দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার ও বাণিজ্যের মূল্য সুযোগ তৈরি হবে।

জিআই স্বীকৃতি কি

জিআই বা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ঐতিহ্য, দক্ষতা বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে একটি পণ্যের ভৌগোলিক পরিচয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়। ফলে একই নামে অন্য এলাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ সীমিত হয় এবং মূল উৎপাদকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, জিআই সনদ শুধু একটি স্বীকৃতিই নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক সম্পদও। এ ধরনের স্বীকৃতি পেলে পণ্যের বাজারমূল্য বাড়তে পারে, ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং দেশি-বিদেশি বাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। 

বান্দরবনের থামি

বান্দরবানের থামি পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরে স্থানীয় তাঁতিরা হাতে বুনে এই পোশাক তৈরি করে থাকেন। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। স্থানীয় নারীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দেশীয় তাঁতযন্ত্রে সুতি বা অন্যান্য সুতা ব্যবহার করে হাতে থামি বুনে আসছেন। প্রতিটি থামির নকশা ও রঙে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, পরিচয় ও জীবনধারার প্রতিফলন দেখা যায়।

পাবনার গাওয়া ঘি

আরেক জিআই আবেদনকৃত পণ্য পাবনার গাওয়া ঘি দেশের সবচেয়ে পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধজাত পণ্যগুলোর একটি। এর খ্যাতির পেছনে রয়েছে খাঁটি গরুর দুধ, স্থানীয় খামারিদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ প্রস্তুতপ্রণালি।

প্রথমে খাঁটি গরুর দুধ থেকে দই তৈরি করা হয়। পরে সেই দই থেকে মাখন সংগ্রহ করা হয়। এরপর মাখনকে কম আঁচে দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়া হয়। এক সময় মাখনের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে যায় এবং দুধের প্রাকৃতিক চর্বি ঘন হয়ে সোনালি রঙের ঘিতে পরিণত হয়। জ্বাল দেওয়ার পর বিশেষ ধরনের সুগন্ধ তৈরি হয়, যা পাবনার গাওয়া ঘিতেই পাওয়া যায়।

অনেকে এখনো কাঠ বা মাটির চুলায় ধীরে ধীরে ঘি তৈরি করেন, যা এর স্বাদ ও সুবাস আরও সমৃদ্ধ করে। রান্না, মিষ্টান্ন ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারে ব্যবহারের কারণে দেশের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছেও পাবনার গাওয়া ঘির চাহিদা রয়েছে। 

মানিকগঞ্জের কাঠের ঘর

একইভাবে মানিকগঞ্জের কাঠের ঘর স্থানীয় কারিগরদের বিশেষ নকশা ও নির্মাণশৈলীর জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। এই কাঠের ঘর দেশের ঐতিহ্যবাহী কাঠশিল্পের একটি পরিচিত নিদর্শন। বিশেষ করে জেলার ঘিওর, সাটুরিয়া ও আশপাশের এলাকায় বহু বছর ধরে দক্ষ কারিগররা আবাসিক ঘর, কটেজ ও বিভিন্ন ধরনের কাঠের স্থাপনা তৈরি করে আসছেন।

কাঠের ঘর তৈরিতে সাধারণত সেগুন, গামারি, চাপালিশ, মেহগনি বা অন্যান্য টেকসই কাঠ ব্যবহার করা হয়। অভিজ্ঞ কাঠমিস্ত্রিরা প্রথমে নকশা অনুযায়ী কাঠ কেটে খুঁটি, বিম, দেয়াল, দরজা ও ছাদের বিভিন্ন নকশা তৈরি করেন। বর্তমানে অনেক কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার হলেও সূক্ষ্ম খোদাই, নকশা ও ফিনিশিংয়ের কাজ এখনো দক্ষ কারিগরের হাতেই সম্পন্ন হয়।

যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত ও শুকানো ভালোমানের কাঠ ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে একটি কাঠের ঘর কয়েক দশক পর্যন্ত টেকসই হতে পারে। তবে কাঠে উইপোকা, আর্দ্রতা ও আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক পরিচর্যা ও প্রলেপের প্রয়োজন হয়। 

ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আম

ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আমও উৎপাদন, স্বাদ এবং গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিত। জেলার অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর দো-আঁশ মাটি এবং আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার কারণে এখানকার আম্রপালি আম স্বাদ, মিষ্টি ও গুণগত মানের জন্য পরিচিত। ফলটি আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও এর শাঁস বেশি, আঁটি পাতলা এবং আঁশ খুবই কম। ফলে ভোক্তাদের কাছে এর চাহিদা বেশি।

ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা সাধারণত কলম করা চারা থেকে আম্রপালি বাগান গড়ে তোলেন। ফুল আসার সময় থেকে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, ছাঁটাই এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নতমানের ফল উৎপাদন করা হয়। ভালো স্বাদ, দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের সুবিধা এবং দূরবর্তী বাজারে পরিবহনের উপযোগী হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আম দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি রপ্তানিরও সম্ভাবনাময় একটি কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিত।

ডিপিডিটির উপ-পরিচালক আমিন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, এসব পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। কারণ তখন পণ্যগুলোর উৎস ও মান নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নকল বা ভেজাল পণ্যের ব্যবহার কমানোও সহজ হবে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব পণ্য বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জিআই সনদ অর্জন করলেই হবে না, এর সুফল পেতে হলে উৎপাদনের মান ধরে রাখা, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা, বাজারজাতকরণে আধুনিক কৌশল গ্রহণ এবং রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এই স্বীকৃতির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের
ফাইল ফটো

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জমিতেই অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে সারা দেশের স্থানীয় বাজারে শাকসবজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শাকসবজি, মাছসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য রাজধানীতে কম এসেছে। এতে রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে দাম বেড়েছে। 

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারে কাঁচা সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। বাজারের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো না আসার কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে চড়া দামের কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

সবজির বাজার: পাইকারিতেই বাড়তি দাম

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির ফলে ফসলের জমি নষ্ট হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ঢাকায় সবজি সরবরাহ কমেছে। ফলে বাজারে সবজির দাম কেজিতে গড়ে ২০ থেক ৩০ টাকা করে বেড়েছে। 

গতকাল কারওয়ান বাজারের পইকারি বাজারেও করলা, ঢ্যাঁড়স, পটোল, কচুরমুখী, বরবটি, বেগুন, কচুরলতি, চিচিঙ্গা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের দামও বেড়েছে। দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালকুমড়া ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মাছের বাজার: বৈরী আবহাওয়ায় সরবরাহ সংকট

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই সাধারণ ক্রেতাদের। বিক্রেতাদের দাবি, মেঘনা ও অন্যান্য নদী অববাহিকায় বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরার পরিমাণ কমেছে, ফলে আড়তেই দাম চড়া।

বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকায় প্রতি কেজিতে মাছের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় কাতল ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। 

মাছ বাজারে আসা স্কুলশিক্ষক মফিজুল ইসলাম বলেন, ‌‘মাছের বাজারে হাত দেওয়ার উপায় নেই। ছোট-খাটো মাছের দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’

মাংসের বাজার: চড়া দামেই স্থির, ব্রয়লারেও স্বস্তি নেই

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতোই সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

কারওয়ান বাজারের ‘আদর্শ চিকেন ব্রয়লার হাউস’-এর বিক্রেতা সালাহ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, খামার পর্যায় থেকেই মুরগি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।

রাজধানীর বাইরেও টানা বর্ষণের কারণে দাম বড়েছে। অতিবৃষ্টিতে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় বগুড়ায় প্রায় ২৮ হাজার বিঘা জমিতে থাকা গ্রীষ্মকালীন সবজি ও মসলা উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বগুড়ার ১৩টি উপজেলার ৪৯ হাজার ৪৪০ বিঘায় কাঁচা মরিচ, বেগুন, পটোলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করা হলেও চাষিরা বাজারে নিতে পেরেছেন ২১ হাজার ৪৫০ বিঘার ফসল।
 
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুর রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধাতার কারণে সবজি ও মসলার ফলন কমতে পারে ৩০ শতাংশ। ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে থাকা সবজির মধ্যে বেগুন ও মরিচের ক্ষতি হয়েছে তুলনামুলক বেশি।’ 

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজি বাজার মহাস্থান থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে সবজি ও মসলা কেনাবেচা করছেন মো. আইনুল হক। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজি ও মসলা দাম বেড়েছে।

টানা বৃষ্টির কারণে খেত থেকে তুলতে না পারায় এবং কিছু নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে যশোরেও। এখানে লাগামহীন হয়ে উঠেছে সবজি ও কাঁচা মরিচের দাম। বিক্রেতারা রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সাতমাইল বাজারের সবজি মোকামের পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম জানান, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা খেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। ফলে সরবরাহ কম। এ জন্য রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যশোরের সবজি কম যাচ্ছে।
 
গতকাল মঙ্গলবার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মরিচ, শসা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, কলাসহ গ্রীষ্মকালীন প্রায় ধরনের সবজির দাম ১০টা থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে।