দুই বছর আগেও এক কেজি আপেল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ওই আপেল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে দাম বেড়েছে বেদানা, আঙুর, মালটা, কমলা, পেয়ারা, কলাসহ সব ধরনের ফলের। অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অনেক পরিবার ফল খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ফলের বিক্রিও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। পাবনার ঈশ্বরদী বাজারের খুচরা ফল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশ্বরদী বাজার ও রেলগেটের ফলের দোকানগুলোতে প্রকারভেদে প্রতি কেজি আপেল সাড়ে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, আঙুর সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বেদানা ৬০০, মালটা সাড়ে ৩০০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, এক কেজি পেয়ারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি হালি কলা ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, দুই বছর আগে এক কেজি আপেল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, আঙুর ১০০ থেকে দেড় শ টাকায়, মালটা ১০০ থেকে ১২০, কমলা ৮০ থেকে ১০০, বেদানা ২০০ টাকায় বিক্রি করতেন। তারা বলেন, এখন বেশি দামে কেনা, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কিছু লাভও করতে হয়, না হলে সংসার চলবে না।
ঈশ্বরদী বাজারের ফল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন ১৫ বছর ধরে ফলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তিনি জানান, আগে ঈশ্বরদীতে পাইকারি ব্যবসায়ী ছিল, এখন তারা আর নেই। ফলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর অনেকেই এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই এখন নাটোরের বনপাড়া ও আহমেদপুরের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফল কিনে এনে বিক্রি করি। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে প্রায় সব ধরনের ফলের কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম ছিল। কিন্তু এখন দাম বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে আঙুর ও বেদানার। এখন আঙুরের কেজি ৫০০ টাকা, বেদানা ৬০০, আপেল সাড়ে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা। এ কারণে আগের তুলনায় বিক্রিও কমে গেছে। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ফল কিনতে আসেন না।’
তিনি আরও বলেন, আপেল, মালটা, আঙুর, কমলা বিদেশ থেকে আনা হয়। আমদানির পরিমাণ না বাড়লে, সিন্ডিকেট না ভাঙলে দাম কমবে না।’
আরেক ফল ব্যবসায়ী আলমাস আলী বলেন, ‘আগের তুলনায় বিদেশি ফলের আমদানি কমেছে। আবার সিন্ডিকেটের কারসাজির বিষয়ও রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ফলের দাম কমবে না, বরং আরও বাড়বে। তবে শীতে ফলের চাহিদা কম থাকে, তাই এখন দাম কিছুটা কমতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে কিছু ফল উৎপাদিত হলেও তা এখনো সুস্বাদু হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যে ড্রাগন, মালটা রয়েছে, যার কারণে চাহিদা কম। তবে ঈশ্বরদীর উৎপাদিত পেয়ারার চাহিদা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের অনেকেই দুপুরে একটি বা দুটি পাউরুটির সঙ্গে কলা খেয়ে থাকেন। কিন্তু বেশি দামের কারণে ওই কলাও এখন আর অনেকে খান না। প্রকারভেদে এক হালি কলা এখন ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই বছর আগে ১০ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যেত।
রিকশাচালক মনির হোসেন বলেন, ‘খিদে পেলে কলা, পাউরুটি, চা খাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এখন জিনিসগুলো খেতে গেলে প্রায় ৪০ টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই খাওয়া বাদ দিয়েছি। একটি পাউরুটি, এক কাপ চা খেয়ে দুপুরের খাবার শেষ করি।’
শহরের রেলগেট থেকে এক কেজি আপেল কিনেছেন কবির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ফল কেনা অনেক আগেই বাদ দিয়েছি। আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছি, তাই বাধ্য হয়ে এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকায় কিনলাম। এই আপেল আমি গত বছর ১০০ টাকায় কিনেছি। এখন দাম এত বেশি, তাই ফল কেনা বাদ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইলিশ মাছের মতো ফলও এখন বিলাসী খাবার হয়ে গেছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ছেলেমেয়েদের ফল কিনে খাওয়াতে পারি না।’