ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র ভারতে ভারী বর্ষণে ১০ জনের মৃত্যু চট্টগ্রাম বোর্ডে শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ফ্রান্সে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত ৪ চুয়াডাঙ্গায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার কোটি কোটি নতুন সমর্থকই বেলজিয়ামের প্রেরণা: গার্সিয়া তিস্তার 'ক্রেডিট' নিতে জামায়াতের আন্দোলন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভেজা বাতাস চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ কালো মেঘ শাদা মেঘ কুমিল্লায় সংস্কৃতি মন্ত্রী: প্রস্তুতি শেষ, শিগগিরই চালু হচ্ছে জুলাই জাদুঘর বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, সড়ক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার শ্রাবণের চিঠি জলছবি কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আরোহী মৃত্যু, স্ত্রী আহত আদি বৃষ্টি সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে বৃদ্ধের মৃত্যু ব্যাঙের শিক্ষা নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫ জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ চবির লাকসাম-মনোহরগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ইসরাত ও বাবলু

চট্টগ্রামে চামড়া নিয়ে শঙ্কায় আড়তদাররা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৫, ১১:১৯ এএম
চট্টগ্রামে চামড়া নিয়ে শঙ্কায় আড়তদাররা
আড়তে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণে ব্যস্ত শ্রমিকরা। চট্টগ্রাম নগরের আতুরার ডিপো এলাকা থেকে তোলা/ মোহাম্মদ হানিফ

পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার চট্টগ্রামে ৪ লাখ ১৫ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। চামড়াগুলো নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় বিভিন্ন আড়তে মজুত আছে। তবে চামড়া কিনে লাভবান হলেও আড়তদাররা সেগুলো বিক্রি করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। কারণ, ট্যানারি মালিকরা এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ করছেন না। আড়তদাররা জানিয়েছেন, ন্যায্যদামে চামড়া বিক্রি করতে না পারলে তারা লোকসানে পড়বেন। 

জানা গেছে, এ বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে আকারভেদে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকায় চামড়া সংগ্রহ করেছেন। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তারা উপযুক্ত দরে চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। তাই চামড়ার ঠাঁই হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। নগরের বিভিন্ন এলাকার সড়কের ওপর থেকে প্রায় এক লাখ চামড়া সরানোর কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। আবার লাভ না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছেন। অনেক কোরবানিদাতা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করেছেন। ওই চামড়া আড়তদারের কাছে বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হয়েছে বলে জানা গেছে। 

চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির তথ্য মতে, এই সমিতির সদস্যভুক্ত ১১২ জন আড়তদার রয়েছেন। সদস্যভুক্ত থাকলেও বর্তমানে চামড়া আড়তদারের সংখ্যা ৩০ জনে ঠেকেছে। তারাই এবার চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। আড়তদাররা দাবি করছেন, তারা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় আকারের গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও ছোট আকারের গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে কিনে নিয়েছেন। 

তারা (আড়তদাররা) জানিয়েছেন, বর্তমানে নগরীর আতুরার ডিপো, কালুরঘাট, হালিশহর, বিবিরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় চামড়াগুলো লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। বর্তমানে তাদের লাভ-লোকসান সবই নির্ভর করছে ট্যানারির ওপর। ট্যানারি মালিকরা উপযুক্ত দামে চামড়া কিনলে তারা লাভবান হবেন, অন্যথায় দেউলিয়া হয়ে ব্যবসা গুটাতে হবে।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালের দিকে চট্টগ্রামে ২২টি ট্যানারি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু চামড়ার দরপতনে ব্যবসায় লোকসান ও ইটিপি (বর্জ্য পরিশোধনাগার) স্থাপন করতে না পারায় বিভিন্ন সময়ে ২১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে রিফ লেদার নামে একটি প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৫০ হাজার চামড়া চট্টগ্রামের আড়তদারদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। 

বাকি চামড়া বিক্রির জন্য ঢাকার ট্যানারিগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। ঢাকায় বর্তমানে ২২৫টি ট্যানারি রয়েছে। এর মধ্যে খোকন লেদার, ভুলুয়া ট্যানারি, সালমা ট্যানারি, মহুয়া ট্যানারি, পান্না লেদারসহ ছোট-বড় প্রায় ২০টি ট্যানারি চট্টগ্রাম থেকে চামড়া কিনে নেয়। তাই এবারও এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখতে চান চট্টগ্রামের আড়তদাররা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের একমাত্র ট্যানারি রিফ লেদারের কাছে ৫০ হাজার চামড়া বিক্রি করেছি। বাকি চামড়া বিক্রি করতে ঢাকার ট্যানারির দিকে তাকিয়ে আছি। এখন পর্যন্ত খোকন লেদারসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চামড়া কিনতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আশা করছি, সপ্তাহখানেকের মধ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও যোগাযোগ করবে। আমরা চিন্তায় সময় পার করছি। কারণ আমাদের লাভ-লোকসান নির্ভর করছে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের ওপর।’ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নঈম উদ্দিন হাছান চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘চামড়া খাতের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার জন্য প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ। এই খাতকে এগিয়ে নিতে হলে দেশীয় ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া এবং চামড়াজাতীয় পণ্যে বাংলাদেশকে একটি টেকসই সরবরাহকারী রাষ্ট্র হতে হলে দেশীয় কাঁচা চামড়ার প্রক্রিয়াজাতকরণ আন্তর্জাতিক মানের হওয়া জরুরি।’

জানা গেছে, চট্টগ্রামের রিফ লেদার ও ঢাকার এপেক্স ফুটওয়্যারের কাছে এলডব্লিউজি (লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ) সনদ আছে। এরকম আরও ৪০টি ট্যানারি প্রতিষ্ঠান যদি এলডব্লিউজি সনদ পায়, তাহলে বর্তমানে চলমান সংকট কেটে যাবে। কারণ এলডব্লিউজি সনদ থাকলে ব্যাংকগুলো লোন দিতে প্রাধান্য দেয়। পাশাপাশি বড় বড় বায়াররা চামড়া কেনার জন্য অর্ডার দেয়। এতে চামড়ার বিক্রি বাড়বে এবং নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে। 

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সাবেক নেতা মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে এলডব্লিউজি সনদধারী ট্যানারির সংখ্যা একেবারেই কম। আমরা এখন ৩০ জন আড়তদার আছি। এলডব্লিউজি সনদধারী ট্যানারির সংখ্যা বাড়লে আমরা টিকে থাকব এবং চলমান ভোগান্তিও কেটে যাবে।’

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এএম
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে টানা দুই দফা কমার পর ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৭ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভরিতে ৩ হাজার ৩২৫ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯২৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অন্তরা/ 

বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি
ছবি: সংগৃহীত

নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি দেশের প্রবৃদ্ধির গতি শক্তিশালী করবে বলে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় ।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, ‘কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবাখাতের স্থিতিশীল কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদারেও সহায়ক হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তার কারণে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি সমর্থন পাবে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ অর্থবছরে তা ধীরে ধীরে কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এডিবি’র মতে, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজীকরণ, সুশাসনের উন্নয়ন, কর প্রশাসন সংস্কার ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেবাখাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে থাকবে। একই সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে এবং মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

খাদিজা রুমি/

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৩ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এর দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্তরা/

বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে
ছবি: খবরের কাগজ

বর্তমান সরকার দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এসব যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খসড়া নীতিমালায় কোন বিষয়গুলো আনা হবে, তা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইসিটি, ইনোভেশন ও পিআরজিআইএম) এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ ইভি চলাচলে গুরুত্ব বাড়িয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা করা হবে। আর এর জন্য আগামীকাল (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও সবার মত চাওয়া হবে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, আগামীকালের (আজ) আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচল বাড়ানোর ক্ষেত্রে চলমান সমস্যাগুলো কী, তা নিয়েও আলোচনা হবে। এসব সমস্যার সমাধানে করণীয় কী, তা জানতে চাওয়া হবে। চলতি বাজেটে সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো কিভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।  
   
গাড়ি আমদানিকারক ও পরিবেশকরা বলছেন, বিকল্প জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামীতে বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে তা আধিপত্য বিস্তার করবে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্পষ্ট নীতিমালা, কর-সুবিধা, সহজ অর্থায়ন এবং চার্জিং অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) চাহিদা বাড়বে। সরকারকে এ বিষয়ে গুরুত্ব বাড়িয়ে বিভিন্ন সুবিধা দিতে হবে। এতে পরিবহন খাত আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস্ ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মো. হাবিবউল্লাহ ডন খবরের কাগজকে বলেন, পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইভি ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য নিয়ে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক এই যানগুলোকে স্বাগত জানানোর সময় এসেছে। কারণ আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পুরো বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানিতে চলা গাড়ির ব্যবহার ও উৎপাদন পর্যায়ক্রমে শেষ করবে। চলতি বাজেটেও বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানি ও উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে শুল্ক-করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন। 
 
ব্যবসায়ী এই নেতা আরও বলেন, বৈদ্যুতিক যান সংযোজন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন দেওয়া শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে টেসলা ও পোর্শের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন করা হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ)। বর্তমানে দেশে আমদানি হওয়ায় মোট যাত্রীবাহী গাড়ির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই প্লাগ-ইন হাইব্রিড কিংবা হাইব্রিড গাড়ি। 

সূত্র জানায়, ইভি হলো এমন যানবাহন, যা পেট্রোল বা ডিজেলের পরিবর্তে ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে চলে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এবার এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত কিছু আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার বাড়ানো হয়েছে।

দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৈদ্যুতিক যান জনপ্রিয় করার সবচেয়ে বড় বাধা চার্জিং স্টেশনের অভাব। এ ছাড়া উচ্চ মূল্য, অপর্যাপ্ত বাস ডিপো, দুর্বল ব্যাটারি নিরাপত্তা ও পুনর্ব্যবহার এবং বিনিয়োগ ফেরত আসায় অনিশ্চয়তাও এই খাতের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় কর-নীতিতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলোতে সরকার কাজ করা শুরু করেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি এবং চার্জিং স্টেশন-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী খবরের কাগজকে বলেন, প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক যানবাহন চলাচলে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশব্যাপী চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মোট করভার ৩৯.৭৫% থেকে কমিয়ে একদম শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ খাতের ওপর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য কর হার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যাতে নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে এই চার্জিং স্টেশনগুলো চালানো যাবে।

সূত্র আরও জানায়, ইভি চার্জারের আমদানি শুল্ক ৩৯.৭৫% থেকে ১%-এ হ্রাস, ইভি নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর কমানো, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য অটো ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ইভির ওপর ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারে বলা হয়, দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে অটো লোনে নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।  বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড গাড়ি কিনতে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।    

৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.18 140.22 -0.35
ব্রিটেন পাউন্ড     164.02 164.12 -0.42
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.11 85.12 -0.29
জাপানি ইয়েন 0.7578 0.7579 -0.0001
কানাডিয়ান ডলার 86.50 86.52 +0.04
সুইস ক্রোনা 12.66 12.67 -0.1
সিঙ্গাপুর ডলার 94.99 95.07 -0.01
চায়না ইউয়ান     18.0558 18.0569 -0.0247
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2934 1.2937 +0.0058
সৌদি রিয়াল 32.66 32.96 -0.01
আরব আমিরাত দিরহাম 33.40 33.68 -0.01

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/