ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমালোচনার জবাব দিলেন কোম্যান পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ যুবক দুপুরের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস সিন্ধুর পানি না পেলে ‘হাত কেটে নেওয়া হবে’, ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ওরিয়েন্টেশন ও বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল বেরোবিতে রাতেও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন পদোন্নতি বঞ্চিতরা টাইব্রেকারে মরক্কোর রেকর্ড ১৭ দিন পর বিদ্যালয়ে উত্তোলন হলো জাতীয় পতাকা মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ নেইমারের খোঁচার পরই ভেস্তে গেল ভবিষ্যদ্বাণী ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০ নাটোরে আইনজীবীর ওপর হামলা, যুবক গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের মধুশিয়া গর্জন বন রক্ষায় জাবিতে মানববন্ধন ও পাপেট শো ব্রাজিলের কাছে হারলেও শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমছে জাপানের: মোরিয়াসু চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, শপথ নিতে পারবেন না মাকে দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ এক মাদরাসাশিক্ষার্থী ফরিদপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৬ জন নিহত, গ্রেপ্তার ২ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষমতা বাড়ল ট্রাম্পের শেষ ষোলোয় মরক্কোর প্রতিপক্ষ কে? জার্মানিকে হারানোয় প্যারাগুয়েতে ছুটির ঘোষণা নরসিংদীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার সালথায় প্রবাসী স্বামীর অর্থ আত্মসাৎ, স্ত্রী গ্রেপ্তার ঢাকায় অ্যাপোলো ক্লিনিকে আন্তর্জাতিক সিএমই অনুষ্ঠিত সাতকানিয়ায় ব্রাজিলের খেলা দেখে ফেরার পথে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে জখম মাদারীপুর পৌরসভার ১১০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা টাইব্রেকার রোমাঞ্চে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে মরক্কো কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক

বছরের ব্যবধানে সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
বছরের ব্যবধানে সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

‘শজনে ডাঁটা ৩০০ টাকা কেজি! এত দাম কেন? আড়াই শ গ্রাম দেন। বেগুনের কেজি ২৬০ টাকা! আধ কেজি দেন।’ দাম বেশি হওয়ায় মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে এই দুই পদের সবজি কম করে কেনেন তাজমহল রোডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘দাম খুবই বেশি। তাই কম করেই কিনলাম। সরকারের লোকজন তো এসি রুমে বসে মিটিং করেন। বাজারে সব কিছু লাগামহীন। তারা তো তা চোখে দেখেন না।’ এ সময় আকলিমা নামের অপর এক ক্রেতা বলেন, ‘লাউ কিনলাম, ১০০ টাকা পিস। অন্য সবজির দামও বেশি। ধুন্দুল ১০০ টাকা।’ 

শুধু এই বাজারেই নয়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকা। কোনো কোনোটা আবার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। 

খুচরা বিক্রেতারা সবজির দাম বাড়ার পিছনে বন্যার সঙ্গে আড়তদারদের দোষারোপ করছেন। তবে আড়তদাররা বলছেন, খুচরা বিক্রেতারাই বেশি দাম নিচ্ছেন। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরও তো বিভিন্ন জেলা বন্যায় ভেসেছে। তখন এত দাম তো হয়নি। সিন্ডিকেট করেই ভোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দাম আদায় করছেন বিক্রেতারা। যে যার মতো দাম হাঁকাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে অসাধু চক্র বারবার সুযোগ নিচ্ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বাজার ব্যবস্থাপনা এলোমেলো হয়ে যায়। হঠাৎ করে অধিকাংশ জিনিসের দাম বেড়ে যায়। ওই সময়ে বেগুনের কেজি হয় ৮০-১১০ টাকা। কিন্তু বছরের ব্যবধানে গতকাল বেগুনের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাল বেগুন ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, সবুজ গোল বেগুন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা ও লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

অন্য সবজিরও একই দশা দেখা গেছে। গত বছরে পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দুল ৪০-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। ৫০-৬০ টাকার শসা ৮০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৮০-১০০ টাকার করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, ৭০ টাকার ঝিঙা ১০০ টাকা, ৭০ থেকে ৮০ টাকার বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ৬০-৮০ টাকার লাউ ও চাল কুমড়ার পিস ৮০ থেকে ১০০ টাকার কমে মেলেনি। শজনে ডাঁটা ও শিমের দামও বাড়তি। ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল। তবে আগের বছরের মতোই পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৭০-৮০ টাকা, টমেটো, গাজর ১৫০-১৭০ টাকা, ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৫০-৬০ টাকা বা ২০০-২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। সবজির দাম চড়া থাকায় শাকের দামও বাড়তি। বিভিন্ন বাজারে লাউ ও পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা, কলমি শাক, লাল শাক, পালং ও পাট শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা আঁটি বিক্রি হয়, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। 

এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরও বলছে, এক বছরের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। যেমন গত বছরের ২১ আগস্ট  পটোলের কেজি ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ৩০ থেকে ৬৫ টাকার শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশ। ৪০ থেকে ৬০ টাকার ঢ্যাঁড়শ গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৮০ টাকায়, দাম বেড়েছে ৮৯ শতাংশ। ৪০ থেকে ৬০ টাকার চিচিংগা ৫০ থেকে ৭০ টাকায় ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে, দাম বেড়েছে ৪১ শতাংশ। ৫০ থেকে ৮০ টাকার বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়, দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। কাঁচা মরিচের কেজি এক বছর আগে ছিল ২২০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, দাম বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় দেশের অনেক জেলা তলিয়ে গেছে। তার প্রভাবে বাড়ছে সবজির দাম। টাউন হল বাজারের মো. হাবিব, হাতিরপুল বাজারের আলম শেখ ও সেগুনবাগিচা বাজারের আব্দুল বারেকসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারাও খবরের কাগজকে জানান, বন্যায় দেশের অনেক জেলা ডুবে গেছে। এ জন্য ঢাকায় সরবরাহ কমে গেছে। বাড়ছে দাম। আবার আড়তদাররা ইচ্ছামতো দাম আদায় করছেন। তাই তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

তবে আড়তদাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, কৃষক বা ব্যাপারীর কাছ থেকে যে দামে সবজি কেনা হয়, তার সঙ্গে গাড়িভাড়া, কমিশন ও লেবার খরচ বাদ দিয়ে কেজিতে ২ টাকা থাকলে অনেক লাভ। কাজেই আড়তে সিন্ডিকেট করার সুযোগ নেই। বরং খুচরা বিক্রেতারা বেশি লাভ করছেন। তবে একই পণ্য কারওয়ান বাজারে খুচরা পর্যায়ে বিক্রির আগে কয়েকটা হাতবদল হয়। এর ফলে সেসব পণ্যের দাম বাড়ে। তা যাচাই করতে গত বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারের মেসার্স তাওহীদ বাণিজ্যালয় আড়তে গেলে সেখানকার বিক্রয়কর্মী পরিতোষ ও আব্দুল করিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মানিকগঞ্জ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে ৪ টন পেঁপে আনা হয়েছে। তা ১৫ থেকে ২০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে কম আর কী পাওয়া যাবে।’ সেই পেঁপে গতকাল কারওয়ান বাজারেই খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা কেজি ও টাউন হল বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। অন্য সবজিও এভাবে আড়তে অনেক কম দামে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়তমালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বছরের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। এর বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এখনো চাঁদাবাজি একেবারে বন্ধ হয়নি। সিন্ডিকেটমুক্তও যে হতে পারেনি, তা অস্বীকার করা যাবে না। আবার জায়গা নিতেও চাঁদা দিতে হয়, সেটাও সত্য। আবার ভোক্তার কাছে যেতে কয়েক হাতবদল হয়। তার ভাগ ভোক্তাদের ঘাড়ে চড়ে। এ কারণেই পণ্যের দাম বাড়ে।’

ভোক্তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে মানুষ অনেক কিছু আশা করেছিল। কিন্তু বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। সিন্ডিকেটমুক্ত হতে পারেনি সবজির বাজার। যে যার মতো দাম আদায় করছেন।’ 

সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ত্রুটি আছে। ভোক্তা অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন থাকার পরও বাজারে মনিটরিং না থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চক্র। তাই নজরদারি ও খবরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। কোনো সিন্ডিকেট হচ্ছে কি না, তা দেখা দরকার। বাজারে এসব করা হলে ভোক্তারা সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া তথ্য-উপাত্তেরও ঘাটতি আছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ হচ্ছে কি না, তা দেখা দরকার। সরবরাহ কম হলে আমদানির দিকে যেতে হবে। আবার কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কি না, তাও দেখা দরকার। এ জন্য তাদের পণ্য সরাসরি ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রির ব্যবস্থা করা দরকার। এতে ভোক্তারা কম মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন, আবার কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন।’

স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায়।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে। স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নীতিমালাই বহাল থাকবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

অন্তরা/

ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা
ছবি: খবরের কাগজ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যরা পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেন, সমালোচনাও করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারসহ প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন হতে পারে। এসব সংশোধনের পর আজ সোমবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের অর্থবিল চূড়ান্ত হওয়ার কথা আছে।
 
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এই বেশি পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক ক্ষেত্রে কর আরোপ করা হয়েছে। নতুন আরোপিত কর নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের নেতিবাচক সমালোচনা করেছে। 
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমালোচনা এড়াতে এনবিআরকে প্রস্তাবিত বাজেটের জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো সম্ভব কি না, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার, আবাসন খাতে নিবন্ধনের খরচ কমানো, সঞ্চয়পত্রের ওপর আরোপিত কর, শিল্পের অনেক খাতে উৎসে করে ছাড় দেওয়া সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখতে বলেন। 
 
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর খবরের কাগজকে বলেন, সরকার জনকল্যাণে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছে। এই বাজেটের কোনো ধারায় বা কোনো পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাতে সংশোধনী আনা হবে। তবে দেশের উন্নয়নে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। 
 
চলতি অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।
 
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এনবিআর আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা ধার্য করতে পারে বলে জানা গেছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে জানা গেছে। 
 
প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে আয়কর আইনের প্রথম তফসিলে সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধন করে ‘স্বতঃপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ নামে নতুন ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়।
 
প্রস্তাবিত অর্থবিল ব্যাখ্যা করে বলা যায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর বিক্রেতাকে ১৫ শতাংশ মূলধনি কর দেওয়ার ধারা আনা হয়েছে। 
 
এ ক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল বিশ্লেষণ করে বলা যায়, ‘স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার পূর্বে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। তা ছাড়া স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার আগে বাংলাদেশের কোনো আদালত ঘোষণাকারীকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি আইনের এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।’
 
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমালোচনা এড়াতে চূড়ান্ত অর্থবিলে এই ধারা বাতিল করার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই বলে এনবিআর জানিয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থবিলে ব্যাংক হিসাব খোলায় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (ইটিআইএন) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে গ্রাহক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করে বিভিন্ন ব্যাংক। এখন এনবিআর এই ধারা বাতিলের পক্ষেও মত দিয়েছে। 
 
প্রস্তাবিত অর্থবিলে ৫০ লাখ টাকার নিচে বার্ষিক বিক্রি বা টার্নওভার আছে এমন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওপর এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণের ভ্যাট আরোপ করা হয়, যা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ভ্যাট কেটে নেওয়ার কথা অর্থবিলে স্পষ্ট করা হয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে আশঙ্কা থেকে প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিয়ে এনবিআরকে নতুনভাবে ভাবতে নির্দেশ দেন। এনবিআর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই ধারা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছে। 
 
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের জনতুষ্টির দায় আছে। ভোটের জন্য আবারও জনগণের কাছে যেতে হবে। তাই জনগণ যেসব পদক্ষেপের সমালোচনা করবে তা এড়িয়ে যাওয়া ভালো। 

বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে থাকার পর গতকাল রবিবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বেক্সিমকো। ক্রেতা ফেরায় কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। সেই সঙ্গে সার্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস উভয় বাজারে মূল্যসূচক বাড়ল।

এর আগে টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ার। গতকাল লেনদেনের শুরুতে বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতাসংকট দেখা দেয়। এতে টানা ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে যায়। তবে গতকাল ক্রেতা ফেরায় দাম কমার সর্বনিম্ন সীমা থেকে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় উঠেছে বেক্সিমকো।

বেক্সিমকোর এমন ঘুরে দাঁড়ানোর দিনে সার্বিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ১৩৩টির এবং ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৭০টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৩টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩০টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৪টির দাম বেড়েছে। ৬টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ২৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার। ৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইটি কনসালট্যান্ট।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস। কোম্পানিটির শেয়ার দর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬ টাকা ৫ পয়সা বা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স পিএলসির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ন্যাশনাল ফিড মিল, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এসকে ট্রিমস, তুং হাই নিটিং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস লিমিটেড ও রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২০৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৮টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৬১টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে
ছবি: খবরের কাগজ

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার ছিল অত্যন্ত কম। গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে শিল্পকারখানাগুলো পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেনি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে। দেশের কলকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে গ্যাসসংকট সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। 

গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উইমেন এন্টারপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়াল ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন। এতে অংশগ্রহণ করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি ও সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। 

অনুষ্ঠানে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম। 

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে এমএসএমই খাতের অবদান ৩৪ শতাংশ। অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই খাত যত বেশি গতিশীল হবে, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও তত বেশি ত্বরান্বিত হবে। এই খাতের টেকসই সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিদ্যমান শিল্পনগরীগুলোর পাশাপাশি আরও নতুন নতুন আধুনিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি সুদূরপ্রসারী প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরও পার্ক করা হবে।’ 

নাসরিন ফাতেমা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত থাকতে হবে। আমদের উদ্যোক্তারা প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায় অবদান রাখে। তারা ৭০ ভাগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। আমাদের দেশের সমগ্র শিল্পের প্রায় ৯৮ শতাংশ এমএসএমই। ইকোনমিক সেন্সাস ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে এক  কোটি ১৮ লাখ উদ্যোক্তা রয়েছে। এর মধ্যে  ১ কোটি ১০ লাখই এসএমই উদ্যোক্তা। দেশে প্রায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যারা প্রায় ৫০ শতাংস কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং সেখানে মোট এসএমইর প্রায় ৮৭ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এসএমই উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

শিল্পসচিব আব্দুন নাসের বলেন, “এই খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের ফ্যাশন হস্তশিল্প ইন্ডাস্ট্রিতে বিপুলসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা ও নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা শুধু পণ্য উৎপাদন করেন না, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন। আজ বিশ্বজুড়ে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের এই খাতে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, রাজশাহী সিল, নকি পাখা, শীতল পাটি, বাস ও বেতের পণ্য কিংবা আমাদের অসংখ্য দেশীয় এসব পণ্য বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বর্তমান সরকারের নির্বাচন ইশতেহারে ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন দেশীয় শিল্পের বিকাশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দেশীয় ব্রান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার আমরা বিশ্বাস করছি। এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন বাংলাদেশের এসএমই ও ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রায় ২২ লক্ষাধিক উদ্যোক্তাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেবা প্রদান করেছে। যাদের মধ্যে আড়াই লক্ষাধিক সরাসরি সুবিধাভোগী উদ্যোক্তা এবং ৬০ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন ২০০৯ সাল থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা প্রায় ১৫ হাজার উদ্যোক্তার মাঝে বিতরণ করেছে। যাদের অন্তত ২৫ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছে, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে, উদ্যোক্তাদের ব্যবসাকে প্রযুক্তি ও আইসিটি-বান্ধব করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, উদ্যোক্তাদের পণ্যের বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ, প্রচার-প্রসারে কাজ করছে, উদ্যোক্তাদের নীতিগত-সহায়তা প্রদান করছে, বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করছে। তবে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে সারা দেশে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায়, এসএমই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের সদয় মনোযোগ ও সহায়তা দরকার। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের জামানতবিহীন ঋণনীতি থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের মোট ঋণের একটি বড় অংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কাগজপত্রের জটিলতায় তা উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। নারী উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে স্বল্প সুদে এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পণ্য বাজারজাতকরণে কাজ করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এসএমই খাতের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং নতুন নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের এসএমই খাত তৈরি পোশাক খাতের মতোই বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। 

২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ থেকে ২৭ জুন এই তিন দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ২৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৪৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২ দশমিক ৪৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে ২৭ জুন পর্যন্ত জুন মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহে বছরওয়ারি হিসাবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তবে, জুন মাসে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অবদানের ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

রিফাত/