রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল বিশ্ব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এমনই এক অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। গাজায় হামলা শুরুর পর বিভিন্ন ইস্যুতে ইতোমধ্যে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল ও ইরান। অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের ব্যাপ্তি বাড়লে বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও মূল্য দিতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বের মতো বাংলাদেশও ভুগছে। যুদ্ধ বিশ্লেষকরা দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। আর সত্যিই যদি যুদ্ধ বেধে যায় তাহলে আধুনিক সমরাস্ত্রের এক ভয়াবহ প্রদর্শনী হয়ে উঠতে পারে। কারণ দুই দেশের কাছেই রয়েছে শক্তিশালী অস্ত্রের ভাণ্ডার। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর তথ্যমতে, সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরায়েলের থেকে তিন ধাপ এগিয়ে রয়েছে ইরান।
ইসরায়েল ইরানে প্রতিশোধমূলক হামলার পর যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য খাদের কিনারে। এ অঞ্চলের মানুষ পূর্ণমাত্রার ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মুখোমুখি। তারা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এখনই সময় তাদের খাদের কিনার থেকে ফিরিয়ে আনার। আর এ দায়িত্ব যৌথভাবে সবার।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, এটা নির্ভর করছে যুদ্ধ কতটা ছড়িয়ে পড়ে সেটার ওপর। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অন্যান্য দেশ এতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে নিঃসন্দেহে বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর উদ্বেগের ব্যাপার হবে। ইতোমধ্যে লক্ষ করেছি তেলের দাম কিছুটা বাড়তি। সমুদ্রপথ যদি বিপৎসংকুল হয়ে যায়, তাহলে জাহাজে করে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে তেলের দাম অবশ্যই বাড়বে। যুদ্ধ বাড়লে আমাদের জনশক্তি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সম্ভাব্য সংকট উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও আপাতত মনে হচ্ছে না যুদ্ধ বাড়বে, তারপরও এটা আমেরিকার নির্বাচনের বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচার চালাতে পারেন যে, জো বাইডেন মধ্যপ্রাচ্যে হেরে গেছেন। এ ধরনের একটা অবস্থা তৈরি হলে বাইডেন যুদ্ধে জড়াতে পারেন। ইতোমধ্যে ১৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ পাস করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এদিকে ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্র ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি রাশিয়াও শান্তির আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়তি সংঘাত কারও স্বার্থের জন্যই ভালো নয়। রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সখ্যটা বেশি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য খুবই বিপৎসংকুল অবস্থায় রয়েছে। এখন সময় এসেছে পরিস্থিতি ঠিক করার। ইরানের হামলার পর গত রবিবার জরুরি বৈঠক হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও। সেখানে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়া ছাড়া তেহরানের হাতে আর কোনো উপায় ছিল না। ইরান উত্তেজনা বা যুদ্ধ চায় না। তবে যেকোনো হামলার জবাব দেবে তারা। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানায় তারা।
যুদ্ধের সংকট বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে এবং এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খুবই মুশকিল হয়ে যাবে। সে জন্য জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যুদ্ধের পাল্টাপাল্টি জবাব দেওয়া থেকে সংযত হয়ে বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে সবাইকে।