বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আজ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে এই পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তোলার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবছর ২২ এপ্রিল বিশ্বের ১৯৩টি দেশ দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর পালিত হয় ধরিত্রী দিবস বা আর্থ ডে। পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখাই হলো দিনটির মূল লক্ষ্য। পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখতে দিনটিকে ঘিরে চলে নানান আয়োজন। জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য দিবসটি পালন করা হয়।
এই ধরিত্রীতে এসেছে করোনা। ধরিত্রীকুলের মানবজাতি এক বিপন্ন সময়ের মুখোমুখি হলেও তা থেকে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে এ দেশের আবহাওয়া ব্যাপক বৈরিতার মুখোমুখি হচ্ছে। সম্প্রতি দুবাইয়ে বন্যার পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈরী প্রভাবের এক ভয়াবহ দৃশ্য। বাংলাদেশেও কিছু কিছু অঞ্চলের মানুষ পুড়ছে তীব্র তাপপ্রবাহে। ধরিত্রী যেন এক অদ্ভুত খেলায় মেতেছে। কোথাও খরা, কোথাও বন্যা। জলবায়ুর এ বিরূপ প্রভাব যেন বৈরিতারই বহিঃপ্রকাশ। ধরিত্রী শব্দটি এসেছে ধরণী বা ধরা থেকে। যার সুন্দর একটি অর্থ হলো পৃথিবী। পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সর্বসমেত ধার্য করা একটি দিবস হলো ধরিত্রী দিবস। ১৯৭০ সালে জলবায়ু সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাস্তায় নেমে এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই কোটি মানুষ। সেই থেকেই দিবসটি সামনে এসেছে। তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এখন প্রতিবছর ধরিত্রী দিবস পালন করে।
ধরিত্রীকে ক্ষয় করা হচ্ছে অনেকাংশে মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ দিয়ে। ঊর্ধ্বমুখী জনসংখ্যা মাটি, পানি, বায়ুদূষণ, উজাড় করা হচ্ছে বৃক্ষ, নদনদীর প্রবাহ থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে- কী ক্ষয় নেই ধরিত্রীর বুকে। এসবই আজ ধরিত্রীকে টিকিয়ে রাখার এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। প্লানেট বনাম প্লাস্টিক- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে ধরিত্রী দিবস ২০২৪ পালন করছে বিশ্ববাসী। সবুজ পৃথিবী ভেঙে মানুষ যখন ইট-পাথরের কলোনি তৈরিতে ব্যস্ত, তখন ধরিত্রীর বৈরিতাও থেমে নেই। ধরিত্রীও দেখিয়ে দিচ্ছে পৃথিবীকে জীবের বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারলে প্রাণিকুলও চরম সংকটের মুখোমুখি হবে। পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগও তেমনটা চোখে পড়ছে না, উজাড় করা হচ্ছে বনভূমি। এমনই পরিস্থিতিতে বারবার বলা হচ্ছে, ধরিত্রীকে বাঁচানোর জন্য উদ্যোগ নিন। পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিভিন্ন আইন। তার পরও সংকট থেমে নেই আজকের এই পৃথিবীতে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেহারে বেড়েছে, সে অনুপাতে প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা কম। বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন এক বাসযোগ্য পৃথিবী আমরা সবাই প্রত্যাশা করছি।