গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানিতে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতদিন এ শুল্ক গড়ে ১৫ শতাংশ ছিল। ডোনাল্প ট্রাম্প এই ব্যবস্থাকে বলেছেন, রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্কের ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোয় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ, রপ্তানি ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্প বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এখন ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকপণ্য রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি ও জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি কর্মরত। ট্রাম্প সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে বাড়তি শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে হলে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি কমে যাবে। এতে বহু শ্রমিক বেকার হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এত চরম কিছু আশা করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ব্যবসা ও হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য ভয়াবহ হবে বলে মনে করেন তারা। একইভাবে শ্রীলঙ্কার তৈরি পোশাক খাতও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্ষতির মধ্যেই ভারতের সামনে খুলে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে কেবল বাংলাদেশের বাণিজ্যেই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যার প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বে বাণিজ্যব্যবস্থায় তৈরি হবে অস্থিরতা। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমাদের নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ বিশ্বকে এক বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য বাজারেও মন্দা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এর প্রভাব শুরু হয়েছে। বাংলাদেশকে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল নিতে হবে। বিশেষ করে (ইইউ, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যে) এ দেশের উদ্যোক্তা বা রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে সরকারি বিশেষ সহায়তা বাড়াতে হবে। সর্বোপরি, এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি খাত মিলে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।