গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী, শিশু, সাংবাদিকসহ অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এই সম্পাদকীয় প্রকাশের আগেই হয়তো ইসরায়েলি আগ্রাসনে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসার পর থেকে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন চলছে। ভারী যুদ্ধ সরঞ্জামের সহায়তায় তারা নিয়মিতভাবে গোলাবর্ষণ করে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করছে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও এ থেকে রেহাই পাননি। হুমকির মুখে পড়েছে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষের জীবন।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫০ হাজার ৭০০ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ মানুষ। অন্য সূত্র অনুসারে নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজারের কম নয়। নিঃসন্দেহে এটি গণহত্যা। ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল দিনের পর দিন এই অপরাধ করে চলেছে। সংবাদ ভিডিওতে শিশু হত্যার যে চিত্র বিশ্ববাসী দেখেছে, সেই নৃসংশতাকে শতাব্দীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে অভিহিত করা যায়।
ইসরায়েলের এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নিপীড়িত গাজাবাসীর ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’ বৈশ্বিক ধর্মঘটের ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একযোগে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা ব্যাপক হারে ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আমরা অনতিবিলম্বে নৃশংস এই হামলা ও গণহত্যা বন্ধের লক্ষ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি। ফিলিস্তিনের এখনকার বাস্তবতা শুধু আরব কিংবা ফিলিস্তিনি মুসলমানদের জন্য উদ্বেগজনক নয়; সমগ্র মানবজাতির জন্য উদ্বেগের।
ফিলিস্তিনি সমস্যার জন্য প্রধানত দায়ী যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। তারাই অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাদেরই শান্তি স্থাপনে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। বন্ধ করতে হবে ইসরায়েলি আগ্রাসন।
ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর চলমান নৃশংসতা, বিশেষত নারী এবং শিশুদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যে নিষ্ঠুরতা ঘটছে, অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তার অবসান হওয়া উচিত। মানবতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ অব্যাহতভাবে চলতে পারে না। আমরা এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য ফিলিস্তিনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসতে পারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর বাস্তবায়নের জন্য আমরা এখনই উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি। মনে রাখা দরকার, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলতে থাকলে বিশ্বে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না।
নৃশংসতা নয়, গণহত্যা নয়; শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই হোক জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের লক্ষ্য। অনতিবিলম্বে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।
বায়ুদূষণে ঢাকা শহর মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন