যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে একে অপরকে ঘায়েল করার লড়াইয়ে নেমেছে বিশ্বের বৃহত্তর দুই অর্থনীতির দেশ চীন ও আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করেছে বেইজিং। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন বাণিজ্যযুদ্ধ বাংলাদেশসহ প্রতিযোগী দেশগুলোর সামনে নতুন সুযোগ নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্য দেশগুলোর ওপর আরোপ করা পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করলেও বিশ্ববাণিজ্যের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে কোণঠাসা করতে তৎপর ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই প্রেক্ষিতে শুল্কযুদ্ধের আবহে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে কৌশলী হয়েছে বেইজিং।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র (আইটিসি) জানিয়েছে, চলমান শুল্কযুদ্ধে বৈশ্বিক বাণিজ্য ৩ থেকে ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক জিডিপি কমতে পারে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম দুই দেশের এই বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোর সূচকে পতন শুরু হয়েছে। পতনশীল বাজারে বিনিয়োগকারী ও বেশির ভাগ কোম্পানি মুনাফা হারাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের প্রবণতা পণ্যের চাহিদা কমিয়ে দাম বাড়িয়ে দেবে।
এ ছাড়া ডলারের দাম ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গেছে। বাণিজ্যযুদ্ধের এমন এক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বাণিজ্য সংস্থার পরিচালক রেবেকা গ্রিনস্প্যান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর ‘বিপর্যয়কর প্রভাব’ ফেলতে পারে, যার কারণে দেশগুলো বিদেশি সহায়তা বন্ধের চেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে।
নতুন শুল্কনীতি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাল্টা শুল্ক স্থগিত করায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশ সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা বলছেন, উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অধিকাংশ পণ্যে চীনের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা থাকবে না। ফলে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ সরাবে। সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ স্থানান্তরিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে মন্দাভাব থাকবে এতে করে স্বল্প মেয়াদে পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য সোনালি সময় আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে চীনের ব্যবসা নিতে হলে। এ জন্য ব্যবসা সহজীকরণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সরকারকে এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিনিয়োগ নেওয়ার ক্ষেত্রগুলোতে যেমন বিশেষায়িত পোশাক, কৃত্রিম তন্তু, ইলেকট্রনিকস, জুতা, খেলনাসামগ্রীর উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। তবে তার আগে পাল্টা শুল্ক থেকে রেয়াত পেতে কূটনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় গুরুত্ব দিতে হবে।