অধিকাংশ চালক-আরোহী এমনকি পথচারীরাও ট্রাফিক আইন মানছেন না। রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কের মোড়ে সিগনালব্যবস্থা ধরে রাখতে হচ্ছে লাঠি-বাঁশি কিংবা হাত উঁচিয়ে। কোথাও আবার সিগনাল কার্যকর করতে সড়কের মুখে রশি টানিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাখতে হচ্ছে। এরপরও ব্যারিকেড ভেঙে ছুটে চলছে একশ্রেণির চালক। সিগনালে অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য অনেকেরই থাকছে না। ট্রাফিক পুলিশকে অনেক সময় এ নিয়ে চালক ও আরোহীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা করতে দেখা যাচ্ছে। খবরের কাগজের একাধিক প্রতিবেদক গত এক সপ্তাহে রাজধানীর অন্তত ২০টি পয়েন্টে অবস্থান করে দেখেছেন অধিকাংশ সড়কের ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বিশেষ করে প্রধান সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য এখন ট্রাফিকের সব আইন বা শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। গাড়িচালক, রিকশাচালক, পথচারী প্রায় সবাইকে ট্রাফিক আইন বা নিয়ম ভেঙে চলতে দেখা গেছে। সড়কে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে। তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পারাপার, সংকেত না দিয়ে লেন পরিবর্তন, অহেতুক হর্ন বাজানো, সড়কের মাঝখানে গণপরিবনে যাত্রী ওঠানো-নামানো, ফুটওভারব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহারে পথচারীদের অনীহা। এ ছাড়া আরও কিছু বিশৃঙ্খলা সড়কে নানাভাবে দুর্ঘটনার সৃষ্টি করছে। ট্রাফিক পুলিশ, দায়িত্ব পালনরত ছাত্র কারও কথার তোয়াক্কা করছেন না চালকরা। ফলে কোনো যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এর ফলে প্রচণ্ড জট লেগে যাচ্ছে বিভিন্ন সড়কে।
গত ১ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে রাজধানীতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এ সময়ে মোট ২৫ হাজার ৩০৫টি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ১০১টি গাড়ি ডাম্পিং ও ১ হাজার ৩২৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৪টি মামলা হয়েছে। ১২৯টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৫৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা অনেকটাই দায়ী। প্রতিদিন অনিয়মের কারণে এ বাহনটি ডাম্পিং করা হচ্ছে, তার পরও শৃঙ্খলায় আনা যাচ্ছে না। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো মূল সড়কে চলাচলের জন্য চালক ও যাত্রী উভয়ের সমান দোষ। এ ছাড়া পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের প্রবণতা খুব কম। এ জন্য ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সড়কের মোড়ে মোড়ে জটলা করে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা যায় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের। মোটরসাইকেলচালকদেরও ফুটপাত দিয়ে যে যার মতো আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তে দেখা যায়। এতে করে সড়কে বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চালক-আরোহী, পথচারী সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে সচেতন করতে হবে। আইন অমান্য করলে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলার পথ মসৃণ করতে হবে। রাজধানীর বেশির ভাগ ফুটপাত হকারদের দখলে। এগুলো উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বোপরি সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে সব পক্ষকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। তাহলেই গতিশীল সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।