রাজধানীর গণপরিবহন তথা বাসগুলো বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তায় চলাচল করে থাকে। এতে রাজধানীতে যেমন যানজট বাড়ছে, সেই সঙ্গে মানুষের কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, যানজটের কারণে বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিদিন ৩২ লাখ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ঢাকার কিছু অকার্যকর রুটে চলাচল করা বাসগুলো রাজধানীর যানজটের ‘বড় কারণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট র্যাশনালাইজেশন প্রকল্প চলছে পাঁচ বছর ধরে।
বেসরকারি বাসমালিকদের তীব্র বিরোধিতায় মুখ থুবড়ে পড়া এই প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। তাই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরামর্শে (আইএমইডি) সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এ প্রকল্প বন্ধ করে দিতে চায়। তবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বলছে, এ প্রকল্পের মাধ্যমেই ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। রাজধানীর সড়কে চলাচল করা বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির বাসগুলোকে এক কোম্পানির আওতায় চলতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এ সিদ্ধান্তে বাস রুট র্যাশনালাইজেশন প্রকল্পটি নতুন গতি পাবে বলে ধারণা করেছেন সড়ক পরিবহন ও নগর পরিকল্পনাবিষয়ক গবেষকরা।
এদিকে আইএমইডির পরামর্শে সড়ক বিভাগ প্রকল্পটি বন্ধে তৎপর। তারা এ প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়াতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে পরামর্শ দিয়েছে। চলতি আগস্ট মাসেই তারা সড়ক বিভাগে চিঠি দিয়ে জানায়, পাঁচ বছর ধরে চলা প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২৬ শতাংশ। ডিটিসিএ এই প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। এ চিঠি পাওয়ার পর থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ প্রকল্প বন্ধ করতে তোড়জোড় শুরু করেছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি লক্ষ করা যায়। এখন আইএমইডি বলছে, প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো ছাড়া বাস রুট র্যাশনালাইজেশন প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়ানো যাবে না। এতেই সংকটে পড়েছে ডিটিসিএ এবং সড়ক পরিবহন-মহাসড়ক বিভাগ।
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুন নেওয়াজ খবরের কাগজকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর কর্তৃত্ব ডিটিসিএর। তারা যে প্রকল্পটি নিয়েছে এটি ছাড়া রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো দায়। গত মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সে কথার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এ প্রকল্পে কোথাও কোনো গলদ থাকলে তার দায়দায়িত্ব প্রকল্প কর্মকর্তাদের। এতে বাসমালিকদের দায় আছে। তাদের জবাবদিহির আওতায় না এনে প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে, এটি কোনো সমাধান হতে পারে না।
ঢাকা সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিশৃঙ্খলা। এসব ঠেকাতে হলে সরকারকে যৌক্তিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। ঢাকার বাস সার্ভিস একক কোম্পানির আওতায় এনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে গণপরিবহনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে যানজট, ভাড়ায় প্রতারণা ও বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে আসবে। সরকার পরিবহনসংশ্লিষ্ট সব স্টেক হোল্ডারকে নিয়ে একটি যুগোপযোগী গণপরিবহনব্যবস্থা উপহার দিতে সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।