সংলাপ লিখন
সুপ্রিয় ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে আরও ২টি ‘সংলাপ লিখন’ নিয়ে আলোচনা করা হলো।
সংলাপ: ৯। সম্প্রতি পড়া একটি বই সম্পর্কে দুই বন্ধুর কথোপকথন রচনা করো।
উত্তর: জুয়েল: শুভ সকাল, নাদিম। কলেজে কখন এলে?
নাদিম: শুভ সকাল তোমাকেও। এইতো কিছুক্ষণ আগে এলাম।
জুয়েল: কী ব্যাপার, তোমাকে খুব খুশি খুশি লাগছে। কারণটা জানতে পারি?
নাদিম: হ্যাঁ, আজ আমি অনেক খুশি। গত রাতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত উপন্যাস পড়লাম। বইটি আমার অনেক ভালো লেগেছে।
জুয়েল: রবীন্দ্রনাথের তো বিখ্যাত অনেক উপন্যাস রয়েছে। তার মধ্যে তুমি কোনটি পড়েছ?
নাদিম: ‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি। এটি একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
জুয়েল: হ্যাঁ, আমিও পড়েছি। উপন্যাসের নায়িকা ‘বিনোদিনী’ বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই বিধবা হয়ে যায়। ঔপন্যাসিক ‘বিনোদিনী’ চরিত্রটি মনের মাধুরি মিশিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
নাদিম: আমিও তাই মনে করি। কেননা বিনোদিনী বুদ্ধিমতী। প্রভুত্ব যেন তার স্বভাবসিদ্ধ। তার কাছে উপন্যাসের নায়ক মহেন্দ্রের বালিকাবধূ আশালতা নিতান্তই অপরিণত ও ম্লান।
জুয়েল: উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রের মনোজগৎ ক্রমাগত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে নানা বাঁকে।
নাদিম: যা-ই হোক, ঘটনা পরম্পরা নয় হৃদয়ের ঘাত-প্রতিঘাতই সবকিছুর নিয়ামক, উপন্যাসটিতে তা-ই বিধৃত হয়েছে।
জুয়েল: তুমি মনে হয় জানো, ‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি বাংলা কথাসাহিত্যে একটি নতুন ধারার সৃষ্টি করেছিল।
নাদিম: হ্যাঁ। শুধু তাই নয়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এর চেয়ে পূর্ণতর সৃষ্টি আর কিছুই হতে পারে না।’
জুয়েল: এটি আমার পড়া অন্যতম একটি উপন্যাস; যা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
নাদিম: আচ্ছা, এ বিষয়ে অন্য একদিন আলোচনা করো। এখন ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
সংলাপ: ১০। ছাত্র জীবনে সময়ের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: ছাত্র: আসসালামু আলাইকুম স্যার। কেমন আছেন?
শিক্ষক: ওয়ালাইকুম আসসালাম। বেশ আছি। তোমার কী সংবাদ?
ছাত্র: ভালো, স্যার। আমি সময়ের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাই। দয়া করে বলবেন কি?
শিক্ষক: খুব ভালো কথা। সময় হলো মানবজীবনের মূল্যবান সম্পদ। আর সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সময়ের সদ্ব্যবহার।
ছাত্র: ছাত্র জীবনে আমি কীভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করব?
শিক্ষক: সুন্দর প্রশ্ন করেছ। তোমার দায়িত্ব ঠিকমতো পড়াশোনা করা। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন সমাপ্ত করা। তা না করে সময়কে অবহেলা করলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবে। তোমার লক্ষ্য অনুযায়ী না পড়লে ভবিষ্যতে সফল হতে পারবে না। পৃথিবীতে যারা মহৎ, তারা সময়কে যথাসময়ে কাজে লাগিয়েছেন।
ছাত্র: স্যার। আপনার কথাগুলো আমার খুব ভালো লাগছে। আমি এখন থেকে সময় সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হব।
শিক্ষক: খুব ভালো। আসলে সময় নদীর স্রোতের মতো নিজস্ব গতিতে চলে। তাই সবাইকে সময়ের মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য শেষ করতে হয়। তুমি মনীষীদের জীবনীগুলো পড়বে, আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
জাহ্নবী