অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীন আমেরিকা’র (Grameen America) মাধ্যমে ইসরায়েলের জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশনকে (Jewish Community Foundation) ৭০ হাজার ডলার অনুদান দেওয়ার যে খবর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত পোস্টগুলোতে একটি ভিডিও সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে স্ক্রিনরেকর্ডিং-এর মাধ্যমে জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশন লস অ্যাঞ্জেলসের ওয়েবসাইটে গ্রামীণ আমেরিকার নামের একটি ওয়েবপেজ দেখানো হয়। যেখানে গ্র্যান্ট বা অনুদান ৭০ হাজার ডলার লেখা রয়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইসরায়েলকে ড. ইউনূসের গ্রামীণ আমেরিকার ৭০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ‘জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশন লস অ্যাঞ্জেলস’ গ্রামীণ আমেরিকাকে ২০১৮ সালে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের পিকো ইউনিয়ন এবং বয়েল হাইটস এলাকার কম আয়ের নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক শিক্ষা ও দলভিত্তিক ক্ষূদ্রঋণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে বিনিয়োগ।
অর্থাৎ, ঘটনাটি পুরো বিপরীত।
অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে সংযুক্ত ভিডিওটিতে প্রদর্শিত জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশন লস অ্যাঞ্জেলসের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করলে তাতে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ আমেরিকার নামে ২০১৮ সালে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদানের উল্লেখ পাওয়া যায়।
অনুদানের উদ্দেশ্য হিসেবে লেখা রয়েছে- গ্রামীণ আমেরিকার ‘গ্রামীণ ইন লস অ্যাঞ্জেলস’ প্রোগ্রাম লস অ্যাঞ্জেলসের পিকো ইউনিয়ন এবং বয়েল হাইটসের স্বল্প-আয়ের উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক শিক্ষা এবং দল-ভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করা এবং কাজ করা।
এ বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশন লস অ্যাঞ্জেলসের উক্ত ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বরে ‘Jewish Community Foundation of Los Angeles Awards Nearly A Half-Million Dollars To Help People Overcome Barriers To Employment’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দ্য জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশন লস অ্যাঞ্জেলস’ ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলারের রেকর্ড-সর্বোচ্চ পরিমাণ সাধারণ কমিউনিটি অনুদানের ঘোষণা করেছে। এই অনুদান সাতটি সংস্থাকে দেওয়া হবে, যারা স্বল্প-আয়ের মানুষদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা অতিক্রম করতে, কাজ খুঁজে পেতে এবং এমনকি তাদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ করতে সহায়তা করে। এই অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের কর্মজীবনে ফিরে আসতে, তাদের জীবন পরিবর্তন করতে এবং স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে সুযোগ তৈরি করে।
২০১৮ সালের সাধারণ কমিউনিটি অনুদানপ্রাপ্ত যে সংস্থাগুলো রয়েছে তারা প্রত্যেকে দুই বছরে ৭০ হাজার ডলার করে পেয়েছে। এই তালিকায় গ্রামীণ আমেরিকাও রয়েছে।
‘গ্রামীণ ইন লস অ্যাঞ্জেলস’ এর জন্য গ্রামীণ আমেরিকা অনুদান পায়। পিকো ইউনিয়ন এবং বয়েল হাইটসের স্বল্প-আয়ের উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক শিক্ষা এবং দল-ভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ এবং উন্নতির জন্য এই অনুদান দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে উল্লিখিত ৭০ হাজার মার্কিন ডলার গ্রামীণ আমেরিকা দেয়নি বরং গ্রামীণ আমেরিকাকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, উল্লিখিত জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশনে গ্রামীণ আমেরিকার কোনো অনুদান দেওয়ার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে একাধিক এমন সংস্থার খোঁজ পাওয়া যায়, যেগুলোর সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তারা ফিলিস্তিনে কাজ করে। যেমন- গ্রামীণ ফাউন্ডেশন, ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার, গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকোল ফাউন্ডেশন।
সব বিষয় অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ইসরায়েলের জিউস কমিউনিটি ফাউন্ডেশনকে দেওয়া ৭০ হাজার ডলারের অনুদানের দাবি মিথ্যা। সূত্র: রিউমর স্ক্যানার