ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন ও অন্তত তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন ও তার স্ত্রী নূরজাহান আক্তার হীরার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাতেনের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, তিনি সরকারি চাকরিজীবী হয়ে ঘুষ-দুর্নীতি মাধ্যমে ২ কোটি ২৯ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নিজের ৭টি ব্যাংক অ্যকাউন্টে ১৩ কোটি ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫১১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এসব অর্থ-সম্পদ গোপনে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের তফসিলভুক্ত ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নূরজাহান আক্তার হীরার বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি তার স্বামী আব্দুল বাতেনের সহযোগিতায় ৮৫ লাখ ৪১ হাজার ৮০৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নিজের ৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৭০২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এসব অর্থ-সম্পদ গোপনে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের তফসিলভুক্ত ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ মামলায় আব্দুল বাতেনকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাষ্ট্র ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বাতেন ও তার স্ত্রীর দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ডিআইজি আব্দুল বাতেন ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত।