প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সফরে আজ বুধবার চীন যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে তার প্রথম কোনো দেশে দ্বিপক্ষীয় সফর। সফরে দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ কীভাবে বাড়ানো যায় সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা, পানি ব্যবস্থাপনা, রোহিঙ্গা ইস্যু ও সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
প্রধান উপদেষ্টা চীনের পাঠানো একটি বিমানে আজ বুধবার (২৬ মার্চ) ঢাকা থেকে রওনা হবেন। আগামী (২৭ মার্চ) তিনি চীনের হাইনান প্রদেশে অনুষ্ঠেয় বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখবেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের বৈঠক হবে। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে ৫৭ জনের একটি প্রতিনিধিদল থাকবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন রয়েছেন প্রতিনিধিদলে।
সফরসূচি অনুযায়ী ২৮ মার্চ বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় উভয় দেশের মধ্যে অন্তত ৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও কয়েকটি ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। সমঝোতা স্মারকের মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াবিষয়ক সহযোগিতা, সামরিক সহযোগিতা ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা রয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু ঘোষণা আসতে পারে। এর মধ্যে ঋণের সুদহার কমানোর বিষয়টিও থাকতে পারে। সফরকালে একই দিনে তিনি হুয়াওয়ে কোম্পানির উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করবেন। ২৯ মার্চ চীনের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় পিকিং ইউনিভার্সিটি ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। সফর শেষে বেইজিং থেকে চীনের একটি বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।
প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন। তবে সেই বার্তা কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের জন্য কি না, তা স্পষ্ট করেননি পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, এই সফরে চাওয়াটা বহুমাত্রিক। চীন আমাদের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমরা নতুন নতুন ক্ষেত্র খুঁজে চলেছি।
তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে জসীম উদ্দিন বলেন, ‘উভয় দিক থেকে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার আগ্রহ আছে। সেই ব্যবস্থাপনার আওতায় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কথার সুযোগ আছে।’ সামরিক বিষয়ে আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে চীনের সঙ্গে সামরিক বিষয়ে যে আলোচনা আছে তার সাধারণ একটা আলোচনা হবে।’ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মায়ানমারের ভেতরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে চীনের একটা মতামত আছে। আশা করছি, সেটা আমরা শেয়ার করতে পারব।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর নিয়ে কথা বলেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, চীন সফর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সফর। এটা একটা মাইলফলক সফর হবে। ২৮ তারিখ সকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হবে। এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ফোকাস থাকবে, চীনা ইনভেস্টর, চাইনিজ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, চাইনিজ এনার্জি কোম্পানিসহ দেশটির টপ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলা।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঠিক এক মাস আগে ৮ জুলাই বেইজিং সফরে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ জুলাই সফর শেষ করার কথা থাকলেও এক দিন আগে দেশে ফেরেন তিনি। সফরে ২১টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।