ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে লাল-হলুদের ঝড় বিশ্বকাপের নির্মম বাস্তবতা উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা? এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ৬ মিনিটে দুই গোল, মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে ফ্রান্স দুর্দান্ত বুনু, এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধ গোলশূন্য এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিলেন বুনু ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতলে ব্যাংক হলিডের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর ফ্রান্স ও মরক্কোর শুরুর একাদশে আছেন যারা হলুদের ফাঁদে ১৮ তারকা ফ্রান্স-মরক্কো লড়াই অনলাইনে দেখবেন যেভাবে কেন গুগলে নিজের নাম সার্চ দিতে বললেন আর্লিং হালান্ড? দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংলিশ ডিফেন্ডার মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৬ এএম
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

আগামী রমজানের আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান।

গতকালের ভাষণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন তা জানান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফ্যাসিবাদের পতনের পর কীভাবে অর্থনীতি, সংস্কার কার্যক্রমসহ অন্যান্য খাতে কাজ করেছেন তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো একযোগে সম্প্রচার করেছে।

গতকাল রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা। এর আগে গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তিনি। এ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শহিদ পরিবারের সদস্য এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যত বড় সংঘাত, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার সব ঘটনার নেপথ্যের কারণ ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কোনো দল যদি গায়ের জোরে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে তার চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে, তা জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা ইতিহাসের কলঙ্কিত কোনো অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না।

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের নির্বাচন যেন আনন্দ-উৎসব, শান্তি-শৃঙ্খলা, ভোটার উপস্থিতি এবং সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার দিক থেকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে সে জন্য আগামীকাল থেকে আমরা সবাই মানসিক প্রস্তুতি নেব ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করব।’

প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ যে আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে তার বড় কারণ হলো আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের ঐতিহাসিক অবদান। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নারী ভোটাররা যেন দেশের সর্বত্র নির্দ্বিধায় আনন্দ-উৎসাহ সহকারে তাদের ভোট দিতে পারেন এটা নিশ্চিত করতে চাই। এবার যেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ঢল নামে আমরা সেই লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণে গত ১৫ বছর নাগরিকরা ভোট দিতে পারেননি। এবারের নির্বাচনে জীবনে প্রথমবার ভোট দেবেন এরকম ভোটাররা নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তাদের এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য। এর মধ্যে নতুন নারী ভোটার থাকবেন, নতুন পুরুষ ভোটার থাকবেন। এর মধ্যে এমন ভোটার থাকবেন যারা ১৫ বছর আগেই ভোট দিতে পারতেন কিন্তু জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেননি। এর মধ্যে অনেকে আসবেন যারা ১০ বছর আগে, ৫ বছর আগে ভোট দিতে পারতেন কিন্তু পারেননি। নির্বাচনের দিনকে আমরা ঈদের উৎসবের মতো করতে চাই।’ 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিদিন আলাপ করুন, আপনার এলাকায় ভোটদান ব্যবস্থা কেমন হলে সুন্দর হয়, কেমন হলে আনন্দমুখর হয়, সেটা আগে থেকে ঠিক করার জন্য। নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজের ভিত্তি রচনা হবে এবারের নির্বাচনে। তার জন্য প্রস্তুতি নিন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকেই অবগত আছেন, একটা গোষ্ঠী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে দেশের বাইরে বসে এবং ভেতরে থেকে নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, তারা যেন নির্বাচনকে সংঘাতময় করে তোলার কোনো রকমের সুযোগ না পায়। মাথায় রাখবেন, পরাজিত শক্তি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। কিন্তু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন সফলভাবে করা গেলে অপশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরামর্শ নেওয়ার জন্য আমরা প্রযুক্তির সাহায্য নেব। এ জন্য একটি অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছি। দ্রুত এই অ্যাপটি চালু হবে। আপনারা সব পরামর্শ, সব মতামত, সব আশঙ্কা এবং উদ্যোগের কথা এই অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের জানাবেন, যা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেব ও সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেব।’

সরকারপ্রধান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে আপনাদের নির্বাচনি ইশতেহারে, আপনাদের প্রতিশ্রুতি-প্রতিজ্ঞা-পরিকল্পনা কোনো কিছু থেকেই যেন তরুণরা বাদ না পড়েন। নারীরা বাদ না পড়েন। মনে রাখবেন, যে তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন তারা বিশ্বকেও বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন আসছে। যদি আপনি আপনার নির্বাচনি এলাকা থেকে দূরে বসবাস করেন, তবে এখন থেকে নিয়মিত নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শন করুন। যাতে সেরা ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে আপনি প্রস্তুত হতে পারেন। যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের এই অতি মূল্যবান অধিকার ফিরে পেলাম, ভোটটা দেওয়ার আগ মুহূর্তে যেন তাদের চেহারা আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে।’

তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি বেশি দূরে নয়। নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতেই ভোটের দিন এসে পড়বে। বহু বছর আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি। এবার আমরা সবাই ভোট দেব। সবাই যেন বলতে পারি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে দেশকে রওনা করানোর জন্য আমি আমার ভোটটা দিয়েছিলাম। আমার ভোটেই দেশটা সে পথে রওনা হতে পেরেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে সব নাগরিকের কাছে আমার আহ্বান, আসুন, ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রথম বড় পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হই।’ 

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এবার আমাদের সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের পালা। নির্বাচন অনুষ্ঠান। আজ এই মহান দিবসে আপনাদের সামনে এ বক্তব্য রাখার পর থেকেই আমরা আমাদের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করব। আমরা এবার একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করব।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন অন্তর্বর্তী সরকার থেকে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে দেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করব। তবে নির্বাচনের আগে আমাদের অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ।’

তিনি বলেন, ‘তিনটি দায়িত্ব ছিল: সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র-শ্রমিক-জনতা দেয়ালে দেয়ালে যে প্রত্যাশার কথা লিখে রেখেছিল তার অন্যতম ফোকাস ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার। সে লক্ষ্যে আমরা বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিলাম। তাদের মধ্যে প্রধান সব সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ পেশ করেছে সেগুলোর মধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য বহু সংস্কার আমরা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা, নাগরিক অধিকারের সত্যিকারের বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সামর্থ্যের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ভবিষ্যতের কোনো সরকারই যেন আর ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে। রাষ্ট্রকে এমনভাবে মেরামত করতে হবে যাতে কখনো কোথাও ফ্যাসিবাদের লক্ষণ পাওয়া গেলেই সেটিকে যেন তাৎক্ষণিকভাবে সেখানেই নিমূর্ল করা যায়। আর যেন ১৬ বছরের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়। বহু মানুষকে প্রাণ দিতে না হয়। আমাদের যেন আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয়।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিচারকাজ দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে। বিচারের আনুষ্ঠানিক শুনানি পর্বও শুরু হয়েছে। ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞে যারা জড়িত তাদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে। বিচার প্রক্রিয়া ও এর ফলাফল ক্রমান্বয়ে মানুষের কাছে প্রকাশিত হতে থাকবে। বিচারের পুরো প্রক্রিয়া দেশবাসীর কাছে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখা হচ্ছে।’

প্রধান উপদেষ্টা তার সরকারের বিভিন্ন কাজের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা হয়েছিল। মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল আমাদের জন্য সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। এই জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়েছে, যা বিগত ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। মুদ্রাবাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। গত অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। রপ্তানি আয় প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত ১১ মাসে বৈদেশিক পাওনাদারদের পাওনা সুদ ও আসল বাবদ ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি ডলার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, যা এযাবৎ কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের বকেয়া দায় পরিশোধের পরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এ বছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছরে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, আমরা সেটা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ড্রাই ডক লিমিটেডকে নিউ মুরিং টার্মিনাল কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরব আমিরাত পুনরায় ভিসা চালু করেছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রথমবারের মতো মাল্টিপল অ্যান্ট্রি ভিসা চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে জাপানে অন্তত ১ লাখ বাংলাদেশি তরুণ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছি।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে দলীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ আর অমানুষিক নির্যাতন চলত। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল টর্চার সেল। সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, আমরা আর কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন কোনো রাজনীতি দ্বারা কলুষিত হতে দেব না, যা পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করে ও তরুণদের জীবন ধ্বংস করে। বাবা-মায়েরা যেন সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়ে আর কখনো শঙ্কায় না থাকেন।’ 

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ এবং আহত যোদ্ধাদের ৭৭৫টি শহিদ পরিবারকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতাবাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। রক্তাক্ত জুলাই ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তরুণদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। 

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার আমলে দলীয় বাহিনীতে পরিণত হওয়া ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে স্বচ্ছ কাচের ঘরে। হাজতখানায় বন্দিদের মানবিক সেবা নিশ্চিত করা হবে, অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ যেন জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম ডিভাইসসহ বডি-ক্যামেরা পরেন তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ যেন আর কখনোই কোনো আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেআইনি সমাবেশে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের স্বীকৃত পাঁচটি ধাপ অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেন, ‘গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম প্রধান শর্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। অতীত ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রথম এবং সবচাইতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার এসব বাধা অপসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সমালোচনাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। স্বৈরাচারী সরকার আমলে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, যা পরে সাইবার নিরাপত্তা আইন রূপে আবির্ভূত হয়েছিল। আমরা এই আইনটি বাতিল করেছি।’ 

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯০ জন।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত দুজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের ও অপরজন খুলনা বিভাগে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৭ হাজার ৭৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৭৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৯৯৭ জন নারী।

এদিকে ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ও মারা যান ৪১৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

এসএন/

হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত এক দিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে সরাসরি কোনো মৃত্যু হয়নি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৮১৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৬ জনে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৯৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯২ হাজার ৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৮৮ হাজার ৪১৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এসএন/

মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, ওয়াকার, হিয়ারিং এইড, আই গ্লাসসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যোগে এবং 'ইআরইডিএমসিএম' (EREDMCM) প্রকল্পের আওতায় এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, এএফও, এফও, হ্যান্ড স্প্লিন্ট, ওয়াকার, স্পেশাল জুতা, হিয়ারিং এইড এবং আই গ্লাস বিতরণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, যুব গ্রুপের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি কেবল সহানুভূতি নয়, তাদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত। তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ; তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়নের পূর্ণতা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ইআরইডিএমসিএম প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. ইকবাল হোসেন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অধিকার বাস্তবায়নে প্রকল্পটি কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় কমিউনিটিকে সহায়ক উপকরণ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএন/

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের প্রাথির্তা বৈধ এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সব আইনি বাধা দূর হয়। এরপর আদালতের রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব আইনি বাধা দূর হয়।

এলিস/এএফ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।

শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

এসএন/