জুলাই জাতীয় সনদ জারির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দল। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার যে সিদ্ধান্ত, সেটির নিন্দা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে দলগুলো।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে মগবাজারে জামায়াতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমমনা আট দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচন এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে যে জট লেগে আছে, সেটির সুষ্ঠু সমাধান হবে, এমনটাই আশা করেছিল সমমনা দলগুলো। কিন্তু ভাষণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জাতির মুক্তির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’
জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, ‘জুলাই সনদ জারির জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ। তবে এই সনদের কার্যকারিতার জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অপরিহার্য। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হবে বলে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা যেন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন, সেই আহ্বান জানাচ্ছে দলগুলো। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে কিছু বিষয় আছে যা বিবেচনায় নেওয়া যায়। আবার কিছু বিষয় আছে, যেটির কারণে ভালো দিকগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে।’
প্রধান উপদেষ্টা গণভোটের বিষয়ে দুটি ‘ঠুনকো যুক্তি’ দিয়েছেন অভিযোগ করে ডা. তাহের বলেন, ‘প্রথমত টাকা সাশ্রয়ের কথা বলা হয়েছে। সাশ্রয় কিছুটা হবে। তবে জাতির প্রয়োজনেই যেমন বাজেট হয়, বাজেট খরচও হয়। সে হিসেবে গণভোটে যেটি খরচ হবে, সেটি উপকারের চেয়ে নগণ্য। আর দ্বিতীয়ত একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হলে গণভোটে জনগণ যেগুলো ‘হ্যাঁ’ করবে, সেগুলো বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হবে। নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আট দলের পূর্বঘোষিত দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।’
শফিকুল ইসলাম/সুমন/