রমজান অর্থ উত্তাপ, তাপের উচ্চমাত্রা ও পুড়িয়ে দেওয়া। রমজান আমাদের যাবতীয় গুনাহ পুড়িয়ে দেয়। সাবান যেমন ময়লা কাপড় পরিষ্কার করে ফেলে, তেমনি রমজান আসে কাদাময় অন্তরকে পবিত্র করতে।
রমজান—এ যেন এক বসন্ত। বসন্ত এসে যেমন পৃথিবীকে রাঙিয়ে দেয়, ফুলে ফুলে সাজিয়ে তোলে, তেমনি রমজান আসে আমাদের সাজিয়ে দিতে। পরিশুদ্ধ করতে। এ ইবাদতের বসন্ত আমরা যেন অবহেলা না করি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন, ‘তোমাদের দ্বারে বরকমতময় রমজান এসেছে।’ এরপর গুরুত্ব বোঝাতে বলতেন, ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য রোজা পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করে দেওয়া হয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাত, যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে এ কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে মূলত সব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো।’ (নাসায়ি, হাদিস: ২১০৬)
ঈমান আনার পর বান্দার জন্য অবশ্যই পালনীয় একটি বিষয় হলো রোজা। এ রোজাকে আমরা অনেকভাবে বলে থাকি। কেউ বলি রোজা, কেউ বলি সাওম কেউ বা আবার সিয়াম বলে থাকি। তবে কোনটা সঠিক?
সবই সঠিক, ভাষা ভিন্ন। কোনো শব্দই ভুল নয়। রোজা মূলত ফারসি শব্দ। রুজে থেকে নির্গত। আরবিতে রোজাকে সাওম বা সিয়াম বলা হয়। সাওম একবচন আর সিয়াম বহুবচন। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার, পাপাচার এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা, সওম বা সিয়াম।
আমরা যখন একাধিক রোজার কথা বলতে যাব তখন বলব সিয়াম। রমজানে যেহেতু একাধিক রোজা রয়েছে, তাই এ একাধিক রোজার ক্ষেত্রে আমরা সিয়াম ব্যবহার করব। রমজান মাসে সিয়াম শব্দটা খুব বেশি ব্যবহার হয়। কারণ রমজানে একাধিক রোজা রয়েছে।
সিয়াম বলার আরও কারণ হতে পারে, রমজান ছাড়া অন্য সময় মানুষ একসঙ্গে এত রোজা আদায় করে না। সুযোগ হয় না। সঙ্গে সঙ্গে রাতে দীর্ঘ ইবাদতের জন্য দাঁড়ায় না। ফজিলতও নেই এত। একটা ফরজ ৭০টি ফরজ সমতুল্য হয় না। তবে একটি রোজা বোঝাতে গেলে সাওম বা রোজা বলাই সঠিক।
আল্লাহতায়ালা সব ইবাদত-বন্দেগি থেকে সিয়ামকে আলাদা মর্যাদা দান করেছেন। হাদিসে কুদসিতে আছে, ‘আল্লাহ বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য কিন্তু সিয়াম তার ব্যতিক্রম। তা শুধু আমার জন্য। আমিই তার প্রতিদান দেব।’ (নাসায়ি, হাদিস: ২১০৬)
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন তোমাদের আগের মানুষের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে করে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
আল্লাহতায়ালা রোজা বা সাওম শুধু আমাদের জন্য ফরজ করেননি। করেছেন আমাদের আগের মানুষদের জন্যও। আদম (আ.) থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রায় সব নবি-রাসুলের ওপর কম-বেশি রোজা ফরজ ছিল।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক