আল্লাহর নবি ইউনুস (আ.) দেশ ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সময় নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনি মাছের পেটে বন্দি হন। এই বিপদের সময় তিনি বারবার একটা দোয়া পড়েছিলেন। যা দোয়ায়ে ইউনুস নামে পরিচিত। আর সে দোয়ার বরকতেই আল্লাহ তাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেন।
দোয়া ইউনুস
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
দোয়া ইউনুসের বাংলা উচ্চারণ
লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।
দোয়া ইউনুসের বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র মহান, আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারী। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭ )
এই দোয়ার ফলে মাছের পেট থেকে আল্লাহ তাকে মুক্তি দেন। কোরআনে আছে, ‘সে যদি আল্লাহর মহিমা আবৃত্তি না করত, তা হলে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে মাছের পেটে থাকতে হতো।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৩-১৪৪)
আরও পড়ুন: যানবাহনে উঠার দোয়া
দোয়া ইউনুস পড়ার ফজিলত
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, এই দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা কি শুধু ইউনুস (আ.)-এর জন্যই প্রযোজ্য, না সব মুসলিমের জন্য? জবাবে নবি (সা.) বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য দোয়াটি বিশেষভাবে কবুল হলেও এটা সব মুসলিমের জন্য সব সময় কবুলের ব্যাপারে প্রযোজ্য। তুমি কি কোরআনে পাঠ করোনি, ‘ওয়া কাজালিকা নুনজিল মুমিনিন’ আর এভাবেই আমি আল্লাহ মুমিনদের উদ্ধার করে থাকি।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
যেকোনো বিপদ-মসিবত, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান এই দোয়া ইউনুসের সাহায্যে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে, আল্লাহ তা কবুল করেন।’ অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
আরও পড়ুন: দোয়া কুনুত
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক