ইসতেখারা কখন করতে হয়?
ইসলামের নির্দেশনা হলো যেকোনো নতুন কাজ শুরু করার আগে ইসতেখারা করে নেওয়া। আর কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়, তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ইসতেখারা করার বিকল্প নেই। সুন্নতের অনুসরণে ইসতেখারা করলে মহান আল্লাহ বান্দাকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত প্রদান করেন। তাই নতুন যেকোনো কাজ কিংবা কাজের সঠিক সিদ্ধান্ত পেতে ইসতেখারা কীভাবে করতে হবে, তাও বলে দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি (সা.)। সুতরাং বিয়ে-শাদি, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা বিদেশ-সফরের বিষয়ে ইস্তেখারা করতে হয়।
ইসতেখারা করার নিয়ম
যেহেতু ইসতেখারা করা সুন্নত আর ইসতেখারা মানুষের জন্য অনেক কল্যাণের; সেহেতু ইসতেখারা করার জন্য উত্তম হলো—
- নামাজের শুরুতে ভালোভাবে অজু করে নেওয়া।
- ইসতেখারার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নামাজ পড়তে হয়। এ ক্ষেত্রে সুরা ফাতেহার পরে যেকোনো সুরা পড়া যায়।
- নামাজের সালাম ফেরানোর পর আল্লাহতায়ালার বড়ত্ব ও মর্যাদার কথা মনে করে একান্ত বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া পড়া।
জাবের বিন আবদুল্লাহর আল-সুলামি (রা.) বর্ণনা করে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তার সাহাবিদের সব বিষয়ে ইসতেখারা করার শিক্ষা দিতেন; যেভাবে তিনি তাদের কোরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন।
তিনি বলতেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের উদ্যোগ নেয়, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে। অতঃপর বলে (আরবি দোয়া)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ـ أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ ـ فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ـ أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ ـ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি ইলমিকা ওয়াস্তাক দিরুকা বি কুদরাতিকা; ওয়া আসআলুকা মিন ফাজলিকাল আজিম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু, ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু; ওয়া আন্তা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন্কুন্তা তালামু আন্না হা জাল আমরা (এখানে নিজের কাজের কথা মনে মনে উল্লেখ করবেন) খাইরুনলি ফি দ্বীনি, ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি (অথবা বলবে, আ জিলি আমরি ওয়া আজিলিহি); ফাকদিরহু লি ওয়া ইয়াসসিরহু লি, সুম্মা বারিকলি ফিহি; ওয়া ইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আম (এখানে নিজের কাজের কথা মনে মনে উল্লেখ করবেন) শাররুন লি ফি দ্বীনি ওয়া মাআশি ওয়া আ কিবতি আমরি (অথবা বলবে আ জিলি আমরি ওয়া আজিলিহি); ফাসরিফহু আন্নিম ওয়াসরিফনি আনহু, ওয়াকদির লিয়াল খাইরা হাইসু কানা সুম্মারদ্বিনি বিহি।
বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্যে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আপনার শক্তির সাহায্যে শক্তি ও আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা আপনিই ক্ষমতাবান; আমি ক্ষমতা রাখি না। আপনি জ্ঞান রাখেন, আমার জ্ঞান নেই এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ, আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ (নিজের প্রয়োজনের নামোল্লেখ করবে অথবা মনে মনে স্মরণ করবে) আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য (কিংবা বলবে আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে) কল্যাণকর হলে, আপনি তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন। সেটা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তাতে বরকত দিন। হে আল্লাহ,আর যদি আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে (কিংবা বলবে, আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য) অকল্যাণকর হয়, তবে আপনি আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে দিন এবং সেটাকেও আমার থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্ধারণ করে রাখুন এবং আমাকে সেটার প্রতি সন্তুষ্ট করে দিন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৩৮২)
ইসতেখারার নামাজ
দুই রাকাত নামাজ পড়বে। তারপর নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা করবে অর্থাৎ আল্লাহর হামদ পড়বে, তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পর দরুদ পড়বে। তারপর ইসতেখারার দোয়া পড়বে।
ইসতেখারার শর্ত
- নিয়ত করা (মনে মনে)।
- প্রয়োজনীয় সকল চেষ্টা করা। অর্থাৎ ওয়াসিলা গ্রহণ করা।
- আল্লাহর হুকুমে খুশি থাকা।
- শুধু হালাল কিংবা বৈধ বিষয়ে ইসতেখারা করা।
- তওবা করা, অন্যায় করে কিছু গ্রহণ না করা, হারাম উপার্জন না করা, হারাম মাল ভক্ষণ না করা।
- যে বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে অর্থাৎ বিষয়টি তার ইচ্ছার অধীনে, সেসব বিষয়ে ইসতেখারা না করা।
লেখক: আলেম ও অনুবাদক