এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই একটা রেকর্ডে বাংলাদেশ থাকছে সবার ওপরে। দুই টাইগার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম এবার পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। ভারতে হতে যাওয়া এবারের আসরে ১০ দল মিলিয়ে যে ১৫০ জন ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে সাকিব-মুশফিকেরই কেবল এ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। বিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথরাও এখানে তাদের পেছনে। শুধু বিশ্বকাপ সংখ্যা নয়, সাকিব-মুশফিক এবারের আসরে নামছেন সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাকেও সঙ্গী করে।
২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা মুশফিক ২০০৭ সালে নিজের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেন। এরপর প্রতিটি আসরেই দলের অংশ ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে, ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে ও ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসরে খেলেছেন। সেই ধারাবাহিতকায় থাকছেন এবারের আসরেও। সাকিবও তাই। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর প্রতিটি ওয়ানডে বিশ্বকাপেই খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। এই দুজনের মতো তামিম ইকবালেও এবার পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা হতে পারতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নানা নাটকীয়তায় বিশ্বকাপের অংশ হতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার।
এবারে মোট ৩০ জনের বেশি ক্রিকেটার প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে নামবেন। বাংলাদেশের আট ক্রিকেটারের এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা হবে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ক্রিকেটার নতুন। তবে সাকিব-মুশফিকের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতা এখানে বিষয়টা ব্যালেন্সড করবে অনেকটাই। মাহমুদউল্লাহ এবার নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলবেন। যেমনটা খেলবেন বিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথ, কেন উইলিয়ামসনরা।
টানা বা সবমিলিয়ে পাঁচটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড আসলে খুব বেশি ক্রিকেটারের নেই। ইমরান খান, অর্জুন রানাতুঙ্গা, অরবিন্দ ডি সিলভা, ওয়াসিম আকরাম, ইনজামাম উল হক, সনাথ জয়াসুরিয়া, ব্রায়ান লারা, শিবনারায়ন চন্দরপল, জ্যাক ক্যালিস, মুত্তিয়া মুরালিধরন, রিকি পন্টিং, টসাম ওডিও, স্টিক কিটোলো, মাহেলা জয়াবর্ধনে, শহিদ আফ্রিদিরা রয়েছেন এই তালিকায়। তাদের সঙ্গে যোগ হচ্ছে সাকিব ও মুশফিকের নাম। যারা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কিংবদন্তি।
সবচেয়ে বেশি ছয়টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছেন মাত্র দুজন ক্রিকেটার। তারা হলেন শচীন টেন্ডুলকার ও জাভেদ মিয়াঁদাদ। তবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা রিকি পন্টিংয়ের দখলে। ১৯৯৬ থেকে ২০১১, টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে মোট ৪৬টি ম্যাচ খেলেছেন এই কিংবদন্তি। তার নেতৃত্বে ২০০৩ ও ২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে অজিরা। এই রেকর্ডে পন্টিংয়ের পরের অবস্থানে শচীন টেন্ডুলকার। ১৯৯২ থেকে ২০১১ আসর পর্যন্ত ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি। ২০১১ সালে শচীন টেন্ডুলকার তার সর্বশেষ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নব হওয়ার স্বাদ নিতে পেরেছিলেন।
এবারের আসরে যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯টি করে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সাকিব ও মুশফিকের। ২৬ ম্যাচ খেলে তাদের পরের অবস্থানে কোহলির নাম। তিন নম্বরে থাকা স্টিভেন স্মিথ খেলেছেন ২৪টি ম্যাচ। ২৩ ম্যাচ খেলে উইলিয়ামসন চারে। পাঁচে থাকা ট্রেন্ট বোল্ট খেলেছেন ১৯ ম্যাচ।