মানুষের হাসি বা দীর্ঘশ্বাস শুনে তার আবেগ শনাক্ত করতে পারে– এমন একটি যন্ত্রের পেটেন্টের আবেদন করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মেটা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে পরিচালিত এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি ব্যবহারকারীর মনের অবস্থা খুব সহজে বুঝতে পারবে।
গত ২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস থেকে মেটার এই নতুন আবেদনটি প্রকাশিত হয়। আবেদনে বলা হয়েছে, এই যন্ত্র ব্যবহারকারীর অবস্থান ও দৈনন্দিন কথাবার্তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এর পর এটি ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থার একটি রূপরেখা তৈরি করবে। মানুষের কথা বলার ধরন এবং অন্যান্য আচরণ বিশ্লেষণ করে এটি আবেগের সূচকগুলো নির্ধারণ করতে পারবে।
এই যন্ত্র ব্যবহারকারীদের তাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য জানাবে। যেমন এটি হয়তো কাউকে বলবে যে চলতি মাসে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পেটেন্ট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান প্যাটেন্টলাইজ বিষয়টি প্রথম সবার সামনে আনে। তারা একে মেটার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পেটেন্ট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর, অবস্থান এবং অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য টানা সংগ্রহের বিষয়টিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।
মেটার এই উদ্যোগ নিয়ে অধিকারকর্মীরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, মেটা হয়তো ব্যবহারকারীদের আবেগ ব্যবহার করে ক্ষতিকর কোনো কাজ করতে পারে। ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এই তথ্য কাজে লাগিয়ে তারা ব্যবহারকারীদের পছন্দ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রচার করে। মেটার মোট আয়ের ৯৭ শতাংশের বেশি আসে এই বিজ্ঞাপন থেকে।
প্রযুক্তিবিষয়ক অধিকার রক্ষাগোষ্ঠী ফেয়ারপ্লের নির্বাহী পরিচালক জশ গোলিন এ বিষয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের আবেগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞাপন থেকে মুনাফা করতে চায় মেটা। এটি তাদের ব্যবহারকারীদের জীবনের প্রতিটি দিক পর্যবেক্ষণের একটি বড় পরিকল্পনার অংশ। তরুণদের জন্য এটি বিশেষভাবে চিন্তার বিষয়। তাই তথ্য সংগ্রহ সীমিত করতে দ্রুত গোপনীয়তা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
পেটেন্ট আবেদন বা বাজারে না আসা পণ্য নিয়ে মেটা সাধারণত কোনো মন্তব্য করে না। এ বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।