সকালের রোদটা কুয়েত সিটির কাচঘেরা ভবনগুলোর গায়ে পড়ে ঝিলমিল করছিল। আলি ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ফোনটা হাতে নেয়। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট—সবখানেই রাতের খবর জমে আছে। কুয়েতের বেশির ভাগ তরুণের দিন শুরু হয় ঠিক এভাবেই। আধুনিক শহরের জীবনে স্মার্টফোন যেন নীরব সঙ্গী।
নাশতা খুব ভারী নয়। কফি, কখনো চা, সঙ্গে হালকা কিছু। আলি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে, তার বন্ধু ফাহাদ যাবে অফিসে। কেউ কেউ আবার সকালে জিমে যায়, কারণ শরীরচর্চা কুয়েতি তরুণদের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয়। বাইরে গরম থাকলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জিম, ক্যাফে আর অফিসে কাজ করতে তেমন কষ্ট হয় না।
দুপুরের দিকে শহর আরও ব্যস্ত হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, অফিসের মিটিং, অনলাইন কাজ—সব মিলিয়ে তরুণদের সময় দ্রুত চলে যায়। কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সিং করে, কেউ স্টার্টআপ নিয়ে স্বপ্ন দেখে। তেলের দেশ হলেও কুয়েতের তরুণরা এখন শুধু সরকারি চাকরির পেছনে ছুটছে না; প্রযুক্তি, মিডিয়া আর সৃজনশীল কাজেও তাদের আগ্রহ বাড়ছে।
বিকেল নামলেই গল্পের মোড় বদলায়। গরম একটু কমলে আলি আর তার বন্ধুরা বের হয়। কেউ যায় সমুদ্রের ধারে, কেউ শপিং মলে। কুয়েতের মলগুলো শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং তরুণদের আড্ডাখানা। কফির কাপ হাতে গল্প, হাসি আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চলে দীর্ঘ সময় ধরে।
সন্ধ্যার পর পরিবারকে সময় দেওয়া কুয়েতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আলি বাসায় ফিরে মা-বাবার সঙ্গে রাতের খাবার খায়। দিনের গল্প শেয়ার করে, খবরের আলোচনা হয়। পরিবার আর বন্ধু—এই দুইয়ের মাঝেই কুয়েতের তরুণদের জীবন ঘোরে।
রাত বাড়লে আবার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা। কেউ ক্যাফেতে, কেউ কারও বাসায়। গান শোনা, ফুটবল দেখা, ভিডিও গেম খেলা—রাতটা কেটে যায় হাসি আর কথায়। কেউ কেউ আবার নিজের স্বপ্ন নিয়ে একা বসে ভাবে—বিদেশে পড়াশোনা, নতুন ব্যবসা কিংবা নিজের পরিচয় গড়ার কথা।
এভাবেই কুয়েতের তরুণদের একটি দিন শেষ হয়। আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তারা সময় কাটায়—কখনো ব্যস্ততায়, কখনো আড্ডায়, আবার কখনো নীরব স্বপ্নের ভেতর দিয়ে।