কৃষক আজিজুল ফকির। ইউটিউবে ভিডিও কনটেন্ট দেখে উৎসাহী হয়ে কচুর লতিচাষ শুরু করে আজ তিনি স্বাবলম্বী। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাপাড়া এলাকায় তার বাড়ি। তিনি আব্দুল করিম ফকিরের ছেলে। আজিজুলের পূর্বপুরুষরাও কৃষিকাজ করতেন। তাদের পথ অনুসরণ করেই তিনি কৃষিকাজে যুক্ত রয়েছেন।
বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদের পাশাপাশি ইউটিউবে কচুর লতি চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। এরপর থেকে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত কচুর লতি চাষ করছেন এবং সফলতাও পেয়েছেন।
এ বছরও তিনি বসতবাড়ির পাশের ৪০ শতাংশ জমিতে কচুর লতি চাষ করেছেন। ফসলের যত্নে নিজেকে সর্বক্ষণ ব্যস্ত রাখাই তার প্রধান কাজ। রোপণ থেকে শুরু করে উত্তোলন পর্যন্ত সব কাজ একাই সামলান। টিএসপি, ইউরিয়া ও জৈব সার ব্যবহার করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন।
আজিজুল ফকির জানান, ‘এ বছর কচুর লতি চাষে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। জমিতে আরও ৪০-৫০ হাজার টাকার মতো কচুর লতি রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর প্রথম অবস্থায় তেমন লাভ না পেলেও এ বছর বেশ ভালো ফলন হয়েছে।’
তিনি জানান, অন্যান্য কৃষিপণ্য চাষ করে তিনি এতটা লাভবান হতে পারেননি। কিন্তু গত দুই বছর ধরে কচুর লতি চাষ করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। তবে এবার জমির পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা কম। জানুয়ারি মাসে বীজ ফেলে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে ফসল তুলে বাজারে বিক্রি করা যায়। বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস এই সবজির মৌসুম থাকে।
তবে এক সফল কৃষি উদ্যোক্তা হয়েও সরকারি সহায়তা না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন আজিজুল ফকির। তিনি বলেন, ‘আমাকে এখন পর্যন্ত কৃষি অফিস থেকে কোনো সাহায্য করা হয়নি। আমাদের যেসব পরামর্শ পাওয়া উচিত তা আমি পাইনি। কৃষি কর্মকর্তারা যদি সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন, তাহলে আরও আগ্রহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারতাম।’
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি এলাকায় একজন করে কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকেন। তারা কৃষকদের খোঁজ নেন। তবে অনেক সময় কৃষক নিজেরা যোগাযোগ না করলে আমরা জানতে পারি না। তাই মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কৃষক কচুর লতি চাষ করছেন, তিনি যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা তাকে সহযোগিতা করব। এটাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা পরামর্শ দিতে এবং সহায়তা করতেই এখানে আছি। আমি তার খোঁজ নিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করব।’