মিনি কক্সবাজার খ্যাত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলে এখন থেকে পর্যটকবাহী নৌকায় লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ টিউব রাখতে হবে। এই ঘোষণার পর বেকায়দায় পড়েছেন অনেক মাঝি। গত রবিবার নৌকা কম চলায় ভ্রমণ করতে না পেরে মলিন মুখে বাড়ি ফিরেছেন অনেক পর্যটক।
এর আগে নলডাঙ্গার হালতি বিলে বাবা-মায়ের সাথে বেড়াতে গিয়ে নৌকাডুবিতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
গত শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হালতিবিল পয়েন্টে এ বিষয়ে মাঝিদের সাথে মতবিনিময় করে উপজেলা প্রশাসন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, পর্যটকবাহী নৌকায় লাইফ জ্যাকেটের পাশাপাশি লাইফ টিউব রাখতে হবে। নৌকায় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটক বহন করা যাবে না। এছাড়া সন্ধ্যার পর কোন পর্যটকবাহী নৌকা বিলে চলাচল করবে না।
পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌকা ভ্রমণের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান আকরামুল হক জানান, তিনি এর আগেও হালতিবিলে গিয়ে মাঝিদের সাথে কথা বলেছেন। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় প্রতিটি নৌকায় লাইফ জ্যাকেটের পাশাপাশি লাইফ টিউব রাখতে বললেও মাঝিরা তা মানেননি। তাই দুটি শিশু নৌকাডুবিতে মারা গেলো।
সোমবার হালতিবিল পয়েন্টে পর্যটকের ভির থাকলেও চলেনি নৌকা। তবে মাঝে মাঝে দু'একটি নৌকা পর্যটকদের নিয়ে বিলে ভ্রমণে গেলেও লাইফ জ্যাকেট কম থাকায় তারা বেশি পর্যটক নিতে পারেনি। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক পর্যটক।
পর্যটক নাইম জানান, তারা বিধিনিষেধের কথা জানতেন না। বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে এসে বেকায়দায় পড়েছেন। লাইফ জ্যাকেট বা লাইফ টিউব না থাকায় তাদের নৌকায় তুলতে পারছেন না মাঝিরা। এতদূর থেকে আসার পর নৌকা ভ্রমণ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি।
মাঝি আবু বকর খবরের কাগজ-কে জানান, দুই বছর আগে ডিসি অফিস থেকে কয়েকজন মাঝিকে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হলেও অনেকে তা পাননি। আবার প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালিয়ে লাইফ জ্যাকেট কেনার সামর্থ নেই অনেকের। এই অবস্থায় গতকাল অনেকে দু-চারটি লাইফ জ্যাকেট আর লাইফ টিউব কিনলেও তার মতো অনেকেই তা কিনতে না পারায় নৌকা বের করেননি। এতে একদিকে যেমন তাদের আয় বন্ধ, অপরদিকে পর্যটকদেরও সমস্যা। তার দাবি প্রশাসন থেকে তার মত কম আয়ের মাঝিদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হোক।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খবরের কাগজ-কে জানান, এ ব্যপারে তিনি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবেন। সম্ভব হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।