ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার প্রায় ২০টি চরের অন্তত ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীর পানি এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়দের সতর্ক ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। অন্যদিকে করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার কমেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে গাইবান্ধা পাউবো এসব তথ্য জানিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সদর উপজেলার কামারজানি, ঘাগোয়া, ফুলছড়ি উপজেলার খলায়হারা, খোলাবাড়ি, রতনপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, হরিপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে। এসব এলাকার আমন ধানের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার প্রায় ২০টি চরের অন্তত ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গ্রামীণ রাস্তাগুলোয় কাদা হয়ে যাওয়ায় মানুষদের যাতায়াত করতে অসুবিধা হচ্ছে।
তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাত থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত থেকে উজানের ঢল আসছে। এভাবে পানি বাড়লে বড় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম মোবাইলফোনে জানান, গতকাল দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। মাইকিং করা হচ্ছে। বন্যার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক মোবাইলফোনে বলেন, বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। বেলা ১২টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীতে পানি বাড়লেও বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।