রাজশাহীতে চলতি বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৬৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে পানিতে ভাসছে সবুজ, সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বর্ণিল এই নগরী। প্লাবিত হয়েছে নগরীর নিচু এলাকাগুলো, বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, রাজশাহীতে সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টি হয়েছে ২৫৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার। চলতি মাসের পাঁচদিনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৬ দশমিক ৯ মিলিমিটার।
২৪ ঘন্টায় ১৬৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা হেলেন খান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বলা হয়। মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বলতে বোঝায় ২৩ থেকে ৪২ মিলিমিটার। ভারী বৃষ্টি হলো ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার। আর বৃষ্টি যদি ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হয়, তবে তা অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমানে রাজশাহীসহ সারাদেশে ভারী বর্ষণ চলছে।
এদিকে, সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে পানিতে ভাসছে রাজশাহী নগরী। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। পাড়া-মহল্লার ঘরে ঢুকেছে পানি। আকস্মিক এ ভারী বর্ষণে বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর উপশহর, বর্ণালী মোড়, মুসলেম হাইস্কুলের মোড়, হেতেমখাঁ, ষষ্টিতলা, তেরখাদিয়া, ডাবতলাসহ বেশ কিছু সড়কে হাঁটুসমান পানি জমেছে। এছাড়া বর্ণালী মোড় থেকে সাহেববাজারের দিকে নেমে যাওয়া রাস্তাটিতে কোমর সমান পানি জমেছে। কাদিরগঞ্জ থেকে দড়িখড়বোনা-রেলগেট সড়কেও হাঁটুসমান পানি জমেছে। আবার নগরীর লক্ষ্মীপুর, ভদ্রাসহ মূল শহরের বাইরের এলাকাগুলোতেও হাঁটু থেকে কমর পর্যন্ত পানি জমে গেছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে, নগরীর হেতেমখাঁ, ষষ্টিতলা, তেরখাদিয়া, ডাবতলা, মুসলেম হাই স্কুলের মোড়সহ বেশ কিছু এলাকার বাড়িতে পানি ঢুকেছে। এতে জলাবদ্ধতায় আটকে পড়েছে মানুষ।
রিকশাচালক সাজদুর রহমান বলেন, 'দৃষ্টিনন্দন সড়ক বলে সারাবিশ্বে রাজশাহীর সুনাম রয়েছে। কিন্তু একদিনের বৃষ্টিতেই সব রাস্তা ডুবে গেছে। রাস্তার কোথায় ভাঙা আছে বুঝতে না পেরে ধারণার উপর রিকশা চালাচ্ছি। আবার কোথাও হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি থাকায় রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু রিকশা না চালানো সংসার চলবে কিভাবে। তাই কষ্ট হলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছি।'
নগরীর ডাবতলা এলাকার বাসিন্দা তবিবুর রহমান বলেন, 'বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে যাওয়ায় সারারাত ধরে তা অপসারণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। একদিক দিয়ে পানি বের করলে অন্যদিক দিয়ে আবার ঢুকে যাচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় রাস্তার পানি ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। এর মধ্যে কষ্ট করেই আমাদের থাকতে হচ্ছে। এখন পানি বের না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই।'
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, বৃষ্টিপাত আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর স্বাভাবিক হতে পারে।