চারদিনের ভারী বর্ষণে সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, বসতবাড়ি, মৎস্যঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্তমানে বৃষ্টি কমলেও জলাবদ্ধতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে এ জেলার লক্ষাধিক মানুষ।
শনিবার (৭ অক্টোবর) সাতক্ষীরা পৌরসভা, ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর, বল্লী, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বিলে রোপা আমনসহ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে একাধিক মৎস্যঘেরসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। এতে ভেঙে পড়েছে ওইসব এলাকার যোগাযোগ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা নেই। সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ দখল করে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে বছরের প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে।
সাতক্ষীরার গদাইবিল এলাকার ভ্যানচালক আব্দুর রহিম বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে শহরের অর্ধেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার বসতবাড়িও তলিয়ে গেছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে দিচ্ছি না। রাস্তাঘাটের যে অবস্থা, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ধুলিহর ইউনিয়নের শিমুল হোসেন জানান, তার বসতবাড়িতে পানি উঠে গেছে। পানি সরানোর কোনো উপায় নেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার চেয়ে বেতনা নদীর বেড়িবাঁধ উঁচু। এজন্য সবসময় জলাবদ্ধতার মধ্যেই থাকতে হয়।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, এখানে জলাবদ্ধতা বড় একটি সমস্যা। জলাবদ্ধতা দূর করতে নদী ও খাল খনন প্রকল্প চালু রয়েছে। খনন কাজ শেষ হওয়ার পর জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে এ জেলার মানুষ।