গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী।
অতিবৃষ্টিতে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলায় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ভারী বর্ষণে শহরের নগুয়া, পুরান কোর্ট, বত্রিশ, হয়বতনগর, শোলাকিয়া, কানিকাটা, উকিলপাড়া, খরমপট্টি, আখড়াবাজার, গাইটালসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বসতবাড়িতে পানি উঠে যায়। বৃষ্টির পানিতে ঘরের আসবাবপত্র তলিয়ে বিছানাপত্র ভিজে যায়। এতে ওইসব এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দাদের বৃহস্পতিবার সারারাত জেগে কাটাতে হয়। শহরের পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় ওইসব এলাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
শনিবারও ওইসব এলাকায় ঘর থেকে পানি নামেনি। জলাবদ্ধতা দূর করতে অনেকেই মটর পাম্প ব্যবহার করেছেন। এরপরও বেশ কিছু বাড়িতে পানি জমে আছে। যে এলাকাগুলো অপেক্ষাকৃত নিচু এবং অনেক আগে বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে সেইসব বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে।
শনিবার (৭অক্টোবর) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। বিকেল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
শহরের নগুয়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান খান চৌধুরী সোহেল বলেন, দুইদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে পানি ঘরে প্রবেশ করেছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বাসা বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে।
শহরের চর শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা সাইফ উদ্দিন বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও সন্ধ্যার পর থেকে আবারো বৃষ্টি শুরু হয়। আজকেও বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ঘর থেকে এখনো নামেনি।
এদিকে শনিবারও সারাদিন পানি জমে ছিল জেলার সড়ক ও জনপদ, কর কমিশনারের কার্যালয়, ভোক্তা অধিকার কার্যালয়, জেলা মৎস অফিস, শিক্ষা অফিস, রেকর্ড রুম, সদর সার্কেলের কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, শিশু একাডেমি, সরকারি মহিলা কলেজ সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ে। এসব কার্যালয়ের মধ্যে অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের নালা নেই। আবার কিছু এলাকায় নালা থাকলেও তা ভরাট হয়ে গেছে।
পৌরসভার বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহর ঘেঁষে নদী থাকলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার কারণে প্রতিবছর তাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে জেলার হাওরেও পানি বাড়তে শুরু করেছে।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পারভেজ মিয়া বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভারী বৃষ্টির কারণেই শহরের কোথাও কোথাও পানি জমেছে। পানি দ্রুতই নেমে যাবে। আমরা সব এলাকায় খোঁজ রাখছি।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার খবরের কাগজকে জানান, বৃষ্টির কারণে জেলার হাওরেও পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত দুদিনের টানা ভারী বর্ষণে জেলায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর রোপা আমন ধানের জমি এবং ২৬৬ হেক্টর সবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।