জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, ‘পণ্য দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। কারসাজি করলে এবার আর ৫০ হাজার বা এক লাখ টাকা জরিমানা করব না। সোজা জেলে পাঠানো হবে।’
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের পাহাড়তলী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাকক্ষে ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘সারা বিশ্ব দ্রব্যমূল্য নিয়ে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশে অনেক পণ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলা হয়েছে। আমি মনে করি, মনিটরিং করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। চিনি, ডাল, তেলের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোতে খরচ ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অজুহাত বা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। ব্যবসা পবিত্র জিনিস। ওজনে কম বা ভেজাল দেওয়া, দাম বাড়িয়ে নেওয়া- এসব করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়তলীতে চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বাড়ান হয়েছিল। তখন ধানের দাম বাড়ার অজুহাত দেখানো হয়েছিল। আজ (বুধবার) দেখলাম, খোলা ড্রামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এটার নিয়ম নেই। এর কারণে রোগবালাই ছড়াচ্ছে। গরম এলে পাম তেলকে সয়াবিন তেল বলে বিক্রি করা হয়। ড্রামগুলো কোন কোম্পানির, পাম না সয়াবিন- এসব বোঝা যায় না। আমি আজ তেলের নমুনা নেব। ভিটামিন এ না থাকলে ব্যবস্থা নেব।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বেশি দামে পণ্য কিনলে সেটার পাকা রসিদ রাখবেন। তখন আমাদের আর কিছু বলার থাকবে না। বার বার অভিযান পরিচালনা করতে হবে না। আপনারা সৎভাবে ব্যবসা করেন। আমাদের কোনো অফিসার অভিযান চালাবেন না। বরং আমি আপনাদের ফুলের মালা দিতে চাই। আপনাদের সম্মান আছে, আত্মীয়স্বজন আছে, পরিবার আছে। নিজেকে কলঙ্কিত করার মতো কোনো কাজ করবেন না।’
এ সময় ব্যবসায়ীরা অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ করা, কত শতাংশ লাভে ব্যবসা করতে হবে সেটা নির্ধারণ করে দেওয়া, লাইসেন্স সহজীকরণ, ব্যবসায়ী কী পরিমাণ খাদ্য মজুত করতে পারবেন তার সীমা নির্ধারণ করার অনুরোধ জানান।
এ সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাজ, সহকারী পরিচালক নাছরিন আক্তার, মো. আনিছুর রহমান, পাহাড়তলী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. তাহের মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পাহাড়তলীর বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।