কয়েকদিন গোলাগুলি বন্ধ থাকার পর নতুন করে আবার মায়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে আতঙ্ক বিরাজ করছে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে মায়ানমারের গুলি ও মর্টারশেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ পৌরসভা, নাজিরপাড়া, সাবরাং, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপসহ টেকনাফের সীমান্ত এলাকাগুলোতে। তবে এখনো বাংলাদেশে কোনো গুলি বা মর্টারশেল এসে পড়েনি।
সাবরাং নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোররাত থেকে নয়াপাড়া নাফ নদী সীমান্তের পূর্বদিকে মায়ানমার মংডুও, মন্নিপাড়া ও হারিপাড়া সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দ হয়। শব্দে সীমান্ত এলাকার লোকজন ঘুমাইতে পারে নাই। গুলি ও মর্টারশেলের আতঙ্কে রয়েছে সীমান্ত এলাকার বসবাসরত স্থানীয়রা।’
টেকনাফ সদর নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দার আবছার উদ্দিন বলেন, ‘আমার এলাকার পূর্বে মায়ানমার মংডুও শহরের সুদাপাড়া। এদিকে তেমন গোলাগুলির শব্দ হয়নি। হঠাৎ করে সকাল থেকে মায়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দের কারণে কেঁপে উঠছে পুরো এলাকা। সকাল ১০টায় এমন একটি বিকট শব্দ হয়েছিল মনে হয় আমার বাড়ির দেয়াল পড়ে যাচ্ছে। এলাকার লোকজন আতঙ্কে রয়েছে।’
স্থানীয় এক লবণচাষী বলেন, ‘মায়ানমারে চলমান সংঘাত কখন শেষ হবে জানি না। আমাদের মতো যারা কাজ করে সংসার চালায় আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। কারণ কাজ করতে গেলে সব সময় ভয়ে থাকি। কোন সময় মায়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেল এসে গায়ে পড়ে এই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাত যাতে আমাদের এই পাড়ে এসে না আসে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসাইন বলেন, ‘রাত থেকে মায়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি ও মর্টারশেলের বিকট শব্দে শুনা যায়। মায়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপ এলাকা কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ভয়ে ফোন করছেন। যাতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।’
এদিকে মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। রাখাইন প্রদেশে বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির হামলায় টিকতে না পেরে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ৩৩০ সদস্য প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলে বৃহস্পতিবার তাদের সে দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না করে সেজন্য বিজিবির সদস্যরা নদীতে টহল জোরদার করেছে। পাশাপাশি যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ সজাগ রয়েছে বিজিবি। সীমান্তে অনুপ্রবেশ টেকাতে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সর্বদা প্রস্তুত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।’
শাহীন/সাদিয়া নাহার/অমিয়/