ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বরফকলের আড়ালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম। প্রশাসনের কোনো প্রদক্ষেপ না থাকায় বরফকলের মালিক দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কর্তৃপক্ষ বলছে মালিকের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নিয়েও তার এই অপকর্ম থামানো যাচ্ছে না। এদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব নিম্নমানের আইসক্রিম খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার শিশুরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের মসজিদপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের বাড়িতে একটি বরফকলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে। আইসক্রিমের স্বাদ বাড়ানোর জন্য মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন ফ্লেভার, বাইরে কাদামাটিতে ফেলে রাখা বস্তা থেকে চিনি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল। অপরিচ্ছন্ন পাত্রে খালি হাতেই মেশানো হচ্ছে আইসক্রিমের রং। পরে আকর্ষণীয় মোড়ক লাগিয়ে এসব আইসক্রিম সংরক্ষণ করা হচ্ছে ফ্রিজে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তৃপ্তি, বনফুলসহ বিভিন্ন চটকদার নাম লাগানো এসব আইসক্রিম ফ্রিজ থেকে বাক্সে ভরে নিয়ে যাওয়া হয় শহরের অলিগলিসহ গ্রামের পাড়া-মহল্লায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘এসব আইসক্রিমে ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকায় লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া বাচ্চাদের ক্ষুধামন্দাসহ নানা ধরনের রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। এই দাবদাহে আইসক্রিমসহ ফুটপাতে বিক্রি করা রং মেশানো শরবত এড়িয়ে চলা উচিত।’
আইসক্রিম কারখানার শ্রমিক ও ভ্যানচালক এরশাদ মিয়া জানান, বিক্রির জন্য ভ্যানে করে আইসক্রিমগুলো দোকানে দোকানে পৌঁছে দেওয়া হয়। দোকানদার একটি আইসক্রিম ১০ টাকা দরে বিক্রি করেন। কম দাম ও গরমের কারণে এই আইসক্রিমের চাহিদা অনেক বেশি।
বরফকলের মালিক লোকমান হোসেন লিটন জানান, আগে সিগারেটের ব্যবসা ছিল তার। পার্টনার বেঈমানি করে সব টাকা মেরে দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে বরফকলের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সরকারি নিয়মনীতি মেনে আইসক্রিম বানিয়ে বিক্রি করছেন। বরফকলের কাগজপত্র থাকলেও আইসক্রিম তৈরির কোনো কাগজপত্র নেই তার।
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কামাল হক বলেন, ‘বরফকলে ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করায় এর আগেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে জরিমানাসহ তার মালামাল জব্দ করেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে খুব দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে সাংবাদিক এসেছে বলে এক পৌর যুবলীগ নেতাকে ফোন করেন লিটন। ওই নেতা কয়েক মিনিটের মধ্যেই বরফকলে ছুটে এসে সংবাদ না করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘তার এখানে বসে আমরা নিয়মিত আড্ডা দেই। সংবাদ প্রকাশ করলে সে পথে বসে যাবে। পাশাপাশি স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ীও তার পক্ষে কথা বলেন।’