ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ জমিরউদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে বন্যা পরিস্থিতি: ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ, নিহত ৫১ নাটোরে সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসককে মারধর চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা টেলিটক বিক্রি নয়, বরং আপগ্রেড করা হচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় নয়: অর্থমন্ত্রী ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী গ্রেপ্তার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি বৃক্ষরোপণ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশ নেই মফস্বলে পারে, রাজধানীতে পারে না কেন? পুঁজিবাজারে স্থিতিশীল গতি প্রয়োজন বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর বরখাস্ত সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও বন্যাপ্লাবিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন বিয়ের আনন্দ ম্লান, ডোমারে সড়কে ঝরল মা-দুই সন্তানসহ ৪ প্রাণ দুর্গতদের ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র টেকনাফ সীমান্তে বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ প্রাথমিকে বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ, কার্যকর ২০২৬ থেকে নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন ঈশ্বরদীতে বৃত্তির হাসি ২০৬ শিক্ষার্থীর মুখে রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি মিয়ানমার সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে পাচারচক্র, আটক দুই যুবক নরওয়ে ‘ডাকাতির’ শিকার: আলফ-ইঙ্গে হালান্ড যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, হামলায় আহত ১০ সিআইপিএস এশিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের চার পুরস্কার বাংলালিংকের

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের ত্রাণ বিতরণ
বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের ত্রাণ বিতরণ। ছবি: খবরের কাগজ

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে বাঁশখালীতে এসেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মওলানা গাজী আতাউর রহমান।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে তিনি পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা, সরল ও ইলশা এলাকা পরিদর্শন এবং ৫০০ শতাধিক মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

এ সময় ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ আবদুর রহমান, আলহাজ জান্নাতুল ইসলাম, ড. মওলানা বেলাল নুর আজিজী, আলহাজ আল মোহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মওলানা ছগির আহমদ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি মওলানা হাফেজ রুহুল্লাহসহ স্থানীয় নেতারা সঙ্গে ছিলেন।

শফকত হোসাইন/থিওটোনিয়াস/

ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ফি পরিশোধে দেরি হওয়ায় রাফিন হোসেন নামে অষ্টম শ্রেণির এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মহেশপুর উপজেলার বি আর এ কে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে।

পরিবারের দাবি, এ ঘটনার পর থেকে রাফিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে না এবং পড়াশোনাও বন্ধ করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায় রাফিন। পরীক্ষা চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন তার কাছে পরীক্ষার ফি চান। এ সময় রাফিন পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়ে কয়েক দিন পর ফি পরিশোধের সুযোগ চায়। পরে তাকে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের কক্ষে যেতে বলা হয়।

রাফিনের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে সে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে অনুরোধ করলেও প্রধান শিক্ষক জানান, ফি পরিশোধ না করলে কোনোভাবেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। এরপর তাকে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বলা হয়।

ফলে পরীক্ষা না দিয়েই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে যায় রাফিন।

রাফিনের বাবা চঞ্চল হোসেন বলেন, ‘আমরা পারিবারিক সমস্যার কারণে সময়মতো স্কুলের বেতন দিতে পারিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই বেতন পরিশোধ করব বলে সহকারী শিক্ষিকাকেও জানিয়েছিলাম। এরপরও আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সে খুবই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। দুই দিন ধরে কিছুই খাচ্ছে না এবং পড়াশোনাও বন্ধ করে দিয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাহফুজুর রহমান/রিফাত/

আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণে নাহিদ, বেড়িবাঁধ নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে এসে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণে অতীতে লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যে কারণেই হোক, সরকার পারছে না। এখন দোষ দিয়ে লাভ নাই। মূল জিনিস হচ্ছে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে বরাদ্দ হওয়া কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। তবে চলতি বাজেটে এ খাতে যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার একটি টাকাও যাতে দুর্নীতি বা লুটপাটের মাধ্যমে অপচয় না হয়, সে বিষয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখবে এনসিপি। বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করে দ্রুত বেড়িবাঁধের কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।

উপকূলীয় বেড়িবাঁধের বেহাল অবস্থার সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, বছরের পর বছর ধরে বাঁধের সমস্যার কারণে এলাকায় কৃত্রিম বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিবছর সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকরভাবে সফল হতে পারেনি। এ অবস্থায় দোষারোপের চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি জরুরি। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত–নির্বিশেষে সামর্থ্যবান ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বাজেট নিয়ে তাঁরা বারবার সংসদে কথা বলেছেন। কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরও বিষয়টি সংসদে তোলা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা–কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা আগে থেকেই এলাকায় কাজ করছেন। এসে দেখা গেছে, পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে কয়েক শ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় ত্রাণও পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম জানান, আনোয়ারার পর বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য বন্যাদুর্গত এলাকাতেও এনসিপির পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয়দের উদ্দেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসহ জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

এসময় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আতিকুল হা-মীম/এসএন

নাটোরে সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসককে মারধর

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
নাটোরে সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসককে মারধর
ছবি: সংগৃহীত

নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকার সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে মারধর এবং হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের আগদিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাবু হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুমি বেগমকে প্রসবের জন্য রবিবার (১২ জুলাই) সকালে নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। প্রসববেদনা শুরু হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, গর্ভের শিশুটি অপরিণত (প্রি-টার্ম) এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, জন্মের পর নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, শিশুটির স্বজনদের দাবি, জন্মের পর নবজাতকের শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলেও সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকের দাবি, শিশুটি মৃত অবস্থায়ই জন্ম নিয়েছিল।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
 
কামাল মৃধা/রিফাত/

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৬ লাখ। এদিকে, একদিন বিরতি দিয়ে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা ফের ডুবেছে। এতে নগরে জনদুর্ভোগ আবারও চরমে উঠেছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরে ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বন্যায়, পাহাড় ও দেয়াল ধসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১২ জন। 

গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার মানুষকে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে। টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।

রবিবার (১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলার (মহানগরসহ বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুন্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ি) মোট ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সরকারি হিসাব মতে, বর্তমানে জেলার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। গৃহহীন ও প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা কবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত বরাদ্দ হওয়া ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৭১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দ করা ৮৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জরুরি খাদ্য সংকট মেটাতে ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছ।

বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে ৪৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এদিকে চট্টগ্রামে আবারও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। টানা ১৩দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। একই সাথে টানা বর্ষণে রবিবার (১২ জুলাই) নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। 

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা বিশ্বজিত চৌধুরী বলেন, রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার। বিকাল ৩টা থেকে আগের ২৪ ঘন্টায় ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। যা অব্যাহত রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকবে। এখন থেকে বর্ষার দিনের মতো আচরণ থাকবে আবহাওয়ার। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি মাঝে মধ্যে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে আরও দুই থেকে তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

সকাল ১০টার দিকে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল কাতালগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে হাঁটুপানি জমে গেছে। পানি মাড়িয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী মানুষকে ছাতা ও রেইনকোট পরে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, যানবাহন মিললেও চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। একটু বৃষ্টি হলেই ৫ টাকার ভাড়া ওঠানামা ১০ টাকা নেয় চালকরা।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জুলাই মাসে এক দিনে গত ৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। ওই বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। দুই দিন বৃষ্টি কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে ভারী বর্ষণে আবারও জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এসএন/

ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নারী গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতারণা মামলার আসামি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মাকসুদা চৌধুরীকে (৫৬)  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাকসুদা চৌধুরী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রাউতগাঁও গ্রামের শাহ মো. ছালেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তিনি সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় আদালত তার বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০১ (BG201) ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে গেলে তার বিরুদ্ধে জারি থাকা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তথ্য শনাক্ত হয়। এরপর বিদেশযাত্রা স্থগিত করে তাকে আটক করা হয়।

এর পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে আটক মাকসুদা চৌধুরীকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুসের কাছে হস্তান্তর করেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, প্রতারণা মামলার আসামি হওয়ায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওই নারীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। বিমানবন্দরে তাকে আটক করে পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রিফাত/