ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জার্মানির কোচ হতে প্রস্তুত ক্লপ কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে পেল ফ্রান্স, ম্যাচ কবে-কখন? এমবাপ্পের গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স পেনাল্টিতে ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন এমবাপ্পে বিশ্বকাপে স্পেনই সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ: নুনো মেন্দেস প্রথমার্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য, তবু গোলশূন্য ফ্রান্স বিশ্বকাপে কঠিন পরীক্ষার মুখে লামিনে ইয়ামাল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ কে? কানাডাকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো ওনাহির গোলে এগিয়ে গেল মরক্কো কানাডা-মরক্কোর কার্ডে ভরা প্রথমার্ধ ছন্দহীন মরক্কোকে বাঁচালেন বুনু, গোলশূন্য প্রথমার্ধ টেন্ডুলকারের রেকর্ড এখন সূর্যবংশীর সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী: গণরায় বাস্তবায়নে জামায়াতের গণমিছিল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা বেঞ্চে কানাডার অধিনায়ক, মরক্কোর একাদশে পরিবর্তন ‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান তিন দিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে বরগুনায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন সম্পন্ন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামালের জীবনাবসান স্মার্টফোনের দাম কমাল টেকনো পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজও বাস্তবায়ন করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু সংকটে ইউরোপের অগ্নিদহন সিঙ্গাপুরসহ তিন দেশে এনআইডি কার্যক্রম চলতি মাসে শুরু অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’

প্রবৃদ্ধি-মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০২ পিএম
প্রবৃদ্ধি-মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফিকির সভাপতি জাভেদ আখতার। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শীর্ষ সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। 

৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার এবারের বাজেট মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৪.২ শতাংশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৭৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৬.৫০ শতাংশের মধ্যে রাখার  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

ফিকি মনে করে, এ  লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্ভব। প্রস্তাবিত সংস্কার, বিশেষ করে আয়কর এবং কাস্টমসের লক্ষ্য হলো রাজস্ব বৃদ্ধি, ঘাটতি কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো। 

সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফিকির সভাপতি জাভেদ আখতার এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

অর্থবিলে উপস্থাপিত কয়েকটি প্রস্তাবকে চেম্বার স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা টেলিকম, কার্বনেটেড বেভারেজ, ওয়াটার পিউরিফায়ারের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক এবং ট্যাক্স আরোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ, প্রস্তুতকারকদের জন্য বর্ধিত কর এই ব্যবসার মুনাফা এবং কার্যকারিতার ক্ষেত্রে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে ফিকি সরকারকে আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে যা একটি শক্তিশালী এবং স্থিতিস্থাপক আর্থিক ব্যবস্থার গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  

অন্যান্য স্টেকহোল্ডারসহ  ফিকি বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় কম রাজস্ব অনুপাত তুলে ধরে এটি আরও উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। 

গৃহস্থালি আয় সমীক্ষা অনুসারে, জনসংখ্যার ১০ শতাংশ জাতীয় আয়ের ৪০ শতাংশ অবদান রাখে। কিন্তু এনবিআরের তথ্য অনুসারে দেশের মাত্র ১ কোটি নিবন্ধিত করদাতা রয়েছে। তাই জনগণকে ট্যাক্স নেটের  আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও অনেক দূর যেতে হবে। যেহেতু সরকার এ ব্যাপারে কাজ করছে, তাই সামনে ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করে ফিকি। এ ব্যাপারে ফিকি খাত ভিত্তিক রাজস্ব বিশ্লেষণ এবং করদাতার ভিত্তি বাড়ানোর মতো উদ্ভাবনী পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফিকি সভাপতি জানান, অর্থবিল ২০২৪ এ চেম্বারের প্রস্তাবিত সংশোধনী গ্রহণ করায় সরকারকে  স্বাগত জানিয়েছে তারা, বিশেষ করে সম্ভাব্য করের হারের বিষয়টি, যা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে। এই হার বজায় থাকলে ব্যবসাগুলোকে কার্যকরভাবে পরিকল্পনা করতে এবং বিনিয়োগ করতে সক্ষম করবে। এ ছাড়া ফিকি শিল্পের কাঁচামালের জন্য উৎসে ট্যাক্স ডিডাকশন সহজ করার জন্য তাদের প্রস্তাবকে গ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মাসিক উইথহোল্ডিং ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর বিষয়টি অর্থবিল ২০২৪-এর মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে বলে সাধুবাদ জানিয়েছে ফিকি।

কর ব্যবস্থাকে সরল করার জন্য প্রস্তাবিত কর সংস্কারের প্রশংসা করেছে ফিকি। কিন্তু উচ্চ কার্যকরী করের হার  শিল্পের জন্য একটি মূল উদ্বেগের বিষয়। যদিও তারা ব্যক্তিগত তহবিলের জন্য ১৫ শতাংশ আয়কর হারের প্রশংসা করেছে, কিন্তু সরকারি তহবিলকে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়টি সরকারি এবং বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করছে বলে জানিয়েছে ফিকি।

ব্যক্তিগত আয়কর হার বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এনবিআর। এই ব্যবস্থা নিয়মিত করদাতাদের কাছে অন্যায় মনে হতে পারে এবং অসাবধানতাবশত কর ফাঁকি দিতে উৎসাহিত করতে পারে। ট্যাক্স স্ল্যাবে এই ধরনের পরিবর্তনগুলো অনুগত করদাতাদের নিরুৎসাহিত করবে কারণ তাদের কঠোর উপার্জনের ওপর জরিমানা করা হচ্ছে, এ ছাড়া এটি এনবিআরের বর্তমান কর- সংস্কৃতির নীতির বিরুদ্ধে। তাই চেম্বারটি ২০২৪-২৫ আয়কর বর্ষে বছরের হার প্রযোজ্য রাখার সুপারিশ করেছে। এ নীতির ফলে আরও সঠিক এবং দক্ষ কর ব্যবস্থা তৈরি করার লক্ষ্যে ট্যাক্স নেট প্রশস্ত করার সঙ্গে করের হার হ্রাস করবে। এটি কমপ্লায়েন্সকে উৎসাহিত করে, করদাতা বাড়ায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ায়, সুষ্ঠু কর বণ্টন নিশ্চিত করে এবং কর প্রশাসনকে সরল করে, যা আরও স্থিতিশীল এবং অনুমানযোগ্য কর রাজস্বের দিকে নিয়ে যায়। 

এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। যা প্রস্তাবিত বাজেটের ৬০ শতাংশ। ফিকি এ লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ট্যাক্স, ভ্যাট এবং শুল্ক প্রশাসন স্বয়ংক্রিয় করার জন্য এবং কর সংগ্রহকে সহজ করবে এবং দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ বা নির্দেশনার অভাব রয়েছে । এই সংস্কার ছাড়া, ভ্যাট ক্রেডিট জটিলতা এবং ব্যবসার ওপর আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। উৎসে কর কমপ্লায়েন্সে পরিবর্তন, যেমন ১০ কোটি টাকার ওপরে সত্ত্বাকে উইথহোল্ডিং অথরিটির অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল ট্যাক্স ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগের লক্ষ্য ট্যাক্স প্রক্রিয়া সহজ করা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা। এই সংস্কারগুলো, যেমন এনবিআরের তিনটি শাখাকে একীভূত করা (আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস), সংগ্রহ বিভাগকে নীতি বিভাগ থেকে আলাদা করা এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে সহায়তা করবে। এই সংস্কারগলো ট্যাক্স এবং ভ্যাট প্রক্রিয়াগুলোকে প্রবাহিত করতে, প্রশাসনিক বোঝা কমাতে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার জন্য উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই
ছবি: সংগৃহীত

অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কেউ ছিলেন ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে। আর কেউ ছিলেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। কেউ ছিলেন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায়। কোনো কিছুতেই মন গলেনি ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই ঢালাওভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। 

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আবদুল মুমিন খবরের কাগজকে জানান, তিনি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যান। দেশের বাইরে যাওয়ার পর হঠাৎ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৩ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার নোটিশ জারি করে। সবাইকে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি সে সময় দেশে না থাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তিনি ওমরাহ পালন শেষে আসেন ৫ অক্টোবর এবং পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর ফের কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে ৯ অক্টোবর চাকরিচ্যুত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অথচ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, যারা পরীক্ষায় বসবেন এবং পাস করবেন তাদের চাকরি থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষ তাকে পরীক্ষায় বসার সুযোগটুকুও দেয়নি। 

রুমা আকতার নামে ইসলামী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানান, তিনি মাইজদী শাখায় কর্মকর্তা পদে ২০১৯ সালে যোগ দেন।  চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ তার আগে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। তার ছুটি অনুমোদন হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। ছুটি থেকে এসে তিনি জানতে পারেন তার চাকরি নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ ৯টা মাস আমার চাকরিটা নেই। অথচ ছুটিতে যাওয়ার আগে অনাগত সন্তান নিয়ে কত কিছুই না ভেবেছিলাম। তার জন্য কত কিছু করব। অথচ আমার বাচ্চা পৃথিবীতে আসার পর আমার চাকরি গেল। এখন বাচ্চার অতীব জরুরি চাহিদাগুলোও মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার চাকরি ফেরত চাই। আমি কারও কাছে করুণা চাই না। 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন–কেন আমাকে চাকরিচ্যুত করা হলো? একজন কর্মকর্তা হিসেবে আজ আমি পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। আমার বাচ্চার খরচ চালাতে পারছি না। আমরা কি অবৈধ–এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্র দিয়েছে বলেই তো যোগ দিতে পেরেছি। সুনামের সঙ্গে কাজ করেছি। এখন আমার সংসার কে চালাবে? আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফেরত চাই। 

আরেক ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল জব্বার খবরের কাগজকে বলেন, তিনি ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দেন। সব ঠিকঠাক চলছিল। অফিসে সুনামের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ২৪ সালের ২৪ নভেম্বর অফিসে যাওয়ার সময় তিনি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন। সেই গাড়িতে তার স্ত্রীও ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় তাদের গাড়িতে থাকা এক আত্মীয় মারা যান। তার দুই পা ভেঙে যায়। মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়। এখনো তিনি এবং তার স্ত্রী ক্রাচে ভর দেওয়া ছাড়া হাঁটতে পারেন না। এরই মধ্যে তার কাছে চিঠি এসেছে চাকরিচ্যুতির। এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের দুজনের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে তারা একপ্রকার নিঃস্ব এখন। বর্তমানে তার নিজের চিকিৎসা চালানোর সক্ষমতাও নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আছেন। চাকরিটাও চলে গেল। অন্য কোনো খাত থেকে উপার্জন নেই। মানবিক বিবেচনাটুকুও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ করেনি। অথচ তারা সবকিছু জানে। জেনেশুনে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করেছে। 

চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্ল্যাটফর্ম চিটাগাং অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোক্তার রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, অসুস্থতা, ওমরাহ পালনসহ নানা কারণে অফিস থেকে ছুটি নেওয়া আরও অনেকেই আছেন, যারা জানতেন না তাদের চাকরি চলে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অনেককে ছুটি থেকে এসে চাকরিতে যোগদানের সুযোগও দেয়নি। কেউ কেউ যোগদানের কয়েকদিনের মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন। যা অমানবিক।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ
কার্গো জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জুন মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির কারণে এ সাফল্য এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের একই মাসে এ আয় ছিল ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো সময়জুড়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে।

ইপিবির ভাষ্য, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে চাহিদা কম থাকার পরও আগের অর্থবছরের কাছাকাছি রপ্তানি আয় ধরে রাখা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা ও অভিযোজন ক্ষমতার প্রমাণ।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক খাত জুন মাসে ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের জুনে এ খাতের আয় ছিল ২৭৯ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।

অন্যান্য খাতের মধ্যে জুন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থবছরজুড়ে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

হোম টেক্সটাইল খাতে জুনে রপ্তানি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং পুরো অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং অর্থবছরে ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিপণ্যের রপ্তানিও জুন মাসে ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশভিত্তিক বাজারের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসেবে যথাক্রমে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। জুন মাসে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবি আশা করছে, রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে এবং তা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাঈম/

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য
ছবি: খবরের কাগজ

ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করলেও দেশের মাটিতে এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা কম নয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ১১ জুন থেকে শুরু হ্ওয়া এ বিশ্বকপের জন্য দেদার বিক্রি হচ্ছে ফেবারিট দলগুলোর পতাকা ও জার্সি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টেলিভিশনের বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তবে নতুন করে যোগ হয়েছে বড় পর্দা তথা প্রজেক্টরের ব্যবসা। অন্যদিকে অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে জার্সি ও পতাকা। এর পর্দা নামবে ১৯ জুলাই।

বেড়েছে পতাকা ও জার্সি বিক্রি

নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, ষোলশহর দুই নম্বর গেট এবং মুরাদপুর এলাকায় প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা বিক্রি করেন ওসমান গণি। ফুটপাতে সারা বছর গার্মেন্টসের রিজেক্টেড কাপড় বিক্রেতা ওসমান খবরের কাগজকে জানান, ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই তিনি পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি মূলত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা বেশি রাখেন। এই দুই দেশের পতাকার চাহিদাও বেশি। তবে এবার ইরানের জাতীয় পতাকাও রেখেছেন। বেশ কয়েকটি বিক্রিও করেছেন। এ ছাড়া অতীতে বিশ্বকাপজয়ী বেশ কয়েকটি দলের জাতীয় পতাকাও তিনি রেখেছেন। তবে সেসব দেশের পতাকার তেমন কাটতি নেই বলে জানান তিনি।

নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানে জার্সি কিনতে আসা ক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মূলত ভালোবাসা এবং আবেগের কারণে তারা অন্য দেশের জার্সি ও পতাকা কিনছেন। দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসার বিন্দুমাত্র কমতি নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা সুযোগ নিচ্ছেন। মানুষের ভালোবাসা এবং আবেগকে জিম্মি করে জার্সি ও পতাকার বাড়তি দাম আদায় করছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বাড়তি দাম আদায়ের এই ঘটনা যেহেতু চার বছর পর একবার ঘটে। তাই প্রশাসনেরও এদিকে খুব একটা নজর থাকে না। দাম বেশি নিলেও তারা প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনতে পিছপা হচ্ছেন না।

এম এ আজিজ মার্কেটের প্লেয়ার্স স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, বাংলাদেশের মানুষ খেলা অন্তঃপ্রাণ। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এলে মানুষের মাঝে উন্মাদনা আরও বেড়ে যায়। তখন তারা প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কেনেন। এটি হলো ওই ফুটবল টিমের প্রতি ভালোবাসা। গত বছরের তুলনায় এবার জার্সি ও পতাকার বিক্রি বেড়েছে। ভক্তরা তাদের প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা ও জার্সি। ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামের মধ্যে যেসব জার্সি রয়েছে তার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খেলা শুরু হওয়ার পর জার্সি ও পতাকার চাহিদা আরও বেড়েছে। পতাকার দাম নির্ভর করে সাইজের ওপর। ১০০ টাকা থেকে শুরু। যত বড় হয়, দাম তত বাড়ে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার অনলাইনেও প্রচুর পরিমাণে জার্সি ও পতাকা বিক্রি হচ্ছে। তরুণ-তরুণী এবং শিক্ষার্থীরা জার্সি ও পতাকার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এ ছাড়া ফুটবল বিক্রিও বেড়েছে। 

আর্জেন্টিনার সমর্থক মোহাম্মদ হাসিব খবরের কাগজকে জানান, খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জার্সির দাম বেড়ে গেছে। তাই তিনি নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে গিয়েও না কিনে ফেরত এসেছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি জার্সির দাম দেখতে গিয়েছিলেন। যখন খেলা শুরু হবে তখন কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু খেলার শুরুর দিন দোকানে গিয়ে তিনি হতভম্ব। প্রতি জার্সিতে দাম বেড়ে গেছে ২০০ টাকা। খেলা শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ আগেও একদম সাধারণ মানের জার্সির দাম ছিল ২৫০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। আর ৪০০ টাকায় যেসব জার্সি বিক্রি হতো। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। ৬০০ টাকার জার্সি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি জার্সিতে দাম বেড়েছে ২০০ টাকা।

তুলনামূলক কমেছে টিভি বিক্রি

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিকস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হক পাটোয়ারী খবরের কাগজকে বলেন, অতীতে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে টেলিভিশন বাজারে ব্যাপক চাঙাভাব দেখা যেত। সাধারণত বিশ্বকাপ শুরুর এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই টেলিভিশনের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেত। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যেমন বিশ্বকাপের উন্মাদনা থাকত, তেমনি নতুন টেলিভিশন কেনার আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।

তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিশ্বকাপ শুরু হলেও বাজারে সেই প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম ও বিক্রির গতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, টেলিভিশন ব্যবসা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বর্তমানে অনেক দর্শক মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের মাধ্যমে খেলা উপভোগ করছেন। পাশাপাশি পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে টেলিভিশনে খেলা দেখার সংস্কৃতিও আগের তুলনায় কমে এসেছে। তবে বড় পর্দা তথা প্রজেক্টরের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।

ইকরামুল হক পাটোয়ারী আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে অনেকেই নতুন টেলিভিশন কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন। তার ভাষায়, ‘মানুষের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে তারা অবশ্যই ব্যয় করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা অনেক বেশি সতর্ক।’

তিনি জানান, এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবে এবারের বিশ্বকাপ মৌসুমে টেলিভিশন বিক্রি অতীতের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বেড়েছে প্রজেক্টরের ব্যবসা

দর্শকরা বড় পর্দায় খেলা দেখতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন বেশ ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক তরুণরা টাকা তুলে প্রজেক্টর ভাড়া করছেন। কেউ কেউ একেবারে কিনে ফেলছেন। যে কারণে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রজেক্টরের চাহিদা বেড়েছে। তবে এই চাহিদার সুযোগও নিচ্ছেন অনেক বিক্রেতা। বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার আমতল সিডিএ মার্কেটের মুনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মজিবুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেড়েছে। কিশোর-যুবকরা দলবেঁধে এসে প্রজেক্টর কিনে নিয়ে যাচ্ছে ফুটবল খেলা দেখার জন্য। বিভিন্ন মান এবং দামের প্রজেক্টর রয়েছে। খুবই সাধারণ মানের প্রজেক্টরের দাম ৫ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের প্রজেক্টরও তার কাছে আছে। পাইকারিতে দাম বাড়েনি। চাহিদা বাড়লেও তিনি দাম বাড়াননি বলে জানান।

আরও একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, প্রজেক্টরের চাহিদা বেড়েছে এ কথা সত্য। তবে খেলার ফিকশ্চার দেখলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মানুষের ঘুমের সময়ে খেলাগুলো পড়েছে। খেলা গভীর রাতে এবং ভোর না হয়ে দিনে কিংবা সন্ধ্যার পর হলে প্রজেক্টরের ব্যবসা আরও বেড়ে যেত। তবু তাদের ব্যবসা জমজমাট। তবে একথা সত্য, কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বেশি। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা এবং আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

শুধু জুন মাসেই রাজস্ব আদায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় জুনে অতিরিক্ত আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এদিকে, বকেয়া ও ডেকোরেট, ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে চলতি অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে মোট ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে ৫৯০ কোটি টাকা এবং ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে ৪২৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা থেকে কোনো বকেয়া আদায় হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া ২৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা থেকে কমে ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যেখান থেকে আদায় হয়েছে ২৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে পাওয়ার গ্রিড থেকে ১০৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, সামিট এলএনজি থেকে ৩৭ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ পুলিশ থেকে ২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের অনুমানিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ বা ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে দেশের বৃহত্তর এ শুল্ক স্টেশনের। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারি কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন খবরের কাগজকে বলেন, দেশে নানা সংকটের মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা খুবই সন্তোষজনক। এতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা খুবই খুশি। তবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বকেয়া রাজস্ব আদায় করা গেলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তো। সামনে আমাদের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা বকেয়া আদায়ের জন্য। 

এসএন/

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
ছবি: এআই

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর আগের অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। তবে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এর আগে গত মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা এক মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

এ ছাড়া গত মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা ওই সময় পর্যন্ত কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল।

এসএন/