ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আর্লিং নয়, ব্রাউট হালান্ড ’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম ৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে : ট্রাম্প চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা কিম জং উনের

পেঁয়াজ আলুর দাম বাড়তি, উচ্চমূল্যে সবজি স্থির

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৪, ১০:০৩ এএম
পেঁয়াজ আলুর দাম বাড়তি, উচ্চমূল্যে সবজি স্থির
শীতের সবজি আসা শুরু করেছে বাজারে। এতে দাম কমা শুরু করেছে সবজির।

শীতের সবজি বাজারে উঠতে থাকায় দাম কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির কেজি ১০০ টাকার নিচে নেমেছে। তবে তা বেশ উচ্চমূল্যেই স্থির আছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলেও দাম কমছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ ১৬০ টাকায় ঠেকেছে। আলুর দামও ৫ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকা হয়ে গেছে। ডিমের ডজন ১৪৫-১৫০ টাকায় নেমেছে। চাল, মাছ, মাংস আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

একই সবজির দাম বাজার ভেদে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি হতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পেঁয়াজের কেজি ১৬০ টাকা
টাউন হল বাজারের খুচরা বিক্রেতা অলি আহমেদসহ অন্য বিক্রেতারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ। সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। আমদানি করা পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম ৫ টাকা বেড়ে ৬০-৬৫ টাকা কেজি। রসুন আগের মতোই ২২০-২৪০ টাকা ও আদা ২৮০-৩২০ টাকা কেজি।

বিভিন্ন বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, বেগুনের দাম ৩০-৪০ টাকা কমে ৮০-১২০ টাকায় নেমেছে। গত সপ্তাহে বেগুন ১২০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও গতকাল ৮০-১২০ টাকায় নামে। ঝিঙ্গার দাম কমে ৮০-৯০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, পটোল ৫০-৭০ টাকা, ধুন্দুল ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, শসার কেজি ৫০-৭০ টাকা, বরবটি, কচুরলতি ৮০-১০০ টাকা। গাজর ১৪০ টাকা, শিম ১৬০-১৮০ টাকা, টমেটো ১৬০-১৮০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ২০০-২৪০ টাকা কেজি। কপির পিস ৪০-৬০ টাকা। লাউ, চালকুমড়ার পিস ৪০-৬০ টাকা। শাকের দামও কমেছে। পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা। লাল, পালং, কলমি ও পাটশাক ২০-২৫ টাকা আঁটি।

কারওয়ান বাজারের ইউসুফ স্টোরের ইউসুফ আলীসহ অন্য মুদি বিক্রেতারা বলেন, ‘আগের মতোই ছোলা ১৪০-১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা কেজি, মসুর ডাল ১১০-১৩৫ টাকা, ২ কেজি ওজনের প্যাকেট আটা ১০০-১৩০ টাকা, খোলা আটা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৬৫-১৬৭ টাকা ও ৫ লিটার ৮০০-৮১০ টাকা, চিনি ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো জিনিসের দাম কমেনি।’

নির্ধারিত দরের ধারে কাছেও নেই মুরগি
সরকার সম্প্রতি ব্রয়লার ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগির দাম ২৭০ টাকা কেজি বেঁধে দিলেও বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গতকালও বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি ভোক্তাদের ১৯০-২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়েছে। টাউন হল বাজারের খুচরা বিক্রেতা ব্রয়লার হাউসের বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বেশি দামে কেনা। এ জন্য আগের মতোই ব্রয়লার ১৯০-২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি। তবে ডিমের মতো উৎপাদকরা আমাদের কাছে মুরগি বিক্রি করলে আমরাও নির্ধারিত দরে বিক্রি করতে পারব। বিভিন্ন হাত বদল হয়ে আমাদের কাছে মুরগি আসে। এ জন্য দাম বেশি।’ গরুর মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, কমে না দাম। এ জন্য আগের মতোই ৭৫০-৭৮০ টাকা কেজি গরুর মাংস ও খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ডিমের দাম কিছুটা কমে বিভিন্ন বাজারে ১৪৫-১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনো নির্ধারিত ১৪২ টাকা ডজনে পাওয়া যাচ্ছে না। কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা সোহরাব আলী বলেন, ‘আগের চেয়ে ডিমের দাম কমেছে। ডজন ১৪৫ টাকা।’ টাউন হল বাজারের সোহেল রানাও বলেন, ‘ডিম ১৪৫ টাকা ডজন। তবে বিভিন্ন পাড়া-মহাল্লায় এখনো ১৫০-১৫৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।’

কমেনি মাছের দাম
ইলিশ মাছ আহরণ ও বিপণন বন্ধ থাকায় অন্য মাছের দাম চড়া। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কারওয়ান বাজার, সোয়ারি ঘাটসহ অন্য আড়তে বেশি দাম। এ জন্য আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারি না। রুই-কাতলা ৩৫০-৬০০ টাকা কেজি। চিংড়ি ৬০০-১২০০ টাকা, কাজলির কেজি ১০০০-১২০০, মলা ৫০০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৫০০-৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজি ২০০-২৫০ টাকা, চিংড়ির কেজি ৭০০-১২০০ টাকা।

চালের দামও বেশি
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমদানি শুল্ক কমালেও কমেনি চালের দাম। বরং মৌসুম শেষের অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২-৪ টাকা বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, মিনিকেট ৭২-৭৬ টাকা, আটাশ চাল ৬০-৬২ টাকা ও মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা। চিনিগুঁড়া চাল খোলা ১৩০-১৪০ টাকা ও প্যাকেটজাত ১৭০-১৮০ টাকা কেজি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বেশি। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা এবং আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

শুধু জুন মাসেই রাজস্ব আদায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় জুনে অতিরিক্ত আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এদিকে, বকেয়া ও ডেকোরেট, ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে চলতি অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে মোট ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে ৫৯০ কোটি টাকা এবং ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে ৪২৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা থেকে কোনো বকেয়া আদায় হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া ২৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা থেকে কমে ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যেখান থেকে আদায় হয়েছে ২৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে পাওয়ার গ্রিড থেকে ১০৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, সামিট এলএনজি থেকে ৩৭ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ পুলিশ থেকে ২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের অনুমানিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ বা ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে দেশের বৃহত্তর এ শুল্ক স্টেশনের। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারি কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন খবরের কাগজকে বলেন, দেশে নানা সংকটের মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা খুবই সন্তোষজনক। এতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা খুবই খুশি। তবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বকেয়া রাজস্ব আদায় করা গেলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তো। সামনে আমাদের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা বকেয়া আদায়ের জন্য। 

এসএন/

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
ছবি: এআই

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর আগের অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। তবে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এর আগে গত মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা এক মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

এ ছাড়া গত মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা ওই সময় পর্যন্ত কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল।

এসএন/

সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

রাজস্ব ও অন্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে ‘এ’ চালান (অটোমেটেড চালান) বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার ১ জুলাই থেকে এটি বাধ্যতামূলক বলে গতকাল মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালানব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ‘এ’ চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ‘এ’ চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে ‘এ’ চালানব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। সাত অর্থবছরে এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগের মতে, ‘এ’ চালানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এ’ চালানব্যবস্থায় অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালান রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হওয়ায় হিসাব মিলানোর সময় ও ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এ ছাড়া ‘এ’ চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর রিয়েল-টাইমে রাজস্ব আদায় ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। চালান যাচাইব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে চালানের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল ও রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও কমছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

‘এ’ চালান বা অটোমেটেড চালান হলো সরকারি রাজস্ব, কর এবং বিভিন্ন সেবা ফি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার একটি ওয়েবভিত্তিক পদ্ধতি। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রবর্তিত এই সিস্টেমের মাধ্যমে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা এড়ানো যায়।

চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা
বিক্রির জন্য সরবরাহে রাখা হয়েছে চিনিগুঁড়া চাল। ছবিটি নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি মুদি দোকান থেকে তোলা মোহাম্মদ হানিফ

চট্টগ্রামে মাসের ব্যবধানে পাইকারিতে চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ৭০ টাকা বেড়েছে। এমন অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ায় অবাক হয়েছেন চট্টগ্রামের খোদ পাইকারি চাল বিক্রেতারা। তারা এমন পরিস্থিতির জন্য মিলার ও করপোরেট খাতের সাত প্রতিষ্ঠানের সিন্ডেকেটকেই দায়ী করছেন।

অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি চায় ক্যাব। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার এই সংগঠনটির নেতারা। 

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও চাক্তাই এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের আগে পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের পর চড়ে যায় বাজার। ঈদের পরপরই পাইকারিতে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। সম্প্রতি খবরের কাগজের বাজারদর তদারকিতেও পণ্যটিতে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ২৪ জুন পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ১৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত ২৫ জুন কেজিতে দাম আরও বেড়ে ঠেকে ১৭০ টাকায়। বর্তমানে পাইকারি বাজারে একই দাম বহাল রয়েছে। 

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী ও চাক্তাই এলাকায় পাইকারি দামে চাল বিক্রি হয়। চিনিগুঁড়া চালের বর্তমান দাম দেখে অবাক খোদ পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যবসায়িক জীবনে দাম এতটা বাড়তে দেখেননি বলে জানান। এই পরিস্থিতির জন্য তারা কিছু মিলমালিক, করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন। 

কারসাজির নেপথ্যে সাত প্রতিষ্ঠানকে দায়ী 

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজা খান দাবি করছেন, নওগাঁর মেসার্স হাজি আবদুর রহমান অটো রাইসমিল ও বেলকন গ্রুপ, কুষ্টিয়ার মজুমদার গ্রুপ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাব অটো রাইসমিল এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিডি, প্রাণ, ইস্পাহানি সিন্ডিকেট করে চালটির দাম বাড়াচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘আমার এই ৪০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এভাবে হঠাৎ করে এত বেশি দাম বাড়তে দেখিনি। কিছু শিল্প গ্রুপ ও মিলমালিক মিলে একটা বড় ধরনের ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। এরপর আমাদের পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, লাভ ইত্যাদি বিবেচনায় নিতে হয়। তখন দাম আরও বেড়ে যায়।’ 

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজারে চিনিগুঁড়া চালের সরবরাহ আছে, তবে পরিমাণে কম। কিন্তু কিছু মিলার ও করপোরেট গ্রুপ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। তাই এর প্রভাব আমাদের এখানে পড়েছে। দাম কমার তো কোনো লক্ষণই দেখছি না। বরং দিনে দিনে পণ্যটির দাম বাড়ানো হচ্ছে।’ 

চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চাল কয়েকটি গ্রুপ মিলে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে যেভাবে খুশি দাম বাড়াচ্ছে। এক কথায়, সুযোগ বুঝে তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। 

দাম বাড়ার কারণ ও সিন্ডিকেটের কারসাজির বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁর মেসার্স হাজি আবদুর রহমান অটো রাইসমিলের মালিক মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এই চাল রপ্তানি হয়েছে। এ কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, দাম বাড়তি। আগামী পৌষ মাসে নতুন চাল বাজারে উঠবে। এই সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে চালটি বিক্রি করতে হয়। এ কারণে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়। এটিকে সিন্ডিকেট বলা যাবে না, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এমনটা করা হয়। কারণ ব্যবসায়ীকে তো সারা বছর ব্যবসা করতে হবে। যখন মজুত শেষ হয়ে যায়, তখন সবাই কম বিক্রি করার জন্য দাম বাড়িয়ে দেন। 

বেলকন গ্রুপের মালিক বেলাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, সরকার রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। তাই সব চাল রপ্তানি হয়েছে। আর কোনো কারণ নেই। চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীদের তোলা সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। 

প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চালের উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়। তাই এই চাল রপ্তানিতে অনেক সময় সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাঝে মাঝে বছরে এক থেকে দুবার নির্ধারিত পরিমাণ চিনিগুঁড়া চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়। রপ্তানি বাজারে এই চালের ভালো একটা চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ায় এই চালের চাহিদা বেশি। 

তিনি বলেন, যেহেতু এটা উৎপাদন কম হয়, কৃষকপর্যায়ে ধানের দামের ওপর নির্ভর করে চালের দাম নির্ধারিত হয়। আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করেছি। এখন বাজারে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, ধানের দাম বেড়েছে। ফলে সবাইকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নই। আপনি যদি পুরো বাজার দেখেন, করপোরেটের হাতে চালের বাজার যায়নি। পুরো বাজারের ২ থেকে ৩ শতাংশ চাল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। তাহলে করপোরেট প্রতিষ্ঠান তো চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের স্বাভাবিক একটা চর্চা রয়েছে, অন্যের দিকে আঙুল তুলে নিজে ভালো হয়ে যাওয়া। এখানেও তাই হয়েছে। বাংলাদেশে চালের বাজারে কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে। লাইসেন্সিং, রিপোর্টিংয়ের ইস্যু আছে। আমরা কতটা চাল মজুত করতে পারব, সবকিছু খাদ্য অধিদপ্তরকে হিসাব দিতে হয়।’ 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, সরকার বাজার তদারকি না করলে সমস্যা আরও জটিল হবে। করপোরেট গ্রুপ বারবার সিন্ডিকেট করছে। অবশ্যই তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশের বাইরে আছেন বলে জানান।

পরে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। পণ্যের দামে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পেলে অবশ্যই বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায় যে-ই করুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ 

পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য
ছবি: খবরের কাগজ

‘আগে ১৭০ টাকা কেজি ছিল। কোরবানির ঈদের পর থেকেই চিনিগুঁড়া (পোলাও) চালের দাম বাড়ছে। আকিজ, স্কয়ার, প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির এই প্যাকেটজাত চাল ১৯০ টাকা ও বস্তার চাল ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম আরও বেড়ে ২১০ টাকা হচ্ছে। ২১০ টাকার প্যাকেট রেডি হয়ে গেছে। স্কয়ার, আকিজসহ অন্য কোম্পানি থেকে এ কথা জানিয়েছে। কোম্পানি ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে।’ চিনিগুঁড়া চালের বাড়তি দামের ব্যাপারে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কারওয়ান বাজারের নুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান। 

অন্য বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা ও রাইসমিল মালিকরাও দাম বৃদ্ধিতে অবাক হয়েছেন। তারা বলেন এত কেন এই চালের দাম! মিলে তো বাড়েনি। তাদের অভিযোগ, করপোরেটরা প্যাকেটজাত করে ভালোমানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে চরম নৈরাজ্য চলছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। 

বাজারে দেখা গেছে, আগের মতোই পাইকারি ও খুচরা দোকান পোলাওয়ের চালে ভরা। কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম খান খবরের কাগজকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিন্ডিকেট করেই করপোরেটরা দাম বাড়াচ্ছে। আগে ১৭০ টাকায় বিক্রি করলেও কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন ১৯০ টাকার প্যাকেটজাত এই চাল দিয়ে গেছে। খোলা চালের দামও বেশি। ১৬২ টাকা কেজি কেনা। বিক্রি করছি ১৭০ টাকায়। কয়েক দিন আগে এটা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই মুদি ব্যবসায়ী বলেন, ‘করপোরেটদের দাপটে সব কিছুর দাম বাড়ছে। প্যাকেটের নামে তারা অনেক বেশি দাম নিচ্ছে। কিছু হলেই ভোক্তা অধিদপ্তর শুধু আমাদের ধরে। তাদের ধরে না। তাদের ধরলে এত বেশি দাম বাড়বে না।’ 

এ সময় ইন্দিরা রোডের ক্রেতা মো. দুলাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘ধানের দাম কি এত বেড়েছে যে, চালের দাম বেড়েই যাচ্ছে? করপোরেটরা সিন্ডিকেট করেই এভাবে দাম বাড়াচ্ছে। এটা ফাজলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারকে এটা দেখা দরকার।

এই বাজারের হাজি রাইস এজেন্সির বিক্রয়কর্মী খবরের কাগজকে বলেন, খোলা পোলাওয়ের চাল আগে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি ছিল। কয়েক দিন ধরে দাম বেড়েছে। মোজ্জামেল কোম্পানির এই চাল সবচেয়ে ভালো, তা ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৫০ কেজির বস্তার দাম হচ্ছে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। জনতা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমানও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পোলাওয়ের চাল নাকি রপ্তানি হচ্ছে। এ জন্য দাম বাড়ছে। কিছু কোম্পানির লোকজন বলছে। এই বাজারের অন্য বিক্রেতাদেরও একই অভিযোগ বিভিন্ন অজুহাতে করপোরেটরা বাড়াচ্ছে দাম। বিষয়টি সরকারের দেখা দরকার।’ অন্য ভোক্তাদেরও একই অভিযোগ। 

এদিকে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও নিউ মার্কেটের খুচরা বিক্রেতারা জানান, কয়েক দিন ধরে কোম্পানির লোকরা বেশি করে দাম বাড়িয়েছেন। আরও বেশি দামের চাল আসছে। কোম্পানির লোকজন বলে গেছেন।

টাউন হল বাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের মো. ইসমাইল খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্কয়ার কোম্পানির লোকরা জানিয়েছেন, ১৯০ টাকার প্যাকেট বেশি করে রাখেন। কারণ ২১০ টাকার প্যাকেট রেডি হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি চলে আসবে। তখন বেশি দামে কিনতে হবে।’

এই বাজারের নোয়াখালী রাইস স্টোরের বিক্রয়কর্মী আব্দুর রহিমও একই তথ্য জানান। বলেন, সাগর কোম্পানির বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৬২ টাকা কেজি কেনা। বিক্রি করছি ১৭০ টাকায়। আকিজ, প্রাণ, স্কয়ারসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। ১৯০ টাকা কেজি। মিলে ২১০ টাকার প্যাকেট তৈরি হয়ে গেছে। যেকোনো সময়ে চলে আসবে। কোম্পানির লোকরা বলে গেছেন।’ এ সময় আকিজ অ্যাসেনশিয়ালসের প্যাকেটে লেখা দেখা যায় দিনাজপুরের সেরা ধান, ১৯০ টাকা কেজি। 

কিন্তু দিনাজপুর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পোলাওয়ের ধান বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে না। ধানের দাম বাড়েনি। কয়েক মাস আগে কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা মণ। দিনাজপুর চেম্বারের পরিচালক তৌহিদুর রহমান পাটোয়ারী (মোহন) খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা যে দামে ধান কিনি তা থেকে কিছু লাভ করে চাল বিক্রি করি। পোলাও ধান আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় ১ মণ কেনা হয়। তাতে ২২ কেজি চাল হয়। তা সর্বোচ্চ ১৩৫ থেকে ১৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগে এটা ১২৪ টাকা কেজি বিক্রি করা হতো। নাম বলছি না। অনেক করপোরেট আমাদের কাছ থেকে চাল কিনে প্যাকেটজাত করে ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। যে যা ইচ্ছা সেই দাম আদায় করছে। সরকার কী করছে? তাদের ধরুক। ১ কেজির প্যাকেটে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ টাকা খরচ হতে পারে। সেখানে কেজিতে বেশি নিচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে আদর অ্যান্ড মমতা অটো রাইসমিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘চালের দাম বাড়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই সরকারকে বলব কৃষককে প্রণোদনা দিয়ে ধানের উৎপাদন খরচ কমানো হোক। যাতে চালের দাম কমে। এতে ব্যবসা ভালো চলবে। ভোক্তারাও কম দামে চাল কিনতে পারবেন।’            

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোজাম্মেল অটো রাইসমিলসের চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমানে ধান কেনাবেচা হচ্ছে না। এবারে পোলাওয়ের ধানের দাম বেশি। আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা মণ কেনা হয়। ৫০ কেজির চাল সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বা কেজি ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। আগে এটা বিক্রি করা হয় ১৩৬ টাকায়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে ভালোমানের ধান কিনি। তাই চালও ভালো। এ জন্য দাম একটু বেশি। আমাদের চাল সবচেয়ে ভালো ক্লায়েন্টরা (ভোক্তা) কেনেন। ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বাড়ছে। এটা আমরাও চাই না। ভোক্তারা কম দামে চাল খাবেন, এটা আমরাও চাই। তাই ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে।’ 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘যেভাবে চালের দাম বাড়ছে কোনোভাবেই কাম্য নয়। করপোরেটরা প্যাকেটজাতের নামে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছে, এটা হতে পারে না। কারণ ১ কেজির এক প্যাকেটে কি ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হয়? বেশি দাম নেওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে। সেটা মনে রাখতে হবে।’ 

তিনি বলেন, বাজার কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই। লুটপাট শুরু হয়েছে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বে যারা আছেন তারা কী করছেন?