ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার পানছড়িতে মর্গে পড়ে আছে গুলিতে নিহত ৩ তরুণের মরদেহ মাদারগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ সিংগাইরে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর মিরসরাইয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরির গার্ডরুমে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ২০৩০ বিশ্বকাপ সরাসরি খেলবে ছয় দেশ পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন মাঠের বাইরের বিতর্কের জবাব বেলজিয়াম দিল মাঠেই শিবচরে হতদরিদ্র ৬ পরিবারের মাঝে গাভী বিতরণ যেভাবে চাকরি খুঁজবেন যেসব দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পাচ্ছেন পর্যটকরা গজারিয়ায় রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কেপ ভার্দে ধাক্কার পর মিশরকে নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা ভারী বর্ষণে ডুবল চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসের শঙ্কা ১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ খেয়ে জিতলেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা বেরোবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকারীদের ফ্যান খুলে নেওয়ার অভিযোগ দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে নিহত ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০৬ সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ চট্টগ্রামে শিক্ষাসামগ্রী পেল দরিদ্র শিক্ষার্থীরা নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. জুবাইদা রহমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের খবরে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন ট্রিলিয়নিয়ার তকমা হারালেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক চকরিয়ায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ ঘিওরে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওমানের উপকূলে ট্যাংকারে আগুন মিশরকে ‘দলগতভাবে’ রুখতে চান স্কালোনি বরগুনায় জনসাধারণের সুবিধা উপেক্ষা করে সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের অভিযোগ দিনাজপুরে কোটি টাকার প্রত্নসম্পদ উদ্ধার ব্রাজিলের বিদায়ে অবাক হননি পারেদেস

পোশাকশিল্পে কমছে নারী শ্রমিক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩৭ এএম
পোশাকশিল্পে কমছে নারী শ্রমিক
বুনন ২০৩০: বাংলাদেশের পোশাক খাতে মূল কার্যক্রম: গভীর পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথিরা

দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে নারী শ্রমিকদের সংখ্যা ক্রমাগত কমে আসছে। বিজিএমইএর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই শিল্পে ১৯৮০ সালে নারী শ্রমিকের হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা ২০২১ সালে ৫৩.৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূলত ১৮ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত তারা এই শিল্পে নিয়োজিত থাকেন। বয়স ৩৫ হওয়ার পর তারা এই কাজ ছেড়ে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকতে থাকেন। বিকল্প হিসেবে তারা যেসব কাজকে বেছে নিচ্ছেন সেগুলো হচ্ছে কৃষিভিত্তিক ও গৃহস্থালী এবং নিজের মালিকানাধীন দর্জির দোকানে কাজ করা।

মূলত সাম্প্রতিক সময়ে কারখানাগুলোতে অস্থিরতা, বেশি টাকা উপার্জনের আশা ও তুলনামূলক স্বাধীন পেশার কারণে তারা এসব পেশায় আগ্রহী। এভাবে নারী শ্রমিক কমতে থাকলে দক্ষ শ্রমিক স্বল্পতায় দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষে থাকা তৈরি পোশাক খাতে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।

এই অবস্থায় নারীদের পোশাক খাতে আগ্রহী করে তুলতে ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে নিরাপদ ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা বাড়ানো ও সঠিক সময়ে ন্যায্য মজুরি প্রদান জরুরি। এর পাশাপাশি এই খাতের টেকসই উন্নয়ন ও বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে ডিকার্বোনাইজেশন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরবর্তী পরিস্থিতি ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা উৎপাদন পদ্ধতিতে প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয়করণের প্রভাবকে মোকাবিলা করা জরুরি।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বুনন ২০৩০: বাংলাদেশের পোশাক খাতে মূল কার্যক্রম: গভীর পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়। এটি উপস্থাপন করেন লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জাহেদুল আমিন।

ঢাকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিজনেস কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উল্লিখিত শিরোনামে প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। লাইটক্যাসল পার্টনার্স, পলিসি এক্সচেইঞ্জ বাংলাদেশ ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত এক বছরে অনুষ্ঠিত চারটি সংলাপে উপস্থিত সরকারের শীর্ষ নেতারা ৫০ জন নীতিনির্ধারক, ৫০ জন শিল্প নেতাসহ মোট ১০০ জনের বেশি মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। চারটি সংলাপের মধ্যে প্রথমটিতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সার্কুলারিটি ও ডিকার্বোনাইজেশনের প্রভাব, দ্বিতীয়টিতে শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, তৃতীয়টিতে নীতিগত অপরিহার্যতা, চতুর্থটিতে অটোমেশন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব- এই চারটি বিষয় গুরুত্ব পায়। সেগুলোর ধারাবাহিকতায় শনিবার ছিল ‘বুনন: ২০৩০’ সংক্রান্ত এই বছরের সমাপনী অনুষ্ঠান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজিএমইএর প্রশাসক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার, প্রাইড গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ মোমেন, বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম ও পোশাককারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারা।

আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ। অপরাজিতা ও বুনন প্রকল্প নিয়ে সূচনা বক্তব্য দেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক আইনি ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর টেকসই জিএসপি প্লাস লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কৌশল গ্রহণসংক্রান্ত আরেকটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন মোহাম্মদ হাতেম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ২০২৩-২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাকের রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে আছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে, বাংলাদেশ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা জাতীয় জিডিপিতে ১০.৩৫ শতাংশ অবদান রেখেছে। এই শিল্পের সঙ্গে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে পোশাক খাত এবং দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।

আজকের মুদ্রার বাজার: ৭ জুলাই, ২০২৬

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ এএম
আজকের মুদ্রার বাজার: ৭ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.54 140.57 --
ব্রিটেন পাউন্ড     164.49 164.54 --
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.40 85.41 --
জাপানি ইয়েন 0.7579 0.7580 --
কানাডিয়ান ডলার 86.47 86.48 --
সুইস ক্রোনা 12.74 12.77 --
সিঙ্গাপুর ডলার 95.04 95.08 --
চায়না ইউয়ান     18.0813 18.0816 --
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2876 1.2879 --
সৌদি রিয়াল 32.67 32.97 --
আরব আমিরাত দিরহাম 33.41 33.69  

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ এএম
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাস মে-তে ছিল ৯.৪২ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমায় মূল্যস্ফীতিতে এই সামান্য স্বস্তি মিলেছে। 

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জুন মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমেছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে এসেছে।

এদিকে, বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার কমলেও মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি থেমে নেই। জুন মাসে জাতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে উঠেছে। অর্থাৎ এক মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। বিশেষ করে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি। 

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রাম ও শহর, উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি কমেছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশে নেমেছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও দুই এলাকাতেই উন্নতি হয়েছে। গ্রামে এ হার ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো তুলনামূলক বেশি। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, শ্রমজীবী মানুষের আয়ের গতি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। জুনে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার হয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় ১ শতাংশ কম থাকায় প্রকৃত আয় এখনো চাপে রয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে কৃষিতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ, শিল্পে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তিন ক্ষেত্রেই আগের মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে।

দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। বিবিএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্তরা/

লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশের বাজারে লবণের দাম বাড়লেও তার সুফল পাচ্ছেন না প্রান্তিক লবণচাষিরা। মাঠপর্যায়ের চাষিদের অভিযোগ–উৎপাদন খরচ বাড়লেও তারা লবণের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। মূলত বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে থাকা মধ্যস্বত্বভোগীরাই সিংহভাগ মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। ফলে কায়িক শ্রম দেওয়া উৎপাদক এবং সাধারণ ভোক্তার পরিশোধ করা দামের মধ্যে একটি বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। 

  • বাজারে লবণের দাম বাড়লেও প্রান্তিক লবণচাষিরা উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
  • সংরক্ষণ সুবিধা ও অর্থায়নের অভাবে মৌসুমে চাষিরা কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হন।
  • সমবায়ভিত্তিক বিপণন, স্বচ্ছ সরবরাহব্যবস্থা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা হলে লবণচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

লবণচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ চাষির পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা বা কার্যকর অর্থায়নের সুযোগ না থাকায় উৎপাদনের মৌসুমেই তাঁরা কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হন। পরে সেই লবণ বিভিন্ন হাত ঘুরে মিল, পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়েই দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়।     

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় লবণচাষিরা আরও অভিযোগ করেন, একসঙ্গে অনেক পরিমাণ লবণ উৎপাদিত হওয়ায় দাম কমে যায়। এ সময় সংরক্ষণ ব্যবস্থার অসুবিধা এবং পরবর্তী উৎপাদনের খরচ জোগাতে অনেক চাষি দ্রুত লবণ বিক্রি করেন। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা কম দামে লবণ কিনে মজুত করেন। পরে বাজারে সরবরাহ কমে এলে বেশি দামে তা বিক্রি করেন।

চকরিয়ার লবণচাষি মো. কামাল খবরের কাগজকে জানান, লবণ উৎপাদনের সময় প্রতি মণ লবণে খরচ হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।  কিন্তু সেই লবণ বিক্রির সময় ২৫০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। এভাবে প্রতি মণে আমাদের লোকসান হয়। প্রতিবছরই লোকসানের ঝুঁকিতে  থাকি।

তিনি আরও বলেন, আমরা লবণ উৎপাদনের খরচ অনুযায়ী দাম পাই না। এই ঘটনা নতুন নয়। মধ্যস্বত্বভোগীরা আমাদের কাছ থেকে  অপরিশোধিত লবণ কিনে মিল মালিকদের কাছে লাভে বিক্রি করেন। মিল মালিকরা এই লবণ পরিশোধন করে বাজারে কয়েকগুণ লাভে বিক্রি করেন। এভাবে মধ্যস্বত্বভোগী ও  মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে আমাদের ঠকিয়ে লাভ করে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বেশি দামে লবণ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।  

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লবণের দাম প্রতি কেজি গড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। ফ্রেশ, এসিআই, প্রাণ, তীর, মৌচাক ব্র্যান্ডের লবণ কেজি হিসেবে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪২ টাকায়।

আরেক লবণচাষি বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা গ্রামের মোহাম্মদ ছগির খবরের কাগজকে জানান, বর্তমানে আমাদের লবণের সিজন নেই। এ সময়ে আমরা কিছু দাম পাই, তবে সেটা আহামরি লাভ হয় না। বর্তমানে লবণ উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।  সিজনের সময় আরও কমে আমাদের থেকে লবণ ৪-৫ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হয়। সে হিসেবে আমাদের প্রতি মণ বিক্রি দাম দাঁড়ায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে। তাই আমাদের তেমন কোনো লাভ হয় না। বরং অনেক সময় লোকসান হয়। 

এদিকে, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহের একাধিক স্তর থাকায় প্রতিটি ধাপে মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি মুনাফাও যোগ হয়। তবে কোথায় কত মুনাফা হচ্ছে, সে হিসাব না থাকায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং এর সুযোগ নিয়ে থাকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।          

অন্যদিকে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য থাকলেও অনেক সময় কৃত্রিম সংকটের ধারণা তৈরি হয়। এতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ভোক্তারা বেশি দাম দিলেও সেই অর্থ লবণচাষি পর্যায়ে পৌঁছায় না।

ছানুয়া ইউনিয়নের লবণচাষি বোরহান উদ্দিন মিজান খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের আসলে এই কাজে লাভ কিছুই নেই। যা লাভ আসে তা সব যায় ব্যবসায়ীদের পকেটে। বছর দুয়েক আগেও আমাদের মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু এখন উৎপাদন খরচ যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হয়, সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি মিল মালিকদের থেকে দাম পাওয়া যায় না। বাজারে যেসব ব্র্যান্ডের লবণ পাওয়া যায়, সেগুলো দেখা যায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।  

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও  সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, কৃষিপণ্যের মতো লবণের ক্ষেত্রেও বাজারব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ করতে হবে। উৎপাদকদের সংগঠিত করে সমবায়ভিত্তিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, লবণের মতো পণ্যেও চাষিরা ঠকছেন। অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে মিলমালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। ক্রেতাদেরও বেশি দামে লবণ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সারাদেশে বছরে লবণের চাহিদা

শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিসিকের (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বার্ষিক লবণের মোট চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ ৩০ হাজার টন। এর মধ্যে খাবার (ভোজ্য) লবণ ও অন্যান্য খাতে লাগে প্রায় ১৬ লাখ টন এবং বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় (টেক্সটাইল, ডাইং, চামড়া ইত্যাদি) ব্যবহৃত হয় বাকি প্রায় ৯ লাখ টন।     

এদিকে, খাবার লবণের চাহিদা রয়েছে মোট চাহিদার বাকি ৫০ শতাংশ, যা প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। এগুলো মিলগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য রাখা হয়। তবে অপরিশোধিত লবণ ধুয়ে পরিষ্কার ও আয়োডিনযুক্ত করে যখন ভোজ্য লবণ বা প্যাকেটজাত খাবার লবণ তৈরি করা হয়, তখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কারণে এর ওজন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হয়। ফলে দেশের মানুষের বার্ষিক প্রকৃত খাবার লবণের ব্যবহার দাঁড়ায় প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন।

খাবার লবণ ছাড়াও ভারী শিল্প ও চামড়া সংরক্ষণ, বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় পশুর চামড়া কাঁচা রাখতে বছরে প্রায় ১ লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যেমন শুঁটকি উৎপাদন ও গবাদি পশুর খাদ্য তৈরিতে বাকি লবণ ব্যবহৃত হয়।  

সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে দুই বাজারেই বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ১৫৫টির এবং ৭১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৮৫টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৫টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৫টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। ৩টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকার। ২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ড্রাগন সোয়েটার, আইটি কনসালটেন্টস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক ও জেনেক্স ইনফোসিস।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৭৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৫টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৯৩টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট
জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো সম্প্রতি পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করে জাপান ফিরেছেন।

সফর শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও এ সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সফরকালে ড. তানাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এ ছাড়া পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ড. তানাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সফরের শুরুতে, তিনি ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত দশম বার্ষিক স্মরণসভায় অংশ নেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সফরকালে ড. তানাকা জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ জাপানের ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪ জুলাই তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জাইকার সহায়তায় পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার কেন্দ্র, ইউএনএইচসিআরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইওএম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

এ ছাড়াও শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও চলমান সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করেন তিনি।

একই দিনে, তিনি জাইকার অনুদান সহায়তায় নির্মাণাধীন কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়নাধীন মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সফরের শেষ দিনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

পাঁচ দিনের এ সফরে ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাইকার সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাঈম/