এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭। পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩। গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ; যা সব বোর্ড থেকে ভালো অবস্থানে আছে। ঢাকায় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সিলেটে সর্বনিম্ন পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এবারে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭৯৪। এর মধ্যে উত্তীর্ণ ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৫৩ জন, অর্থাৎ পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী ছাত্রী ছিল ১০ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩। এর মধ্যে উত্তীর্ণ ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০। অর্থাৎ পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ছাত্রীদের সঙ্গে পাসের হারে ছাত্ররা পিছিয়ে ছিল, অর্থাৎ ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ ব্যবধান কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
গত বছরের মতো এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ফলে এগিয়ে। ছাত্রীর সংখ্যাটাও ছিল অনেক বেশি। এটি নারীশিক্ষায় ইতিবাচক দিক। এরপর শুরু হয় মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় যুক্ত হওয়ার নানা চ্যালেঞ্জ। এ পর্বে সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে অনেক মেয়েই লেখাপড়ার পাট চুকাতে বাধ্য হয়। অনেক অভিভাবক এসএসসির পর তার কন্যাসন্তানকে পড়াতে চান না। বিয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়। অকালেই শিক্ষাপর্ব থেকে মেয়েরা এভাবেই ঝরে পড়ে। বর্তমান সময়ে এসেও এটি বেশি দেখা যায়; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সমাজের মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। দেশের অর্ধেকের বেশি নারী। তাই উচ্চশিক্ষায় দেশের নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তারাও দেশের উন্নয়ন-প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ঝরে পড়া রোধে এখন অনেকটাই সহায়ক হয়েছে। ফল অর্জনে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হয়।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক ইতিবাচক আন্তসম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে আগের তুলনায়। প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান কার্যক্রম ও অভিভাবকদের সচেতনতা শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমান রূপান্তরিত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনেক আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। অনেকে এই পদ্ধতিকে ইতিবাচকভাবে নিলেও কেউ কেউ এর ঘোর বিরোধিতা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন জরুরি ছিল। প্রথম প্রথম একটা নতুন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া তৈরি হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা সময় ধীরে ধীরে এই পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের নতুনভাবে তৈরি করতে পারবে। ভালো ফল যেমনটা কাম্য, ঠিক তেমনি বর্তমান প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করতে হবে। দেশপ্রেম থাকতে হবে প্রত্যেক নাগরিকের। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আজ অনেকটাই তা উপেক্ষিত। তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই ভালো ফলের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের ছাত্রছাত্রীদের মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিতে হবে।