বাংলাদেশের পোশাকশিল্প অনেক দূর এগিয়েছে। দেশের এই শিল্পটি তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি-বেসরকারি এবং সব অংশীজন এ লক্ষ্য অর্জনে দিনরাত পরিশ্রম করছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জ্যান জানোস্কি বলেন, টেকসই উৎপাদনে বিনিয়োগ করা শুধু একটি দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে জার্মানি ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে আরও মনোনিবেশ করতে হবে। সম্প্রতি রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ সার্কুলার ইকোনমি সামিট এ সম্পর্কে একটি সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে বক্তারা পোশাকশিল্প ও বস্ত্র খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। বাংলাদেশ বর্তমানে পোশাক খাতে সুতার জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০১৯ সালে দেশটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার টন সুতা আমদানি করে; যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে যদি দেশের সুতাবর্জ্য শতভাগ রিসাইকেল করা সম্ভব হয় তাহলে সুতা আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ কমে আসবে। এতে করে সুতা আমদানিতে ব্যয় হওয়া ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বাঁচাতে পারে।
দেশের তৈরি পোশাকের ব্যবহৃত সুতার বিকল্প উৎস হয়ে উঠতে পারে রিসাইক্লিং শিল্প। তুলাবর্জ্য রিসাইকেলের মাধ্যমে সুতা আমদানি ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে ৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ শিল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের সুতা আমদানি কমবে, তেমনি পরিবেশের ক্ষতি রোধ করাও সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।
তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০০টিরও বেশি সনদপ্রাপ্ত সবুজ পোশাক কারখানা রয়েছে এবং আরও ৫০০টি কারখানা সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ সার্কুলারিটি ও টেকসইয়ের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। পোশাক উদ্যোক্তারা টেকসই অনুশীলনগুলো গ্রহণ করছেন। তারা অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। এ খাতের স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে আরও কাজ করতে হবে। দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সার্কুলার ইকোনমির সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগাতে হবে। যা টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরও সহায়ক হবে। বাংলাদেশের সে ধরনের কর্মপরিবেশ রয়েছে। ব্যবসায়ী উদ্যোক্তরাও সেটাই ভাবছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ টেকসই ও সার্কুলারিটিতে শীর্ষস্থান অর্জনকারী হয়ে উঠবে।
সুতা আমদানি কমিয়ে আনতে হবে। দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে পোশাক ও বস্ত্র খাতের উন্নয়ন আশাব্যঞ্জক হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তৈরি পোশাক খাতের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত সরকারকে। দেশের পোশাকশিল্পে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ দেশের অনেক কারখানা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করছে। ভবিষ্যতে মান যেন আরও টেকসই হয় সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।