বেশ কিছুদিন হলো রাতে মহাসড়কে ডাকাত দল বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা নানা কায়দায় গাড়ির গতি রোধ করে যাত্রী ও চালকদের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। এসব ডাকাত দলে ভিড়ছে উঠতি বয়সীরা। পুরোনো ডাকাতরা উঠতি বয়সী অল্প শিক্ষিত বেকার বা অনটনের মধ্যে থাকা যুবকদের টার্গেট করে দলে অন্তর্ভুক্ত করছে বলে জানা যায়। পেশাদার ওই সব ডাকাত রাতে ভয়ানক অপকর্মে যুক্ত থাকলেও দিনের আলোয় তারা বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা বা কৃষিকাজে সম্পৃক্ত। স্থানীয় পর্যায়ে হয়তো অনেকে নিরীহ সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচিত। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, আন্তজেলা ডাকাতদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ লোকবল সরবরাহ বা রদবদলের মতো ঘটনা ঘটছে। বড় ধরনের ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের জন্য ভাড়ায় খাটছে ডাকাত দলের সদস্যরা।
মূলত যখন কোনো বড় ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়, তখনই বাড়তি শক্তির জন্য এক গ্রুপ থেকে আরেক গ্রুপে পেশাদার সদস্যদের যুক্ত করা হয়। পরে ডাকাতি বা ছিনতাই শেষ হলে তারা আবার ফিরে যায় নিজ দলে। গোয়েন্দা সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ওই সব পদ্ধতি প্রয়োগ করে দলে নিজেদের শক্তিসামর্থ্য বা তৎপরতার সক্ষমতা বাড়িয়েছে ডাকাত চক্রগুলো। দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্রের বেপরোয়া তৎপরতায় বর্তমানে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রাতের সড়ক-মহাসড়ক। রাত গভীর হলে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হানা দিচ্ছে সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনে। ডাকাতদের তৎপরতার কারণে রাতের সড়কে তীব্র আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে যাত্রী ও চালকদের। ডাকাতিতে বাধা দিলেই ঘটছে খুন-জখমের ঘটনা। ইতোমধ্যে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দুর্ধর্ষ ডাকাতদের তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ৫ মে রাত ২টার দিকে ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ষোলঘর এলাকায় মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রাস্তা ব্লক করে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, উঠতি বয়সী কিছু তরুণ রামদা, ছুরি, চাপাতি দিয়ে কাছাকাছি দূরত্বে দফায় দফায় গাড়ি আটকাতে চেষ্টা করে। পাথর বা ইট ছুড়ে গাড়ির ওপর আঘাত করার চেষ্টা করে। এ সময় চালক দ্রুতগতিতে জীবনে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি পেছন দিকে নিতে থাকেন। শেষমেশ রক্ষা পান চালক ও যাত্রীরা। রাতে এ রকম অহরহ ঘটনা ঘটছেই দেশের বিভিন্ন এলাকায়। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কে মাঝেমধ্যেই ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর রুটের কিছু এলাকায় এ ধরনের তৎপরতা বেশি। অনেক সময় টার্গেট করে ডাকাতি করা হচ্ছে। যদিও হাইওয়ে পুলিশ, র্যাব ও জেলা পুলিশ এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সড়কে নিরাপত্তা টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, ডাকাত-ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা শুধু মহাসড়কে নয়, তারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে থাকে। মূলত বিমানবন্দর এলাকায় একশ্রেণির গাড়িচালক হেলপার ও দালালরা (রেন্ট-এ-কার) ওই ডাকাত-ছিনতাইকারী চক্রকে প্রবাসীদের চলাচলের রুট, গাড়ি নম্বর, কালারসহ নানা তথ্য বলে দেয়। এরপর সে অনুসারে ওই রুটের বিভিন্ন পয়েন্টের দায়িত্ব পালন করা সিন্ডিকেটের সদস্যরা গাড়ির অবস্থান জানালে একপর্যায়ে হানা দেয়।
সামনে ঈদুল আজহা। এ সময় পশুবাহী যানবাহন রাতেই বেশি চলাচল করবে। এ ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ডাকাত চক্রকে ধরতে এবং ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে। চালকদের সচেতন করতে হাইওয়ে পুলিশকে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চালাতে হবে। হাইওয়ের প্রতিটি থানা বা ফাঁড়িতে টহল ডিউটি জরুরি মোবাইল ডিউটি ৯৯৯ সেবা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং রাতের মহাসড়কে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আশা করছি, সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।