সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে, এটি আশার কথা। পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে স্থাপন করা হচ্ছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাসহ নানা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।
আনুষ্ঠানিকভাবে শিগগিরই উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা গেলে দেশের মহাসড়কে একদিকে যেমন অপরাধপ্রবণতা কমবে তেমনি সুশৃঙ্খল হবে সড়কপথের যোগাযোগব্যবস্থা। এ পুরো ব্যবস্থাপনার মধ্যে হাইওয়ে পুলিশ মূলত মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়গুলো দেখভাল করবে।
এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওইসব সিসি ক্যামেরা স্থাপনসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে সারা দেশে মহাসড়কগুলো নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। সড়ক বা মহাসড়কে মাঝেমধ্যে যেভাবে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ঘটনা ঘটে, সেগুলো ওইসব প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পুরো মহাসড়কই থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। এ ছাড়া অপরাধীরাও অপরাধমূলক তৎপরতা চালানোর আগে চিন্তা করবে। তার পরও কোনো কারণে এ জাতীয় অপরাধে তারা পার পাবে না, ধরা পড়তে হবে। অন্যদিকে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা দেখা যায়, সে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি ঘটবে।
হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, এই বিশেষ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে এ মহাসড়কটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব অঞ্চলে মহাসড়কগুলো আনা হবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও চালু থাকবে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ (অটোফাইন্ডার) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মহাসড়কে চলাচল করা যেকোনো গাড়ির তাৎক্ষণিক গতি (৩০ সেকেন্ডের মধ্যকার), রেজিস্ট্রেশন নম্বর, লেন ও অবস্থান লোকেশন জানা যাবে। হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে।
মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে সড়ক অনেকটাই জনবান্ধব হবে বলে আশা করা যায়। অনেক চালক সড়কের নিয়মশৃঙ্খলা মানেন না, তাদের অদক্ষতার কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে টেকসই এবং সমন্বিত উদ্যোগ সরকারকে গ্রহণ করতে হবে। সড়কের সক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত গাড়ি, গাড়ির বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণে সড়কে নৈরাজ্য থামছেই না।
এ ছাড়া অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালক-পথচারীর অসচেতনতা, সড়ক নির্মাণের ত্রুটি এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝরছে বহু প্রাণ। তাই জাতীয় স্বার্থে সরকারের নেওয়া গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা নিশ্চতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীসচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।