বর্তমানে দেশে মার্বেল-গ্রানাইটের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি, শপিংমল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এর প্রসার ঘটেছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ খাতের সংশ্লিষ্টদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বর্তমানে বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিক্রেতারা জানান, তাদের প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ খাতে ১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। সারা দেশে ৪০০-এর মতো আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী এতে বিনিয়োগ করেছেন। গ্রানাইট মার্বেলপণ্য আমদানিনির্ভর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চলতি অর্থবছরে এসব পণ্যের ওপর আরও শুল্ক বাড়িয়েছে।
ফলে মার্বেল ও গ্রানাইট বিক্রি কমে গেছে। যা বিক্রি হয় তা দিয়ে প্রতিদিনের খরচও ওঠে না। ব্যাংকঋণের কিস্তি, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, গোডাউন ভাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মাসে লোকসান দিয়ে তারা ব্যবসা টিকিয়ে রাখছেন। গত জুলাই মাস থেকে অত্যধিক শুল্ক বাড়িয়েছে এনবিআর। আমদানি করা এ পণ্যে আগে যেখানে ২৫ শতাংশ শুল্ককর ছিল, বর্তমানে ৪৫ শতাংশ দিতে হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত শুল্কারোপের কারণে প্রতি বর্গফুটের দাম বেড়েছে ৭০ টাকা। বর্ধিত শুল্কের ফলে গ্রানাইট ও মার্বেলের বিক্রি কমেছে ব্যাপকভাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক কমালে এসব পণ্যের দাম কমবে এবং ক্রেতার কাছে সহজলভ্য হবে।
পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং নান্দনিকতার ছোঁয়া পেতে অনেক মানুষ এখন সেমিপাকা ঘরেও টাইলসের পরিবর্তে পাথরের ব্যবহার করছেন। মার্বেলের চেয়ে গ্রানাইট কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী। ব্যবসায়ীদের মতে, সরকার মনে করে এটা একটা বিলাসবহুল পণ্য। কিন্তু বাস্তবে এটা একটা প্রয়োজনীয় পণ্য। এ শিল্পের বিকাশ করতে গেলে সরকারকে ইজি ডিউটি সিস্টেম করতে হবে। সরকারি ভ্যাট-সংক্রান্ত ঝামেলা দূর করতে হবে। কাজেই ট্যারিফ ও ট্যাক্স কমালে দেশের মধ্যবিত্তরা এসব পণ্যের নাগাল পাবে। বর্তমানে এ খাতে ২৬টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক রয়েছেন।
দেশের অন্যান্য পণ্যের মতো মার্বেল ও গ্রানাইট বাজারও বর্তমানে করপোরেটদের দখলে। ২২টি করপোরেট গ্রুপ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করছেন। তাদের শুল্কও কম দিতে হচ্ছে। গত জুলাই থেকে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে ব্লক আমদানিতে ৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর ২২টি শিল্পগ্রুপের জন্য আগের মতো ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তাদের এআইটি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। আর আমদানিকারকদের ৫ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতে করে ছোট, বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
মার্বেল ও গ্রানাইট পাথরের ব্যবসায় মন্দাবস্থার কারণে ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকেই এলসি খোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া সরকারের উন্নয়নকাজও অনেক কমে গেছে। ফলে ব্যবসায় ভয়াবহ ধস নেমেছে। এ কারণে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ খাতকে গতিশীল করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ব্যবসায় সমতা আনতে হবে। একটি সুষম প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শুল্ক কাঠামো সহনীয় পর্যায়ে রেখে একটি সুষম প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি করতে পারলে বাংলাদেশে অচিরেই এ খাত সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে।