সুপ্রিয় ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের বাংলা প্রথম পত্রের ‘কবিতা: বিদ্রোহী’ থেকে আরও ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন: ‘আমি দলে যাই যত বন্ধন যত নিয়মকানুন শৃঙ্খল’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এ চরণে কবি পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ সরকারের দমন নিপীড়নমূলক আইনের বিরুদ্ধে তার স্পষ্ট অবস্থানকে ব্যক্ত করেছেন।
সভ্য মানুষ আইন মেনে চলবে সেটি-ই স্বাভাবিক। কিন্তু যে আইন সার্বভৌমত্ব এবং মানবাধিকার কেড়ে নেয়, সে আইন মান্য করা বিধেয় নয়।
ভারতবর্ষে পরাধীন ভারতবাসী ব্রিটিশ শোষণের অধীনে জর্জরিত হতে হতে বুঝতে পেরেছিল ওরা ভারতীয়দের গোলাম করে রেখেছে। সেই গোলামির বিরুদ্ধেই কাজী নজরুল ইসলাম তথাকথিত শাসকের আইন অমান্য করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন।
প্রশ্ন: ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এ চরণে কবি একই সঙ্গে প্রেম ও দ্রোহকে ধারণ করে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা এভাবে প্রকাশ করেছেন।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির বিদ্রোহ অর্থহীন আস্ফালন নয়। কবি নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্যই তার বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। স্বাধীন ভারতের প্রত্যাশায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সত্যের পথে কবির এ বিদ্রোহ। তাই সত্য-ন্যায়-স্বাধীনতা যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন আবার কবি মানব প্রেমের বাঁশির সুরে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানবিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে বলবেন। তখন আর দ্রোহ নয়, বিশৃঙ্খলা নয় প্রেম ও মুক্তির উদ্দীপনায় স্বাধীন মানুষ নতুন জীবন পাবে।
প্রশ্ন: ‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এ চরণে কবি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ যেকোনো অপশক্তির সামনে মাথা নত করে না, সে প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।
পরাধীন ভারতবর্ষে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বড় অভাব ছিল আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার ইচ্ছা। ব্রিটিশ রাজশক্তির সামনে নত হতে হতে ভারতীয়রা তাদের ব্যক্তিত্ববোধকে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছিল। তাই কবি ব্যক্তিত্ববোধের জাগরণ চেয়েছেন, যেন দুর্বলরা অত্যাচারী শোষকের সামনে মাথা নত করে নিজের মর্যাদাকে বিসর্জন না দেয়।
প্রশ্ন: আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া! - ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এ চরণে কবি বিশ্বের সব নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য তার বিদ্রোহের বাণীকে ছড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি যে কেবল পরাধীন ভারতের মুক্তি চেয়েছেন তা নয়; বরং কবি দুনিয়ার সব নিপীড়িত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত পরাধীন মানুষের মুক্তিও চেয়েছেন। বিশ্ব-সচেতন দৃষ্টিভঙ্গিতে কবি বিশ্ব-মানবতার বিপ্লবের বাহক হয়ে উঠেছেন। যেখানেই পরাধীনতা ও শৃঙ্খল রয়েছে সেখানেই কবি বিদ্রোহের মাধ্যমে শোষিত মানুষের মুক্তি আদায়ের কথা বলেছেন।
প্রশ্ন: ‘আমি সেই দিন হব শান্ত’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এ চরণে কবি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হলেই যে এ বিদ্রোহের অবসান ঘটবে সে প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন।
বিদ্রোহ-যুদ্ধ-সংঘাত-নৈরাজ্য কবির কাম্য নয়। পৃথিবীতে যারা দুর্বলের ওপর শোষণ চালিয়ে পৃথিবীকে বসবাস অযোগ্য করে তুলেছে কবির বিদ্রোহ তাদের বিরুদ্ধে। তাই কবির বিদ্রোহ সেদিনই শেষ হবে যখন পৃথিবীতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আসলে মানুষের সংগ্রামশীলতা যেন শেষ না হয়, কবি তা চেয়েছেন মানবমুক্তির জন্যই। মানুষের পৃথিবীতে যারা মানুষের দেবতা সেজে শোষণ চালাবে তাদের বিরুদ্ধে এ পৃথিবীতে কখনোই বিদ্রোহ শেষ হবে না।
লেখক: প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কলি